জল-কাদার মধ্যে পোঁতা একটা পায়ের আঙুল... এলাকায় আতঙ্ক

জল-কাদার মধ্যে পোঁতা একটা পায়ের আঙুল... এলাকায় আতঙ্ক

দূরে কাদার মধ্যে কী যেন একটা নজরে আসে। কাছে গিয়ে কেটির মনে হয়, কাদার মধ্যে যেন মানুষের পায়ের আঙুল আটকে রয়েছে যা মাটি থেকে অল্প একটু বেরিয়ে আছে...

দূরে কাদার মধ্যে কী যেন একটা নজরে আসে। কাছে গিয়ে কেটির মনে হয়, কাদার মধ্যে যেন মানুষের পায়ের আঙুল আটকে রয়েছে যা মাটি থেকে অল্প একটু বেরিয়ে আছে...

  • Share this:

#ইংল্যান্ড: ইংল্যান্ডের ছোট্ট গ্রাম উইনল্যাটোনিন গেটসহেডের (Winlatonin Gateshead) বাসিন্দা কেটি উইলকিনসন (Katie Wilkinson)। প্রতি দিনের মতো রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। তবে এদিন একটি অন্য রাস্তায় হাঁটতে শুরু করেন। পুরো রাস্তা জল-কাদায় ভর্তি ছিল, কাজেই খুব সাবধানে পথ পেরোচ্ছিলেন যাতে পড়ে না যান! এমন সময়ে দূরে কাদার মধ্যে কী যেন একটা নজরে আসে। কাছে গিয়ে কেটির মনে হয়, কাদার মধ্যে যেন মানুষের পায়ের আঙুল আটকে রয়েছে যা মাটি থেকে অল্প একটু বেরিয়ে আছে। মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি পুলিশে খবর দেন ওই মহিলা। কিন্তু তদন্তের পর যা উঠে আসে, তাতে হাসি আটকানো দায়। জানা যায়, আদতে তা কোনও পায়ের আঙুল ছিল না, কাদার মধ্যে পড়েছিল ছোট্ট একটি আলু।

কেটির কথায়, ১০১ নম্বরে ফোন করে খবর দেওয়ার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে যায় পুলিশকর্মীরা। প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে স্নিফার ডগ দিয়ে চিরুনি তল্লাশি চলে। এর পর ওই জল-কাদার মধ্যে আটকে থাকা আঙুলের মতো দেখতে জিনিসটির কাছে পুলিশকর্মীদের নিয়ে যায় কেটি। প্রাথমিক ভাবে দেখে তদন্তকারী অফিসারদের সন্দেহ আরও গাঢ় হয়। এদিকে একের পর এক গাড়ি করে আরও পুলিশ আধিকারিক আসতে থাকেন। এর পর মাটি খুঁড়ে দেখতেই আসল বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দেখা যায় ওই বস্তুটি কোনও মানুষের পায়ের আঙুল নয়, একটি ছোট্ট আলু।

আসল বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কার্যত হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন সবাই। এমন সময় এক পুলিশকর্মী আলুটি হাতে নিয়ে কেটিকে খানিকটা মজা করে জিজ্ঞাসা করেন, এটা কি তোমার পায়ের আঙুল? এর পর খানিকটা লজ্জায় পড়ে যান কেটি। সামান্য একটা আলুর জন্য এভাবে সবার সময় নষ্ট করা ও অযথা চাঞ্চল্য তৈরি করার জন্য অপরাধবোধে ভুগতে শুরু করেন। সবার কাছে ক্ষমা চান তিনি। কিন্তু কেটির এই সচেতনতাকে স্বাগত জানান সকলে। পুলিশকর্মী ও প্রতিবেশীরা জানান, একদম ঠিক কাজই করেছেন কেটি। পুলিশকে খবর দিয়ে কোনও অপরাধ করেননি।

কেটির কথায়, মুহূর্তের মধ্যে যেন একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। দু'টি স্নিফার ডগ, সাতটি পুলিশ গাড়ি, বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী, পুলিশের বড় বড় আধিকারিক থেকে শুরু করে তদন্তকারী অফিসাররা সকলে মিলে ঘিরে ফেলেন পুরো এলাকাকে। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেটি জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষমেশ নিজেকে সামলে নেন। ভাগ্যিস মাটি আলু বেরিয়েছে! যদি মানুষের পায়ের আঙুল বা শরীরের কোনও অংশ হত, তা হলে যে কী ঘটত তা তিনি ধারণাও করতে পারেন না বলে জানিয়েছেন!

Published by:Rukmini Mazumder
First published: