‘সহজ কঠিন ভাবিনি, শুধু ভালো ছবি বানাতে চেয়েছি ’, পরিচালক মানস মুকুলের এটাই ‘সহজপাঠ’ !

যখন স্ক্রিন জুড়ে ছোটবেলার দেখা স্বপ্ন পর পর চলতে থাকে, তাকেই হয়তো বলে সহজ পাঠের গপ্পো ৷ যখন সিনেমার পর্দায় ইমেজে ইমেজে ইনোসেন্স ছড়িয়ে পড়ে, তাকেই হয়তো বলে সহজ পাঠের গপ্পো ৷

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Oct 09, 2017 02:27 PM IST
‘সহজ কঠিন ভাবিনি, শুধু ভালো ছবি বানাতে চেয়েছি ’, পরিচালক মানস মুকুলের এটাই ‘সহজপাঠ’ !
Sahoj Pather Goppo
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Oct 09, 2017 02:27 PM IST

#কলকাতা: যখন স্ক্রিন জুড়ে ছোটবেলার দেখা স্বপ্ন পর পর চলতে থাকে, তাকেই হয়তো বলে সহজ পাঠের গপ্পো ৷ যখন সিনেমার পর্দায় ইমেজে ইমেজে ইনোসেন্স ছড়িয়ে পড়ে, তাকেই হয়তো বলে সহজ পাঠের গপ্পো ৷ যখন ছোটগল্পের প্রত্যেকটি লাইনের মাঝে লুকিয়ে থাকা ভিস্যুয়াল বড় ক্যানভাসে ধরা পড়ে গল্পের ভিতরের গল্প বলে, তখনই হয়তো তৈরি হয় সহজ পাঠের গপ্পো৷ কিন্তু ছবির পরিচালক, কখনও ভাবেননি যে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় গল্পটি কোনওদিন ছবি হয়ে উঠবে ৷ কখনও ভাবননি, গল্প পড়তে পড়তে মনের কোণে তৈরি হওয়া ছবিগুলো জীবন্ত হয়ে উঠবে তাঁরই হাতে ৷ তাই আজ যখন গোটা রাজ্য, গোটা দেশ, তাঁর ছবি নিয়ে প্রশংসায় মুখর, তখন ‘সহজ পাঠের গপ্পো’র পরিচালক মানস মুকুল পাল স্বপ্নপূরণের সময়টাকেই এনজয় করতেই ব্যস্ত ! আর সেই ব্যস্ততার মাঝেই New18Bangla-এর সঙ্গে আড্ডায় পরিচালক মানস জানালেন, ‘ছবির প্রত্যেকটা ইমেজ, প্রত্যেকটি শট, ছোটবেলার থেকে ধার নেওয়া ৷ আসলে এই ছবি যেন আমার ছোটবেলার গপ্পো !’

প্রশ্ন: প্রথম ছবি, ইন্ডাস্ট্রিতে একদম নতুন কতটা সহজ ছিল ‘সহজ পাঠের গপ্পো’ তৈরি করা?

সহজ বা কঠিন ৷ এরকমভাবে ভাবিনি কখনও ৷ আসলে, ছবিটা করার আগে থেকেই মনের কোনে একটা ইমেজ বহু বছর ধরে জমা ছিল ৷ বলা ভালো ছোটবেলা থেকেই ৷ আসলে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের ‘তালনবমী’ ছোটবেলা থেকেই আমার খুব প্রিয় গল্প ৷ ছোটবেলায় যখন গল্পটা পড়তাম, তখন চোখের সামনে কিছু ইমেজ এসে ধরা দিত ৷ বলতে পারি সেই ইমেজগুলোকেই একসঙ্গে করে ‘সহজ পাঠের গপ্পো’ শুরু ৷ আর এক্ষেত্রে ভাবনাটা সহজ ৷

আসলে ‘সহজ পাঠের গপ্পো’ আমার ছোটবেলার স্মৃতি ৷ আমার মামা বাড়ি, দাদুর বাড়ি সব গ্রামেই ছিল ৷ তাই গ্রামটাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি ৷ তাই ছবি করার সময় গ্রামকে ধরতে খুব একটা কষ্ট পেতে হয়নি ৷ আর দুই ভাইয়ের যে ইমোশনটা ছবিতে উঠে এসেছে তা একেবারেই নিজের অনুভব থেকে ৷ আমি সিঙ্গল চাইল্ড ৷ আমার কোনও ভাই বা বোন নেই৷ কিন্তু সব সময় ভাবতাম, যদি আমার একটা ভাই বা বোন থাকত, তাহলে ঠিক ওই ভাবেই ভালোবাসতাম, যেভাবে গোপাল আর ছোটু !

Loading...

Sahoj Pather Goppo Sahoj Pather Goppo

প্রশ্ন: তাহলে বলছেন এই ছবি তৈরির জার্নিটা সহজই ছিল ?

ওই যে বললাম, সহজ কঠিন ভাবিনি ৷ শুধু ছবির জন্য যেটা ভালো সেটা করার জন্য , কোনও কমপ্রোমাইজে যায়নি ৷ বসিরহাট, দেগঙ্গা, নানা গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছি অভিনেতাদের খোঁজার জন্য ৷ বহু মানুষের সঙ্গে দেখা করেছি ৷ তারপর যখন নুর অসলাম ও সামিউলকে পেলাম ৷ তারপর ওদের অভিনয় শেখানো ৷ ছবির জন্য তৈরি করাটা একটু কঠিন কাজ ছিল ৷ তবে সেটা কষ্ট হয়নি, বরং ভালো লেগেছে ৷ কারণ আসতে আসতে চোখের সামনে পুরো ছবিটা যেন দেখতে পাচ্ছিলাম !

বরং বলব, প্রচুর বাধা পেয়েছি ৷ ইন্ডাস্ট্রির বহু লোকের বাঁকা চোখ সহ্য করেছি ৷ এটাকে কঠিন বলতে পারি ৷

একটা ঘটনা বলি ৷ আমার ছবির তখন কালার কারেকশন চলছে ৷ কলকাতার বেশ জনপ্রিয় এক স্টুডিওতে মাত্র দু’দিনে আমার ছবির কালার কারেকশন করে বলা হয়, এর থেকে বেশি আর করা যাবে না ৷ একটা বড় ছবির কাজ আছে ৷ এরকম অনেক ছোট ছোট ঘটনা রয়েছে ৷ যা কিনা খারাপ অভিজ্ঞতা দিয়েছে ৷ তবে খারাপ লাগা ছাড়া আরও কোনও সমস্যা আমার হয়নি ৷ এখন ছবিটা ভালো লাগছে সবার, তাই এসব নিয়ে আর কোনও ক্ষোভ বা খেদ রাখতে চাই না ৷

DSC_0303

প্রশ্ন: আপনার এই ছবি দেখার পর ইন্ডাস্ট্রির মানুষজন কীভাবে নিচ্ছে আপনাকে?

ইন্ডাস্ট্রি ! সেরকমভাবে বলতে গেলে বেশিরভাগ মানুষই মুখে কুলুপ এঁটেছে ৷ না সমালোচনা, না প্রশংসা, কেউ কিছুই বলছে না ৷ তবে হ্যাঁ, কিছু ভালো মানুষ রয়েছে যাঁরা প্রথম দিনও আমার পাশে ছিল, এখনও পাশে রয়েছে ৷ যেমন সুদীপ্তা চক্রবর্তী, অয়ন চক্রবর্তী, জয়া এহেসান, রানা সরকার, সৃজিত মুখোপাধ্যায় এরা সবাই আমার ছবি দেখে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছিল ৷ প্রশংসা করেছিল ৷ এটাই তো বড় প্রাপ্তি ৷ আর সবথেকে বড় প্রাপ্তি সাধারণ মানুষেরা আমার ছবি দেখে, সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্চ প্রশংসা করেছে ৷ তাই সহজ পাঠের গপ্পো এক সময়ে গিয়ে আর কঠিন মনে হয় না ৷

প্রশ্ন: সবাই প্রশংসা করছে ৷ দুই শিশুশিল্পী জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে৷ ফিল্ম রিভিউতেও ভালো নম্বর ৷ যাঁরা তখন বাধা দিয়েছিল, তাঁদের কিছু বলতে চান?

না কিছু বলতে চাই না ৷ আমার মনে হয় তাঁরা এমনিতেই জবাব পেয়ে গিয়েছে ৷ আমার কারও প্রতি কোনও অভিযোগ নেই, আমি একটা ভালো ছবি বানানোর চেষ্টা করেছিলাম ৷ সেটা সবার ভালো লেগেছে ৷ এটাই আমার প্রাপ্তি !

প্রশ্ন: আর বক্স অফিস? তা নিয়ে কী বলবেন !

বক্স অফিস! আচ্ছা বলুন তো, শেষ কোন বাংলা ছবি সঠিক অর্থে বক্স অফিস সফল ? অনেকেই অনেক কিছু বলে বেরায় ৷ আসল অঙ্কটা কিন্তু জানাই যায় না ৷ আমি ছবি তৈরির সময় বক্স অফিস নিয়ে ভাবিনি ৷ এখনও ভাবি না ৷

প্রশ্ন: অনেকেই সহজ পাঠের গপ্পো-র সঙ্গে সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী-র মিল পাচ্ছেন৷ সেটা নিয়ে আপনার কী মত?

হ্যাঁ, এই ব্যাপারটা আমার কানেও এসেছে ৷ কিন্তু কেন এরকম ভাবছে সেটাতে বেশ অবাক হচ্ছি ৷ কাশফুল, ট্রেন আর গ্রাম দেখালেই কি পথের পাঁচালী? দেখুন, সত্যজিৎ রায়ও বিভূতিভূষণের গল্প নিয়ে ছবি তৈরি করেছিলেন ৷ আমিও তাই করেছি ৷ তাই বেসিক জায়গাটায় মিল রয়েছে ৷ কারণ, বিভূতিভূষণের গল্প মানেই ওই রকম ইমেজ ৷ ওরকম গল্প বলা ৷ আচ্ছা বলুন তো, যদি কাশফুল দেখি, ট্রেন দেখি ৷ তাহলে কী দেখাব না? এই ভেবে যে সত্যজিৎ রায় দেখিয়েছেন? আমার জায়গায় সত্যজিৎ রায় থাকলে এরকমই করতেন আমার বিশ্বাস ৷ আর সবচেয়ে বড় কথা, দুটি ছবিরই প্রেক্ষাপট আলাদা ৷ তাই গোপাল, ছোটু-র মধ্যে দুর্গা ও অপু খোঁজার কারণে নেই ৷ কাশবোন ও ট্রেনের দৃশ্যের মধ্যেও পথের পাঁচালী খোঁজাটা অনুচিত !

প্রশ্ন: ছবির দুই শিশুশিল্পী নুর অসলাম ও সামিউল আলম এদের কোথায় খুঁজে পেলেন?

এটাই আসলে আরেকটা সহজ পাঠের গপ্পো হতে পারে ৷ প্রচুর বাচ্চাদের সঙ্গে দেখা করেছি ৷ কথা বলেছি ৷ কিন্তু ঠিকঠাক পাচ্ছিলাম না ৷ শেষমেশ বেলপুর ও বেড়াচাঁপা স্কুলের এই দুই ছাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ হয় ৷ এদের দু’জনের চোখ আমাকে আকৃষ্ট করে ৷ তবে এদের রাজি করতে, এই দু’জনের মা-বাবাকে রাজি করতে আমাকে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল ৷ অনেকে তো ভেবেছিলেন আমি ছেলেধরা ৷ সিনেমা করানোর নাম করে বিক্রি করে দেব ৷ শেষমেশ অনেক কষ্টে রাজি করি ৷ আমার বাড়িতে তিনমাস ছিল ৷ এই আটমাসেই তৈরি হয় নুর অসলাম ও সামিউল আলম !

প্রশ্ন: আর বাচ্চা দুটি মায়ের চরিত্রে স্নেহা বিশ্বাস?

স্নেহা একেবারেই আনকোরা ছিল না বরং অভিনেত্রী ৷ নানা ওর্য়াকশপও করেছে ৷ একে খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে পুরো কৃতিত্বটাই আমার প্রোডাকশন ম্যানেজার ও তাঁর বউয়ের ৷ তবে হ্যাঁ, স্নেহাকেও অল্প অল্প করে সিনেমার জন্য তৈরি করতে হয়েছিল ৷

প্রশ্ন: আপনার ছবির চরিত্রগুলো খুব বাস্তব ৷ যেন আশপাশ থেকে তুলে আনা ...

এটাই তো চেয়েছিলাম ৷ চা-ওয়ালা থেকে বাজারে বসা সবজি বিক্রেতারা কেউ-ই অভিনেতা নয় ৷ সবাই বাস্তব থেকে উঠে আসা ৷ এমনকী, ডাবিংয়ের ক্ষেত্রেও আমি এদেরই ব্যবহার করেছি ৷ আসলে, এই ছবির জন্য একটা ডায়েলেক্ট দরকার ছিল ৷ বসিরহাটের মানুষেরা যেভাবে কথা বলে ৷ সেটা সঠিক অর্থে আনতেই এই ব্যবস্থা ৷

প্রশ্ন: পুজোতে ৭ টা বিগবাজেট বাংলা ছবি মুক্তি ৷ আপনার ছবিরও ওপর কিছুটা হলেও প্রভাব পড়বে৷ নন্দনে আপনার ‘সহজ পাঠের গপ্পো’ জায়গা পেল না ৷ এই নিয়ে কী বলবেন?

দেখুন, আমি ভালো ছবি, খারাপ ছবি বুঝি ৷ এর বাইরে আর কিছু নয় ৷ ভালো ছবি হলে মানুষ দেখবে, খারাপ হলে দেখবে না ৷ বক্স অফিস ব্যাপারটার কথা ভাবিনি, ভবিষ্যতে ভাবতে চাইও না ৷ ভালো চিত্রনাট্য হলে আবার ছবি করব ৷ ব্যস এটাই জানি ৷

আর নন্দন ? আমি যদি সো কল্ড কেউ-কেটা হতাম তাহলে নন্দনেও জায়গা পেতাম !

First published: 06:22:02 PM Sep 23, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर