করোনা টিকায় রক্ত জমে যাচ্ছে মাথায় ! এই তিন দেশে স্থগিত রাখা হল AstraZeneca ব্যবহার

করোনা টিকায় রক্ত জমে যাচ্ছে মাথায় ! এই তিন দেশে স্থগিত রাখা হল AstraZeneca ব্যবহার

photo source collected

ডেনমার্কই বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা AstraZeneca-র তৈরি করোনাভাইরাসের টিকার প্রয়োগ কিছু দিনের জন্য স্থগিত করে দিয়েছে।

  • Share this:

#লন্ডন: ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড এবং থাইল্যান্ডে করোনাভাইরাসের (Coronavirus) AstraZeneca-র টিকার প্রয়োগ কিছু দিনের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। টিকা নিয়ে কিছু মানুষের মাথায় রক্ত জমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে এই তিন দেশের দাবি। যদিও সে সংক্রান্ত কোনও তথ্য-প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট ইয়োরোপীয় মেডিক্যাল এজেন্সির পাশাপাশি তিন দেশের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশ্ন তুলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization/WHO) বা হু।

কী এমন হল যে ভ্যাকসিনেশনের আপৎকালে স্থগিত রাখতে হল AstraZeneca ব্যবহার? করোনা টিকায় রক্ত জমে যাচ্ছে মাথায় ! স্থগিত রাখা হল AstraZeneca ব্যবহার

আসলে কী হয়েছে? ডেনমার্কই বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা AstraZeneca-র তৈরি করোনাভাইরাসের টিকার প্রয়োগ কিছু দিনের জন্য স্থগিত করে দিয়েছে। গত সপ্তাহে সেই দেশের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে ওই টিকা নিয়ে বেশ কয়েক জন মাথায় রক্ত জমার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। টিকার প্রথম শট নেওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেছে ডেনমার্ক সরকার। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের জন্য দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছে ড্যানিশ সরকার। ততদিন টিকার প্রয়োগ বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

ডেনমার্কের দেখাদেখি নরওয়ে, আইসল্যান্ড, বুলগরিয়া, থাইল্যান্ড, কঙ্গো এবং নেদারল্যান্ডসেও এই টিকার প্রয়োগ সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কমবেশি একই কারণ দেখানো হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে AstraZeneca-র তরফে জানানো হয়েছে যে এমনটা হতেই পারে না। ইতিমধ্যে ইয়োরোপের ১৭ মিলিয়ন মানুষ সফলতার সঙ্গে টিকা নিয়েছে বলে মেডিক্যাল এজেন্সির দাবি।

রক্ত জমার জন্য টিকাই দায়ী তার কী প্রমাণ? AstraZeneca-র তরফে জানানো হয়েছে, তাদের টিকার কারণেই যে এমন ঘটনা ঘটেছে, তার কোনও উপযুক্ত প্রমাণ নেই। ইয়োরোপীয় ইউনিয়নের রেগুলেটরের দাবি, টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটেছে।

ব্রিটেনে ইতিমধ্যে ১১ মিলিয়ন মানুষ AstraZeneca-র কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। গোটা বিশ্বের মধ্যে যা সর্বাধিক। সে দেশে টিকা নেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত ১১ জনের ক্ষেত্রে মাথায় রক্ত জমে যাওয়ার ঘটেছে বলে খবর। তবে টিকার কারণেই যে এই পরিণতি, তা প্রমাণ হয়নি।

তবে কেন স্থগিত টিকা? বিশ্বের একাধিক দেশে এখনও পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে AstraZeneca-র করোনাভাইরাসের টিকা। তাই সেটি নিরাপদ নয় বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্য কোনও টিকার ক্ষেত্রেও কি রয়েছে একই চ্যালেঞ্জ? AstraZeneca-র, Pfizer-BioNTech, Moderna Inc টিকা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে ইএমএ। দেখা গিয়েছে যে রোগীদের শরীরে ব্লাড প্লেটলেটস কমার কারণ হতে পারে এই টিকা।

অন্যান্য সমস্যা থাকতে পারে? ব্রিটেনের পাশাপাশি ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় AstraZeneca-র করোনাভাইরাসের টিকার প্রয়োগ করা হয়েছে। সেই সব দেশে এই টিকা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি বলে জানানো হয়েছে। এই টিকার অন্য কোনও সাইড এফেক্ট নেই বলেও জানানো হয়েছে।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা হু বং ইএমএ-র তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে করোনাভাইরাসের এই টিকার নির্ভয়ে নিতে পারেন মানুষ।

Published by:Piya Banerjee
First published:

লেটেস্ট খবর