আলো দেখাচ্ছে 'আম্মা', সারা বছর ৫ টাকায় ডিম-ভাত মমতার শহরজয়ের ব্রক্ষ্মাস্ত্র

পাঁচ টাকায় পেট ভরে খাবে দরিদ্র মানুষ-আশ্বাস মমতার। ফাইল চিত্র

মনে করা হচ্ছে, শহরের পিছিয়ে পড়া দরিদ্র মানুষকে পেট ভরে খাবার পাওযার ভরসা দেবে এই ক্যান্টিন। আর এই আশ্বাসেj ফল মিলবে ব্যালট বক্সে।

  • Share this:

    #কলকাতা: ভোটের মুখে শহরের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া ভোটারদের কাছে টানতে নতুন প্রকল্প এনেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। নামমাত্র দামে শহরবাসীকে ভরপেট খাবার খাওয়াতে নতুন এই কর্মসূচি নিয়ে আসে কলকাতা পুরসভা। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কলকাতা পুরসভা এই ‘মায়ের রান্নাঘর’ নামক এই কর্মসূচি চালু করেছিল। এর ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে আসতে চলেছে আরও বড় চমক। তৃণমূল কংগ্রেসের ইস্তেহারে বলা হয়েছে, রাজ্যের ৫০টি শহরে ২৫০০ 'মা' ক্যান্টিন চালু হচ্ছে। যার জন্যে বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেবে রাজ্য সরকার। মনে করা হচ্ছে, শহরের পিছিয়ে পড়া দরিদ্র মানুষকে  পেট ভরে খাবার পাওযার ভরসা দেবে এই ক্যান্টিন। আর আশ্বাসেই ফল মিলবে ব্যালট বক্সে।

    এই কর্মসূচিতে গত ১২ ফ্রেব্রুয়ারি থেকেই ৫ টাকার বিনিময়ে সুলভে পুষ্টিকর খবার পাওয়া যাচ্ছিল। কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডেই এই সুবিধা দেওয়ার কাজ প্রাথমিক ভাবে শুরু করে রাজ্য সরকার। অভিনব এই পরিকল্পনায় সাড়া মেলে অভূতপূর্ব।

    দক্ষিণী নেত্রী জয়ললিতা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা আম্মা ক্যান্টিন নামে সস্তার ভোজনালয় চালু করেছিলেন রাজ্য জুড়ে। সেই প্রকল্পের জনপ্রিয়তা মিথের পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ভোটমুখী বাংলায় রুজির তাগিদে বা বিভিন্ন প্রয়োজনে রোজ দূরদূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র মানুষের মন জয় করতে এই একই মডেল অনুসরণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আবার উঠে আসছে বামেদের শ্রমজীবী ক্যান্টিনের কথাও। অনেকেই বলছেন ওই মডেলটিকেই অনুসরণ করেই নীচুতলার মন পড়তে চাইছেন মমতা।

    ইতিমধ্যেই ৫ টাকা দিয়ে সাধারণ মানুষ  পুরসভার ‘মায়ের রান্নাঘর’ থেকে খাবার সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। মেনুতে থাকছে ২০০ গ্রাম চালের ভাত, সঙ্গে থাকছে ডাল, তরকারি ও ডিম। অর্থাৎ পেটও ভরবে, পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুষ্টিও থাকবে আহারে।

    গত ফ্রেব্রুয়ারি থেকে কলকাতা পুরসভার ১৬ টি বরোর তিনটি করে জায়গায় অর্থাৎ মোট ৪৮ টি জায়গায় এই কর্মসূচির সূচনা হয়ে গিয়েছে।  ক্রমশ ধাপে ধাপে শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ডে তা চালু হয়ে যাচ্ছে৷

    মনে রাখতে হবে বিধানসভা ভোটের পাশাপাশিই কলকাতা পুরসভা নির্বাচনও হওয়ার কথা মে মাসেই। ফলে ‘মায়ের রান্নাঘর’ সমর্থনের দরজা খুলবে বলেই আশা করছে শাসক শিবির।লকডাউনের সময়েও বিভিন্ন জায়গায় সস্তায় রান্না খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করতে সরকারি উদ্যোগ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তাই এবার ওই উদ্যোগকে পাকাপাকি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই নতুন প্রকল্পের উদ্দেস্যে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। সেই কারণেই তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহারে জনতার সামনে নিয়ে আসা হল এই 'মায়ের রান্নাঘর' প্রকল্প।

    Published by:Arka Deb
    First published: