Afghan Army : আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত আফগান সেনা কেন আত্মসমর্পণ করল ?

মার্কিন ট্রেনিং প্রাপ্ত আফগান সেনার আত্মসমর্পণে অবাক বিশ্ব

Why did the Afghan National Army surrender. তালিবানের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন লড়াইয়ে আফগান বাহিনীর পরাজয় বুধবার একটি চূড়ান্ত রূপ নেয় যখন একটি গোটা আফগান সেনা কোরের সদরদপ্তর তালিবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়

  • Share this:

    #কাবুল: গত দুই দশক ধরে মার্কিন বাহিনী চেষ্টা করে এসেছে আফগানিস্তান সেনাকে নতুনরূপে সাজানোর। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র থেকে শুরু করে ট্রেনিং, লড়াইয়ে পদ্ধতি এবং স্ট্র্যাটেজি - আধুনিক সেনাবাহিনীর সবরকম উপকরণ মজুদ ছিল আফগান ন্যাশনাল আর্মিতে। পশ্চিম শক্তি বিশেষ করে আমেরিকা আফগান বাহিনীকে যেভাবে একটি অত্যাধুনিক বাহিনীতে পরিণত করতে চেয়েছে, তার শুরু থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে এরকম দুর্বলতা ছিল।

    তারা আফগান সেনাদের যেসব অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ও উপকরণ দিয়ে সাজাতে চেষ্টা করেছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর দেশগুলো ছাড়া বাকিদের জন্য উপযোগী নয়। সেনা ও পুলিশ সদস্যরা আফগান নেতৃত্বের ওপরও ক্ষুব্ধ ছিল। কারণ কর্মকর্তারা প্রায়ই পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা জেনেও চোখবুজে থাকতেন। যেমন তারা জানতেন কাগজে-কলমে যে পরিমাণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের কথা বলা হয়েছে বাস্তবে সেই সংখ্যা অনেক কম। তাছাড়া দুর্নীতি এবং অশিক্ষা আফগান বাহিনীর দুর্বলতা হিসেবে থেকে গেছে।

    অনেক সেনা যাঁরা আগেই মারা গিয়েছেন যুদ্ধে, তাঁদের নাম ভাঙিয়ে টাকা তোলা হয়েছে। সাক্ষাৎকারের পর সাক্ষাৎকারে সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের অসহায়ত্ব ও একা ফেলে চলে যাওয়ার অনুভূতি বর্ণনা করেছেন। কয়েক সপ্তাহ লড়াইয়ের পর একটি পুলিশ ইউনিটের দৈনিক রেশন হিসেবে এক বাক্স আলু সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল। কয়েকদিন তারা বিভিন্ন ধরনের আলু ছাড়া আর কিছুই পায়নি। ক্ষুধা ও অবসাদ তাদেরকে পরাজয়ের দিকে নিয়ে গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর তালিবান যখন তাদের হামলা জোরদার করছিল, তখন এই ঘটনা নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে এই বিশ্বাস জোরদার করেছিল যে নিরাপত্তা বাহিনীর হয়ে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সরকারের পক্ষে যুদ্ধ করে মারা যাওয়া নিরর্থক। তালিবানের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন লড়াইয়ে আফগান বাহিনীর পরাজয় বুধবার একটি চূড়ান্ত রূপ নেয় যখন একটি গোটা আফগান সেনা কোরের সদরদপ্তর তালিবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

    উত্তরাঞ্চলীয় শহর কুন্দুজের বিমানবন্দরের কাছে ছিল ওই সেনা সদরদপ্তর। তালিবান সেখানে অকেজো হেলিকপ্টার গানশিপ দখল করে। তারা কয়েকটি সাজোয়াঁ যানও হস্তগত করে। এই মানসিক যুদ্ধ বিভিন্ন পর্যায়েই হয়ে আসছিল। খাওয়া-দাওয়ার অভাবের পাশাপাশি নিয়ম করে মাইনে পেতেন না আফগান বাহিনীর সদস্যরা।

    আধুনিক অস্ত্র শক্তির দিক থেকে তালিবানের থেকে অনেক এগিয়েছিল আফগান বাহিনী। হ্যান্ড গান, অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, কারবাইন, গ্রেনেড লঞ্চার, টি ৫৫ ট্যাংক, ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার, ভারতের দেওয়া এম আই ২৪ হেলিকপ্টার এবং বিভিন্ন আর্মার্ড ভেইকেল। তাও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে এবং দুর্নীতি, অবসাদের কারণে প্রাণ বাঁচাতে আত্মসমর্পণকেই সঠিক রাস্তা বলে বেছে নিয়েছে আফগান বাহিনী।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: