অতিমারীতে বিশ্বে বেড়েছে নারীনিগ্রহ, আশঙ্কিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা!

অতিমারীতে বিশ্বে বেড়েছে নারীনিগ্রহ, আশঙ্কিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা!

অতিমারীতে বিশ্বে বেড়েছে নারীনিগ্রহ, আশঙ্কিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা!

যে সমীক্ষার রিপোর্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-এর হাতে পৌঁছেছে সে অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী প্রতি তিন জনে এক জন মহিলা শারীরিক ও যৌন নিগ্রহের শিকার।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: বিশ্বে বাড়তে থাকা নারী নিগ্রহের ঘটনায় উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization) বা হু (WHO)। বক্তব্য, করোনাভাইরাসের জেরে লকডাউনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মহিলাদের ওপর শারীরিক ও যৌন নিগ্রহ বেড়েছে। এই অবস্থা থেকে রেহাই পেতে শৈশবেই সচেতনতার প্রসার চায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সম্প্রতি যে সমীক্ষার রিপোর্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-এর হাতে পৌঁছেছে সে অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী প্রতি তিন জনে এক জন মহিলা শারীরিক ও যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। অতিমারীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ বন্ধের জন্য সব দেশের সরকারকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

হু-র ডিরেক্টর জেনারেল (Director General) টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়সাস (Tedros Adhanom Ghebreyesus) জানিয়েছেন, বিশ্বের সব দেশেই নারী নিগ্রহ মহামারীর আকার নিয়েছে। যে অপরাধ সব দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল নষ্ট করছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন টেড্রোস। বলেছেন, করোনাভাইরাসের জেরে লকডাউন চলাকালীন বিশ্বজুড়ে লক্ষাধিক মহিলা এবং তাঁদের পরিবার একাধারে আক্রান্ত হয়েছে।

২০০০ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত হওয়া এক সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সাড়ে আট কোটিরও বেশি মহিলা শারীরিক ও যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। যা ব্যাপক বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু। সঙ্গে এও জানিয়েছে যে, এ সংক্রান্ত আসল সংখ্যা আরও অনেক বেশি। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ চাপা দেওয়ার কারণে সে সব ঘটনা নথিভূক্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এও জানা গিয়েছে যে এ ধরনের ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে মহিলাদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় দায়ী থাকেন তাঁদের স্বামীরা। গরিব দেশগুলিতে নারী নিগ্রহের ঘটনা লাফিয়ে বাড়ছে দেখে শঙ্কিত হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সমীক্ষা অনুযায়ী কিরিবাতি (Kiribati), ফিজি (Fiji), পাপুয়া নিউ গিনি (Papua New Guinea), বাংলাদেশ (Bangladesh) এবং আফগানিস্তানের (Afghanistan) মতো দেশে বেড়েই চলেছে নারী নিগ্রহ। অন্য দিকে ইউরোপে (Europe) এই ধরনের অপরাধের সংখ্যা তুলনামূলক কম, ২৩ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে। যা বেশ উদ্বেগজনক। ফলে সব দেশের প্রশাসনকে এ ব্যাপারে কড়া এবং দ্রুত পদক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছে হু।

সমীক্ষা এও জানাচ্ছে যে ১৫ থেকে ১৯ বছরের কিশোরী বা তরুণী সম্পর্কে জড়ানোর পর নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী নারী নিগ্রহের ঘটনা বন্ধে নিয়ম করে সচেতনতার পক্ষে সায় দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাদের বক্তব্য, এই ধরনের অপরাধ বন্ধে শিশুদের মনে ভাবনার প্রসার ঘটানোর প্রয়োজনে। সমাজে নারীদের স্থান কোথায় এবং তাদের সম্মান করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই শিক্ষা স্কুল থেকে দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে হু।

সম্বিত ঘোষ

Published by:Raima Chakraborty
First published: