Home /News /kolkata /
Kolkata Forensic Expert|| মাছির কামড়ে চিড়িয়াখানায় বাঘের মৃত্যু! কীভাবে জট খুলেছিলেন ষষ্ঠী চৌধুরী? শতবর্ষে অজানা গল্প...

Kolkata Forensic Expert|| মাছির কামড়ে চিড়িয়াখানায় বাঘের মৃত্যু! কীভাবে জট খুলেছিলেন ষষ্ঠী চৌধুরী? শতবর্ষে অজানা গল্প...

ফরেন্সিক সায়েন্স বিশেষজ্ঞ ডক্টর ষষ্ঠী চৌধুরী।

ফরেন্সিক সায়েন্স বিশেষজ্ঞ ডক্টর ষষ্ঠী চৌধুরী।

Forensic Science Expert Shasthi Chowdhury: দীর্ঘ বছরের জীবনে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ফরেন্সিক সায়েন্স বিশেষজ্ঞ ডক্টর ষষ্ঠী চৌধুরী নিজেকে নিয়োজিত করে রেখেছিলেন ফরেন্সিক সায়েন্সের কর্মযুদ্ধে।

  • Share this:

#কলকাতা: সালটা ১৯৬৪, বারাণসীতে আরএসএস নেতা দীণদয়াল উপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু। দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দেওয়া এই রহস্যের কিনারা করতে সাহায্য নেওয়া হয় ফরেন্সিক সায়েন্সের। আর সেই কাজ দক্ষতার সঙ্গে করে দেখিয়েছিলেন তৎকালীন ফরেন্সিক সায়েন্স বিশেষজ্ঞ ডক্টর ষষ্ঠী চৌধুরী। যিনি গত সোমবার ৯৯ সম্পূর্ণ করে পা দিলেন শতবর্ষে।

দীর্ঘ বছরের জীবনে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ফরেন্সিক সায়েন্স বিশেষজ্ঞ ডক্টর ষষ্ঠী চৌধুরী নিজেকে নিয়োজিত করে রেখেছিলেন ফরেন্সিক সায়েন্সের কর্মযুদ্ধে। কখনও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ, কখনও সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ও সর্বোপরি কর্মজীবনের ১৯৬৮ থেকে ১৯৮০ স্টেট ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবের ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন বাঙালির এই ‘ফরেন্সিক’ ম্যান। কর্মজীবনে বেলারানি খুনের কিনারা করতে সাহায্য করেছিলেন। তাঁর কর্মজীবনে রয়েছে সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ডে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করার নজিরও।

জন্মদিনে ষষ্ঠী চৌধুরী। ১০০ বছরের জন্মদিনে ষষ্ঠী চৌধুরী।

আরও পড়ুন: টিভি দেখার সময়ে আচমকাই জ্বালাপোড়া শরীরে, কিছুক্ষণের মধ্যেই ছোট্ট পড়ুয়ার মৃত্যু! কী হয়েছিল?

বর্ষীয়ান এই বিশেষজ্ঞের ছেলে সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, "আলিপুর চিড়িয়াখানায় এক বাঘের মৃত্যুর কিনারায় বাবা কাজ করেছিলেন। সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, হঠাৎ চিড়িয়াখানায় বাঘের মৃত্যু হয়। সেই মৃত্যুর কারণ খুঁজতে গিয়ে বাবা পেয়েছিলেন এক প্রজাতির মাছি, যার কামড়ে মৃত্যু হয়েছিল বাঘের। কিন্তু ওই প্রজাতির মাছি কলকাতায় পাওয়া যেত না। তদন্তে উঠে এসেছিল সেই সময় চিড়িয়াখানার কোনও এক কর্তা রাজস্থানে কোনও সেমিনারে যোগ দিয়েছিলেন। কোনও ভাবে তার ব্যাগের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল মাছি। তা এসে পড়ে কলকাতায়।" এমনই অনেক সমাধান যেমন আছে ডক্টর ষষ্ঠী রায়ের ঝুলিতে, তেমন রয়েছে পুরস্কার ও সম্মাননাও।

বাংলাদেশ সরকার বিশ্ববাংলা সম্মেলনে ডক্টর বিধানচন্দ্র রায় অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে তাঁকে। ফরেন্সিক সায়েন্সে কাজের জন্য ভারত সরকার তাঁকে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মানে ভূষিত করেছেন। এমন নানান অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সদ্য সেঞ্চুরিতে পা রাখা ডক্টর ষষ্ঠী চৌধুরী। ছেলে জানিয়েছেন, জন্মদিন পালনের দু-সপ্তাহ আগে থেকে নিজেই লিখে ফেলেছেন তাঁর ব্যক্তিগত ও কর্মীজীবনের ছোট কাহিনী। যা জন্মদিনের স্পিচ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।

১৯২৩ সালের ২০ জুন তৎকালীন বাংলাদেশের রংপুরের ধাপেরহাট গ্রামে জন্ম। গ্রামের স্কুলে পঠনপাঠন শুরু। তারপর রংপুর কেমিক্যাল কলেজ থেকে বিজ্ঞাণে স্নাতক। তারপর ১৯৪৯ আরজিকর থেকে এমবিবিএস পাস করে ফের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি মাইক্রো বায়োলজিতে। এরপর ফরেন্সিক সায়েন্স এক্সপার্ট হিসাবে কর্মজীবনের শুরু। এই জীবনে নিজেকে আরও ভালও করে তুলে ধরার জন্য গিয়েছেন বিদেশেও। শিখেছেন, প্রয়োগ করেছেন তাঁর কাজে। তাই স্বাধীনতার বছর ২৪ আগে জন্ম নিলেও কম্পিউটার যুগেও কাজ করে গিয়েছেন বহাল তবিয়তে।

Amit Sarkar

Published by:Shubhagata Dey
First published:

Tags: Kolkata

পরবর্তী খবর