• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • কলকাতা বন্দরে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ৩ জন, চিন্তায় বন্দরের আধিকারিকরা    

কলকাতা বন্দরে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ৩ জন, চিন্তায় বন্দরের আধিকারিকরা    

পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য গোটা বন্দর জুড়ে ২৪ ঘন্টাই স্যানিটাইজেশনের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য গোটা বন্দর জুড়ে ২৪ ঘন্টাই স্যানিটাইজেশনের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য গোটা বন্দর জুড়ে ২৪ ঘন্টাই স্যানিটাইজেশনের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

  • Share this:

#কলকাতা: গত সাতদিনের মধ্যে করোনা পজিটিভ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর বা কলকাতা বন্দরের তিন জন। তার মধ্যে একজন সি আই এস এফ জওয়ান। বাকি দুই আক্রান্তদের মধ্যে একজন কলকাতা বন্দরের স্থায়ী কর্মী, একজন ঠিকাদার সংস্থার কর্মী। কলকাতা বন্দরের ৩ জনের নতুন করে করোনা আক্রান্ত হওয়ায় খবর মেলায় চিন্তায় কলকাতা বন্দরের আধিকারিকরা। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য গোটা বন্দর জুড়ে ২৪ ঘন্টাই স্যানিটাইজেশনের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গত শনিবার কলকাতা বন্দর এক বিবৃতিতে জানায় ঠিকাদার সংস্থার এক কর্মীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসায় তাকে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। বন্দর উল্লেখ করেছিল, গত মাসের ২৪ তারিখ ওই ব্যক্তি দিল্লি থেকে হলদিয়ায় আসা এক ব্যক্তির করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। দিল্লির যে জায়গা থেকে তিনি ফেরেন সেখানে একাধিক লোকের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। সেটা যদিও ছিল হলদিয়ায়। সেই অবস্থায় বন্দরের যারা ঠিকা কর্মী ছিলেন তারা বন্দরে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ফলে বন্দরের কাজ শিকেয় উঠেছিল। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয় বন্দরকে। ইতিমধ্যেই বন্দরে অত্যাবশকীয় পণ্য ওঠানো নামানোর কাজ করছে। বিশেষ করে এলপিজি, পেট্রোলিয়াম, কয়লা, ন্যাপথার মতো নানান জিনিষ ওঠা-নামা করে হলদিয়া বন্দর থেকেই। কলকাতা বন্দরেও মুলত আকরিক, খাদ্যশস্য সহ নানা জিনিষ ওঠানামা করছে। ফলে বন্দরের দুই অংশে যারা কাজ করেন তারা যদি না আসেন তাহলে বন্দরের স্বাভাবিক কাজ চালানো মুশকিল হয়ে পড়বে।

বন্দরের কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখতে ইউনিয়ন, কর্মী সংগঠন, ঠিকাদার সংস্থা, ব্যবসায়ী ও ক্রু'দের নিয়ে বৈঠক সেরেছেন বন্দর চেয়ারম্যান বিনীত কুমার। ইতিমধ্যেই তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন, বন্দর কাজ করার জন্য নিরাপদ। হলদিয়া ও কলকাতা ডক সিস্টেম স্বাভাবিক রাখতে সমস্ত ধরণের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, "বিভিন্ন জায়গা স্যানিটাইজেশনের কাজ চলছে। গ্লাভস, মাস্ক সহ সমস্ত ধরণের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে যথাযথ পরীক্ষা করেই কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সেই পরীক্ষা বন্দরও করছে।" ইতিমধ্যেই কলকাতা বন্দরে বারো স্যানিটাইজেশন মেশিন ও ৪ দমকল দিয়ে স্যানিটাইজেশনের কাজ করানো হচ্ছে। প্রয়োজনে আরো মেশিন এনে স্যানিটাইজেশন করানো হবে বলে জানিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান।

লকডাউন ঘোষণার পরেও গত এক মাস ধরে হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরে জাহাজ আসা বন্ধ হয়নি। গড়ে প্রতি সপ্তাহে ১১টি জাহাজ এসেছে ও ৯ টি জাহাজ বন্দর ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। প্রতিদিন এই কাজ করতে গিয়ে যাতে স্বাস্থ্য সচেতনতার কোনও ফাঁক না থাকে সে বিষয়ে নজরদারি রাখছে বন্দর। বিশেষ করে কোনও জাহাজ বন্দরে আসলে তাদের যারা ক্রু রয়েছেন তাদের বিষয়ে। কোনও নাবিককেই বন্দরে নামার অনুমতি এখনও দেওয়া হয়নি। অন্য রাজ্য থেকে আসা কারও মারফত যাতে বন্দরে সংক্রমণ না ছড়ায় সেটিও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্যান্টিন, সুপারভাইজার অফিসের মতো এলাকা। তবে কলকাতা বন্দরে এক সপ্তাহের মধ্যে তিন জনের করোনা পজিটিভ আসায় চিন্তিত বন্দর সংস্থা। কলকাতা বন্দরের খিদিরপুর ডক ও নেতাজী সুভাষ ডক স্যানিটাইজেশন চলছে। স্যানিটাইজেশন করা হচ্ছে বন্দরের সমস্ত অফিস। বন্দরে ঢোকা বা বেরনোর পথে রয়েছে স্যানিটাইজেশন চ্যানেল। সেখান দিয়ে স্যানিটাইজ হয়েই বন্দরে ঢুকতে হচ্ছে। তবুও করোনা সংক্রমণের খবর মেলায় চিন্তায় বন্দর। তবে তারা আশাবাদী এর প্রভাব জাহাজ চলাচলে বা পণ্য ওঠানো নামানোর কাজে পড়বে না।

ABIR GHOSHAL

Published by:Ananya Chakraborty
First published: