• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • 21 JULY WILL MAMATA BANERJEE CARRY FORWARD HER SPIRIT AND EXPERIENCE OF 28 YEARS BATTLE TO DELHI NOW AKD

21 July| TMC Shahid Diwas: ২১ মানে শহিদের স্মৃতি থেকে শিক্ষা নেওয়া এক কালোঘোড়ার আজীবনের দৌড়

২১ জুলাই মমতার স্মৃতিতর্পণ, পাশাপাশি ঘোড়া ছোটানোর দিন।

21 July| TMC Shahid Diwas:আজকের দিনটি তৃণমূল সমর্থকদের কাছেও অনন্য।

  • Share this:

#কলকাতা: আজ একুশে জুলাই (21 July|)। পক্ষ-বিপক্ষ সবার চোখ ২১ এর মঞ্চে (TMC Shahid Diwas)। মমতা কি আজি নতুন লক্ষ্যমাত্রার কথা বলবেন বেঁধে দেবেন ২০২৪-এর মূল সুর, এই নিয়েই রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে। বিজেপির দুশো আসন জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে যে ভাবে তৃতীয় বার মসনদে বসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই ছন্দ তুমুল আত্মবিশ্বাস দিয়েছে তৃণমূলকে। তাই আজকের দিনটি তৃণমূল সমর্থকদের কাছেও অনন্য।

কেউ বলে ২১ মানে তারুণ্য, কেউ বলে ২১ মানে এক অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। রাজনীতির ময়দানে, তা সে বাংলা হোক বা দিল্লি, যারা মসনদে এসেছেন, তাদের আসনের অনেকটাই পাওয়া উত্তরাধিকার অথবা সম্পর্ক সূত্রে। স্মরণ করা যেতে পারে ইন্দিরা গান্ধী থেকে জয়ললিতার কথা। কিন্তু ১৯৯৩ সালে যে সময়টায় মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান শুরু হয়,  কালীঘাটের যোগমায়া দেবী কলেজের  ছাত্রীটি সেদিন শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন। পরিবারের কেউ রাজনীতিতে ছিল না, কোনও নেতার স্নেহধন্যা ছিলেন না। কিছু নিয়েই নিয়ে রাজনীতির রণাঙ্গনে আসেননি তিনি। এসেছিলেন শুধু তারুণ্যের স্পিরিটটুকু নিয়ে। সেই স্পিরিট নিয়েই আজ তিনি সর্বভারতীয় মঞ্চে ঘোড়া ছোটাতে প্রস্তুত হচ্ছেন।

কেমন ছিল অগ্নিগর্ভ সেই ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই। ফিরে দেখা যাক। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুব কংগ্রেসের সভাপতি। সচিত্র ভোটার কার্ডের দাবিতে কংগ্রেস নেত্রীর ডাকে মহাকরণ অভিযান হয়। ওই অভিযানে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৩ জনের প্রাণ যায়।

তৎকালীন সরকারের বক্তব্য ছিল, চারদিক থেকে মহাকরণ ঘিরতে চাইছিল তৃণমূল সমর্থকরা। এ  হেন ঘেরাওয়ের বিরোধিতা করতেই গুলিচালনা। সেদিনের ঘটনার সাক্ষী মদন মিত্র, সুব্রত বক্সী, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিলক্ষণ জানেন, সেদিন প্রাণ যেতে পারত তৃণমূল নেত্রীর। তবু তিনি পিছপা হননি। সুব্রত মুখোপাধ্যায় আর কথায়, "ও বরাবর ডানপিটে ছিল। আমরা সব আন্দোলনেই ওকে নিয়ে যেতাম। তাই আজও ওঁর থেকেই প্রতি বছর তারুণ্যের মন্ত্র শিখতে আসে হাজার হাজার কর্মীরা।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিন যখন মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুলিশের গুলি চলার সম্ভাবনা তৈরি হতেই সেদিন মমতার নিরাপত্তারক্ষী সার্ভিস রিভলবারটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তারপর গঙ্গা দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গিয়েছে। তবে ওই দিনে ১৩ জনের মৃত্যুকে কখনও ভোলেনি তৃণমূল। শহিদ দিবস যেন তৃণমূল কর্মীদের কাছে সেই স্মৃতিস্মরণ আর পাশাপাশি উজ্জীবনের মন্ত্র। এই একুশে জুলাই মমতাকে ছোট চারা গাছ থেকে বনস্পতিতে পরিণত করেছে। একুশের অনুপ্রেরণা থেকেই মমতা সাহস পেয়েছেন সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের মতো বড় আন্দোলনকে সামনে থেকে পরিচালনা করার। দলীয় কর্মীরা তাই বলেন, হার না মানার স্পিরিট মানেই তিনি।। আর সেই শ্রমের ফসলই আসে ২০১১ সালে। মুখ্যমন্ত্রী হলেন মমতা।

তারপরেও অবশ্য লড়াই থেমে থাকেনি। লড়াই ছিলই অবিরত। তবে সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধটা তাঁকে করতে হল ২০২১ সালে। ভাঙা পায়ে গোটা বাংলা ঘুরে মমতা প্রতিটি তৃণমূল কর্মীকে যেন সেই একুশের তারুণ্যই মনে করিয়ে দিলেন তিনি। এবং এবারেও তাঁর নিশানা অব্যর্থ। বারবার তিনবার, হ্যাট্রিক করলেন মমতা। আর সেদিনের উদ্ধত সিপিএম বিধানসভা থেকে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে আজ।  ২০০ আসনের দামামা বাজানো বিজেপিও অনেকটাই ভূপতিত আজ। আর তৃণমূল নেত্রী আজও নিজে যেন একুশের দামাল তরুণী। তাঁর লক্ষ্য এবার আরও অনেক বড়। আর হয়ত এই২১ জুলাইকে সাক্ষী রেখে তিনি সেই ঘোড়দৌঁড়ে সওয়ার হবেন। মমতাকে যাঁরা চেনেন তাঁরা জানেন তিনি আসলে কালো ঘোড়া। চোখ দুটো বাঁধা, লক্ষ্যে অবিচল।

Published by:Arka Deb
First published: