ভুল তদন্তের খেসারত দিল বীরভূম পুলিশ, হাইকোর্টে খুনে বেকসুর খালাস ৩  

ভুল তদন্তের খেসারত দিল বীরভূম পুলিশ, হাইকোর্টে খুনে বেকসুর খালাস ৩  
File Photo

২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ খুনের মামলার রায় ঘোষণা করে বোলপুর দায়রা বিচারক সিদ্ধার্থ চৌধুরী। ৩জনকেই খুনে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদ?

  • Share this:

#কলকাতা: খুনের আসামী ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল বোলপুর আদালত। সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট ৩ জনকেই বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছে। যার নীটফল দাঁড়ালো খুন ১ খুনি ০। সোমবারের আগে পর্যন্ত খাতায় কলমে খুনি ছিল ৩। বীরভূমের নানুর থানার তদন্তে একাধিক প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে এদিন হাইকোর্ট। তদন্তে কীভাবে নথি বাজেয়াপ্ত হবে, তার পরামর্শও দিয়েছে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ। নানুরের পাতিসারা গ্রামে প্রভাত মাঝি খুন হন ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫। ওইদিন বিকেলে স্থানীয় জলাশয়ে মেলে প্রভাত মাঝির দেহ। পরিবারের তরফে বেনুকর মাঝি পুলিশে অভিযোগ করেন খুনের। ভোর ৪টে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোনোর পর বিকেলে দেহ। এলাকারই জগবন্ধু মেটে, দীলিপ ধীবর এবং উত্তম ধীবর। ৩ জনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ খুনের মামলার রায় ঘোষণা করেন বোলপুর দায়রা বিচারক সিদ্ধার্থ চৌধুরী। ৩ জনকেই খুনে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা নির্দেশ দেয় আদালত।

রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আপিল মামলা করেন আসামীরা। প্রায় ৩ বছর পর সোমবার আপিল মামলার নিষ্পত্তি হয়। তাতে তদন্ত নিয়ে একাধিক ফাঁকফোকর সামনে নিয়ে আসে ডিভিশন বেঞ্চ। আসামীদের আইনজীবী কল্লোল মন্ডলের কথায়, " তদন্তে পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণাদি শৃংখল বিভিন্ন মুহূর্তে খেই হারিয়েছে । খুনে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার হয়েছে খোলা জায়গা থেকে। রক্তের কোনও দাগ ছিলো কিনা তার স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই চার্জশিটে । সাক্ষীদের বয়ানও পরস্পরবিরোধী।" ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, এভিডেন্স অ্যাক্ট মেনে সিজার লিস্ট তৈরি হয়নি। এদিন তাই হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে ৩ আসামীকেই বেকসুর ঘোষণা করেছে। বিচারই দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ খাটেনা নানুরের এই ঘটনায়। শুধুমাত্র পুলিশের দায়সারা গোছের তদন্তই এক্ষেত্রে মান ডোবালো বীরভূম জেলা পুলিশের।

ARNAB HAZRA

First published: January 27, 2020, 10:59 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर