১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী একাকী মেয়েদের তালিকা চেয়ে পাঠাল তালিবানি প্রশাসন, তারপর আর কী কী হবে

violence against women in taliban ruled afghanistan is on- Photo- Representative

মেয়েরা যেন কোনওভাবই পুরুষ প্রলোভনের কারণ না হয়, যা যা নিয়ম চলছে...

  • Share this:

    #কাবুল: মার্কিন সেনা আফগানিস্তানছেড়ে চলে যাওয়ার পরেই তালিবানি শাসন চরম আকার নিয়েছে৷ এই মুহূর্তে ৮০ শতাংশ এলাকায় তালিবানি শাসন কায়েম হয়েছে৷ পাশাপাশি তাদের দাপট শুরু হয়েছে৷ এই মুহূর্তে মহিলাদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হয়েছে৷ তারা ১৫ থেকে ৪৫ বছরের একা মহিলাদের তালিকা চেয়েছে তারা, যাতে তালিবানি পুরুষরা বিয়ে করতে পারে৷ আগেও গার্হস্থ্য হিংসা ও মহিলাদের ওপর অত্যাচারের জন্য তালিবানদের আইন ( (Taliban laws and punishments in Afghanistan)) জানা যেত৷ এভাবে ১৫ থেকে ৪৫ বছরের মহিলাদের লিস্ট চাওয়ায় আফগানিস্তানের স্থানীয় মানুষদের মধ্যে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে৷

    তালিবানি ফতোয়া অনুযায়ি মহিলাদের স্বাধীনতা বলে কিছু হয় না, ৮ বছরের বেশি বয়সের মেয়েরা বাড়ির বাইরে অর্থাৎ রাস্তায় বাবা ও ভাই ছাড়া কোনও পুরুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না৷

    তালিবানি ফতোয়া অনুযায়ি মেয়েদের হাইহিল পরা মানা৷ কারণ মেয়েদের হাইহিল পরলে চলার সময় যে শব্দ হয় তাতে পুরুষরা পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে পারে৷ মেয়েদের ধীর আওয়াজে কথা বলা উচিত যাতে পরপুরুষরা সেই আওয়াজ না শুনতে পায়৷

    মেয়েরা বোরখা ছাড়া কিম্বা পুরুষ সঙ্গী ছাড়া রাস্তায় বেরোতে পারেন না৷ এই নিয়ম না মানলে কড়া সাজা পেতে হবে৷ তালিবানরা জানিয়েছে বাড়ির নিচের তলার সব জানলা বন্ধ রাখতে হবে৷ সকলের বাড়ির জানলায় ঘন রঙের মোটা প্রলেপ লাগাতে হবে৷ যাতে বাইরে থেকে কেউ বাড়ির মেয়েদের দেখতে না পায়৷ মেয়েদের ছাদে যাওয়া মানা৷ বাড়ির বারান্দাতেও যেতে পারবেন না তাঁরা৷

    তালিবানি কব্জায় থাকা -র জন্য এবার থেকে বিজ্ঞাপনে বা রাস্তার কোনও দোকানে কোথাও মহিলাদের ছবি ব্যবহার করা যাবে না৷ কোনও পার্ক বা দোকানের নাম মহিলাদের নামে হয় তাহলে তাও পরিবর্তন করতে হবে৷ ২০০১ -র আগেও এইরকম অবস্থা ছিল৷

    কয়েক দিন আগে এক মহিলা একলা রাস্তায় বেরোনর পর তাকে রাস্তায় বেত্রাঘাত করা হয়৷ তাঁর পরিবারের সব পুরুষ যুদ্ধে মারা গিয়েছিলেন৷ তাই তিনি কার সঙ্গে বেরোবেন ও প্রয়োজনীয় কাজ সারবেন প্রশ্নেও কোনও ছাড় পাওয়া যায়নি৷

    অনাথালয়ের মেয়েদের জন্য কোনও মহিলা আধিকারিক বা কর্মচারি নেই৷ মহিলারা কেউ বাইরের কাজ করতে পারবেন না, তাই কাবুলে মেয়েদের সবচেয়ে বড় অনাথালয় তস্কিয়া মস্কানে কোনও মহিলা কর্মী নেই৷ ফলে অনাথাশ্রমের মেয়েরা তালিবানিদের দয়ার ওপর রয়েছে৷

    মহিলাদের স্বাস্থ্যও এবার খুব খারাপ জায়গায় যেতে পারে৷ কারণ এতদিন পুরুষ চিকিৎসকরা মেয়েদের দেখতে পারতেন, এখন তা হতে দেবে না তালিবান শাসকরা৷ পাশাপাশি মহিলা চিকিৎসকদের চিকিৎসা করার অনুমতি দেওয়া হবে না৷ এর আগে ২০০১ সালে মহিলা চিকিৎসা করতেন নিজেদের বাড়ি থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে কিন্তু মেডিক্যাল সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তাঁরা আর চিকিৎসা করতে পারেননি৷

    Published by:Debalina Datta
    First published: