BJP defeats in Bengal: ৭৭-এই থামল রথ, কেন বিজেপির বঙ্গবিজয় অধরাই রয়ে গেল?

মোদির শত চেষ্টাতেও কিস্তিমাত মমতারই। বাংলায় ধরাশায়ী বিজেপি। কেন?

কেন এই ব্যর্থতা? পর্যবেক্ষকরা এই ছয় কারণ তুলে ধরছেন-

  • Share this:

    #কলকাতা: তৃতীয় ইনিংস শুরু করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধুয়েমুছে সাফ বামেরা। বিরোধী হিসেবে রইল লোকসভার থেকে অনেকটাই দুর্বল বিজেপি। যে দল শেষ দফা ভোট পর্যন্ত বলেছি ২০০ আসন পাবেই তাদের রথ কেন আটকালো ৭৭ এ? কেন এই ব্যর্থতা? পর্যবেক্ষকরা এই ছয় কারণ তুলে ধরছেন-

    করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ

    করোনার মধ্যেও প্রচারে যে জোয়ার তা মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। প্রশ্ন উঠতে থাকে, যারা করোনা মোকাবিলা না করে প্রচারে এত অসাবধানী হচ্ছেন তারা কী ভাবে বাঙালিকে সুশাসন উপহার দেবে। এর প্রভাব পড়তে থাকে ব্যালটবাক্সে। দেখা যায় নির্বাচন যত এগিয়েছে বিজেপির ভোট শতাংশ তত কমেছে। শেষ দুই দফায় (ততদিনে দেশের অবস্থা যথেষ্ট হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে) বিজেপির ৩২ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পেয়েছে। তৃণমূলের সঙ্গে ভোট শতাংশের পার্থক্য প্রায় ২০ শতাংশ ছিল। এক কথায় বললে, বাংলার মানুষ ভেবেছে বিজপি ক্ষমতাদখলেই বেশি মরিয়া।

    বহিরাগত তত্ত্ব

    ১৫০টির বেশি উড়ান ভাড়া করে বিজেপির সর্বভারতীয় স্তরের নেতারা বাংলায় এই পর্যায়ে নিয়মিত এসেছেন গিয়েছেন। এই নেতারা অতীতে যে বাংলায় নিয়মিত আসা যাওয়া করেছেন এমন নয়, বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁরা যে খুব একটা সম্পৃক্ত নন তাও বোঝা গিয়েছে সহজেই । করোনা পর্বে তাদের ঘন ঘন আসা যাওয়া বাঙালি ভালো ভাবে নেয়নি। তৃণমূল সহজেই এই আসা যাওয়াকে বহিরাগতের যাতায়াত বলে চিহ্নিত করতে পেরেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে নরেন্দ্র মোদির বাঁকা কথা বাংলার সাধারণ মহিলারা খুব ভালো ভাবে নেয়নি। এর ফল দেখা গিয়েছে ভোটবাক্সে।

    দলত্যাগীদের মানুষ বিশ্বাসই করেনি

    অন্তত ৪৬ জন দলত্যাগী বিজেপিতে গিয়েছিল ঠিক ভোটের মুখে। শুধুমাত্র মিহির গোস্বামী নির্বাচনে জিতেছেন। জিতেছেন মুকুল রায়ও, কিন্তু তিনি বহু আগেই তৃণমূলের সঙ্গে গাঁটছড়া ছিন্ন করেছেন। শুভেন্দু অধিকারীর জয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বাকি কেউই সে ভাবে দাগ কাটতে পারেনি।

    সরকারি প্রকল্প

    বিজেপি তৃণমূলের দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে আক্রমণে নেমেছিল। কিন্তু স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্প বা দিদিকে বলো, দুয়ারে সরকারের মতো পরিষেবার সামনে দুর্নীতির অভিযোগ ধোপে টেকেনি। স্বাস্থ্যসাথীও একরকম ভাবে মহিলাদের ক্ষমতায়ন করেছে। কারণ এই কার্ডের গ্রাহক হন মূলত বাড়ির মহিলারা। এছাড়াও দুয়ারে রেশনের মতো প্রকল্পের প্রতিশ্রুতিই তৃণমূলকে জনগণেশের ভোট-ভেট পাইয়ে দিয়েছে।

    জয় শ্রীরাম

    বাঙালির শ্রীরামের সঙ্গে কোনও বিরোধিতা নেই। কিন্তু যে ভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে এই জয় শ্রীরাম স্লোগানের রাজনীতিকরণ ঘটছিল তা অনেকেই ভালো ভাবে নেয়নি, এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    মুখ মুখোশ

    নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহরা এই ভোটের প্রচারে বারবার বাংলায় এসেছেন। কিন্তু কখনওই পরিস্কার করে বলেননি তাদের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ কে। মোদি-শাহ বাংলায় মুখ্যমন্ত্রীত্ব করবেন না, তা তো জানা কথাই। ব্র্যান্ড বুদ্ধ, ব্র্যান্ড মমতা এগুলি যে ভাবে বাঙালির মর্মে প্রবেশ করেছে তেমনটা তৈরি করতে পারেনি বিজেপি, শুধু ভূমিপুত্রই মুখ্যমন্ত্রী হবে বলে জল্পনা চাপা দিয়ে রেখেছে। গ্রহণযোগ্যতা তৈরি না হওয়ার বড় কারণ এটি।

    Published by:Arka Deb
    First published: