মানুষ মরে যায়, বেঁচে থেকে আয়তনে বাড়ে শরীরের এই অংশ! গবেষণায় চাঞ্চল্য বিশ্ব জুড়ে

মানুষ মরে যায়, বেঁচে থেকে আয়তনে বাড়ে শরীরের এই অংশ! গবেষণায় চাঞ্চল্য বিশ্ব জুড়ে

মানুষ মরে যায়, বেঁচে থেকে আয়তনে বাড়ে শরীরের এই বিশেষ অংশ; গবেষণার ফলাফলে চাঞ্চল্য বিশ্ব জুড়ে!

মানুষের মৃত্যু হলেও শরীরের একটি বিশেষ অংশ বেঁচে থাকে এবং মৃত্যুর পরের ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নিদেনপক্ষে আয়তনে বাড়তে পারে।

  • Share this:

#শিকাগো: ১৮১৮ সালে লন্ডনে বসে তাঁর ফ্রাঙ্কেনস্টাইন নামের বইতে মৃত মানুষকে জীবন্ত করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিয়ে লেখালিখি করেছিলেন মেরি শেলি। সেটা হিসেব মতো পড়ে কল্পবিজ্ঞানের খাতে। কিন্তু আজ যা কল্পনা, পরবর্তী যুগে তাকেই সত্যে বদলে দেয় বিজ্ঞান- এ আমরা বার বার দেখেছি। ফলে, শেলি এক সময়ে যা আশা পোষণ করেছিলেন, প্রায় সেই এক অনুরণণ যেন এবার শোনা গেল ইউনাইটেড স্টেটসের ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়া শিকাগোর গবেষকদের কণ্ঠে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে তাঁরা দাবি তুললেন যে মানুষের মৃত্যু হলেও শরীরের একটি বিশেষ অংশ বেঁচে থাকে এবং মৃত্যুর পরের ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নিদেনপক্ষে আয়তনে বাড়তে পারে।

এই প্রসঙ্গে এসে সবার আগে একটা কথা মাথায় না রাখলে নয়- গবেষকরা কিন্তু সরাসরি মৃত মানুষকে জীবন্ত করার কথা বলছেন না! কিন্তু মৃত্যুর পরেও যখন শরীরের একটি অংশ জীবন্ত থাকছে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাপক হারে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে বিশ্ব জুড়ে বৈজ্ঞানিক মহলে।ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়া শিকাগোর গবেষকরা জানিয়েছেন যে মানুষ হোক বা অন্য কোনও প্রাণী, তাদের মৃত্যুর পরেও শরীরে এক বিশেষ ধরনের জিন বা DNA বেঁচে থাকে, বেশ সক্রিয় অবস্থাতেই থাকে। এদের গবেষকরা জম্বি জিন নামে অভিহিত করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন যে এগুলি আদতে এক ধরনের ইনফ্লেমেটরি সেল, যাদের চিকিৎসাগত পরিভাষায় গ্লায়াল সেল বলা হয়ে থাকে। এই বিশেষ ধরনের জিন-সংযুক্ত কোষ থাকে মস্তিষ্কে।

আমরা জানি যে মানুষের হৃদযন্ত্রের মৃত্যু হলেও মস্তিষ্ক আরও কিছুক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে। ব্রেইন ডেথ না হওয়া পর্যন্ত একজন মানুষ মারা গিয়েছেন, এ কথা পূর্ণ রূপে বলা চলে না। এই সূত্রকে সামনে রেখে ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়া শিকাগোর গবেষকদের দাবি নিঃসন্দেহেই গায়ে কাঁটা জাগায়। তাঁরা বলছেন যে এই বিশেষ ধরনের জিনগুলি স্ট্রোক বা ইন্টারনাল হেমারেজের মতো কোনও ঘটনায় মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হলে তার চারপাশ পরিষ্কার করার কাজ করে চলে। সেই লক্ষ্যে এরা বাড়তে থাকে এবং অ্যাপেনডেজের মতো একটা কোষ তৈরি করে নিজেদের কাজ করে চলে। মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পরেও এই ধরনের জিনকে সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে।

এই বিশেষ ধরনের জিনের কার্যকারিতা ব্রেন সার্জারির মাধ্যমে সংগ্রহ করা মস্তিষ্কের টিস্যু নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন যে শুধু মস্তিষ্ক ঠিক রাখা নয়, পাশাপাশি তার নিউরোনে অবস্থিত আরেক ধরনের কোষ মৃত্যুর পরেও স্মৃতি ধরে রাখতে পারে কিছুক্ষণ। যদিও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ডক্টর জেফরি লোয়েব বলছেন যে তাঁরা সবে গবেষণার প্রথম ধাপে দাঁড়িয়ে আছেন। মৃত্যুর পরেও জীবনের আশা থাকে কি না, তা বিশদে পরীক্ষা না করলে বোঝা সম্ভব নয়।

Published by:Raima Chakraborty
First published:
0

লেটেস্ট খবর