US - China meeting: মেজাজ হারিয়ে বাকবিতন্ডায় কূটনীতিকরা

US - China meeting: মেজাজ হারিয়ে বাকবিতন্ডায় কূটনীতিকরা

নজিরবিহীনভাবে একে অপরকে দোষ দিতে দেখা দিয়েছে মার্কিন এবং চিনা কূটনীতিকদের

নজিরবিহীনভাবে একে অপরকে দোষ দিতে দেখা দিয়েছে মার্কিন এবং চিনা কূটনীতিকদের

  • Share this:

    #আলাস্কা: প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথিবীতে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পেছনে চিনের হাত স্পষ্ট বারবার দাবি করে এসেছিলেন। নতুন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন বিভিন্ন ব্যাপারে তাঁর পূর্বসূরীর সঙ্গে একমত না হলেও, চিন প্রসঙ্গে নরম মনোভাব দেখাননি। বাইডেন আমেরিকার মসনদে বসার পর এই প্রথম মার্কিন এবং চিনা কূটনীতিকদের বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল। ভার্চুয়াল নয়, একেবারে মুখোমুখি বসে।

    আলাস্কায় দীর্ঘক্ষন ধরে চলা এই বৈঠকে শেষপর্যন্ত কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি। উল্টে নজিরবিহীনভাবে একে অপরের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা যায় দু'পক্ষকেই। চিনের বিদেশ মন্ত্রী ওয়াং ই বলেন নিজেদের সামরিক শক্তি এবং আর্থিক প্রতিপত্তির জোর খাটিয়ে আমেরিকার দাদাগিরি নতুন কিছু নয়। ইতিহাস ঘাঁটলেই সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। চিনের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য বেমানান জানান তিনি। বিভিন্ন দেশে আমেরিকা নিজেদের সেনা মোতায়েন করে রাখে, এটাও স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অমর্যাদা মনে করে চিন। এমনকি চিনকে আক্রমণ করতে কিছু দেশকে আমেরিকা প্ররোচিত করছে বলেও অভিযোগ করেন চিনা কূটনীতিক দল। নাম না করে বললেও ভারত, জাপান, তাইওয়ানের কথাই যে বলতে চেয়েছেন চিনা বিদেশমন্ত্রী তাতে সন্দেহ নেই। পাল্টা আমেরিকার বিদেশ সচিব অ্যান্টনি ব্লিংকেন জানান চিন মানবিকতার পরোয়া না করে বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড চালায়। উইঘুর গণহত্যা থেকে শুরু করে হংকং, তিব্বতে গায়ের জোর খাটাচ্ছে। সাংবাদিকদের জেলে ভরা হয়েছে। আমেরিকার বন্ধুরাষ্ট্রদের সঙ্গে কড়া মনোভাব দেখাচ্ছে ড্রাগন। বিভিন্ন দেশকে ঋণের দেনায় ডুবিয়ে দিয়ে সেই দেশের সম্পত্তি হাতানোর চেষ্টা করছে জিনপিং সরকার। এই জিনিস সহ্য করবে না আমেরিকা।

    চিনের পক্ষ থেকে জানানো হয় আমেরিকার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠান্ডা যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে চিনের বিরুদ্ধে। এই মনোভাব মানব বিরোধী। আমেরিকা পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানিয়েছে জোর করে কোনও দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ভেঙে নিজেদের রাতারাতি বিশ্বের সেরা অর্থনৈতিক শক্তি করে তোলাও মানব বিরোধী। অর্থাৎ করোনা ভাইরাস যে চিন জেনেশুনেই ছড়িয়েছিল এবং এর ফলে আমেরিকান অর্থনীতি যে প্রবল ধাক্কা খাবে সেটা জেনেই এই পদক্ষেপ নিয়েছিল বেজিং পরিষ্কার করে দিয়েছেন মার্কিন বিদেশ সচিব। এরপর আগামী দিনে আমেরিকা বনাম চিন লড়াই অন্য মাত্রা পাবে তাতে সন্দেহ নেই।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: