সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার ২ বছর পর জল থেকেই জীবিত অবস্থায় উদ্ধার মহিলা

অবাক কাণ্ড! ২ বছর ধরে সমুদ্রেই ভেসে ছিলেন মহিলা

অবাক কাণ্ড! ২ বছর ধরে সমুদ্রেই ভেসে ছিলেন মহিলা

  • Share this:

    #কলোম্বিয়া: ২ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন মহিলা, ঝাঁপ দিয়েছিলেন জলে... এরপর বেপাত্তার তালিকায় উঠে গিয়েছিল তাঁর নাম! কিন্তু কথায় বলে না,  রাখে হরি মারে কে? ২ বছর ধরে সমুদ্রেই বেঁচে ছিলেন কলম্বিয়ার বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সি অ্যাঞ্জেলিকা গাইতান! শনিবার মাঝসমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন এক মৎস্যজীবী।

    পুয়েরতো কলোম্বিয়া থেকে ১.২ মাইল গভীরে অতলান্ত মহাসাগরে একটি রাবার টিউবের সাহায্যে ভেসে ছিলেন অ্যাঞ্জেলিকা গাইতান। যখন রোল্যান্ডো ভিসবাল নামের ওই মৎস্যজীবী তাঁকে উদ্ধার করেন, তখন তিনি অচৈতন্য। হাইপোথারমিয়ায় আক্রান্ত। স্থানীয়রা তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তাঁকে ধীরে ধীরে সুস্থ করে তোলা হয়।

    ভিসাবাল জানিয়েছেন, মাঝসমুদ্রে ভাসমান মহিলাকে দেখে প্রথমে তিনি আঁচ করতে পারেননি, ভেবেছিলেন হয়তো কোনও কাঠের টুকরো। কিন্তু খানিকটা কাছে যেতেই লক্ষ্য করেন কেউ একটা হাত নাড়ছে, ভেসে আসছে সাহায্যের আর্ত চিৎকার। ঝড়ের গতিতে মহিলার দিকে বোট নিয়ে এগিয়ে যান ভিসবাল। জল থেকে তাঁকে টেনে তোলেন নৌকায়। জল খেতে দেন। এরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন অ্যাঞ্জেলিকা। ভিসবাল বারবার তাঁকে তাঁর নাম জিজ্ঞেস করতে থাকেন, কিন্তু তিনি কিছুই বলতে পারছিলেন না... কান্নায় গলা বুজে এসেছিল অ্যাঞ্জেলিকার।

    একটি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, উদ্ধারের পর মহিলা হাউহাউ করে কাঁদতে থাকেন। একটু থিতু হলে বলেন, '' আমার দ্বিতীয় জন্ম হল। ঈশ্বর চাননি আমার মৃত্যু হোক।'' হাসপাতালে সুস্থ হওয়ার পর বোগাটায় পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় অ্যাঞ্জেলিকাকে।

    কিন্তু কেন জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন অ্যাঞ্জেলিকা গাইতান? তিনি জানান, পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকত! নিত্যদিন স্বামীর অত্যাচারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। ২০১৮ সালে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান। প্রায় ৬ মাস রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। এরপর,  প্রাক্তন প্রেমিকের সাহায্যে বারানকুইলায় একটি ওমেনস অফিসে আশ্রয় পা। কিন্তু একদিন তিনি জানতে পারেন প্রাক্তন প্রেমিক বারানকুইলা শহর ছেড়ে চলে গিয়েছেন, কাজেই তাঁর সেই আশ্রয়টুকুও চলে যায়। অসহায়, নিরুপায় অবস্থায় অ্যাঞ্জেলিকা ঠিক করেন, মৃত্যু ছাড়া তাঁর বাঁচার আর কোনও উপায় নেই। ঝাঁপ দেন অতলান্ত মহাসাগরে।

    Published by:Rukmini Mazumder
    First published: