সাহারা মরুভূমির পরিত্যক্ত সোনার খনি থেকে মিলল প্রাচীন অস্ত্র, লক্ষাধিক বছর আগে সেগুলোই ব্যবহার করত আফ্রিকার মানুষ

সাহারা মরুভূমির পরিত্যক্ত সোনার খনি থেকে মিলল প্রাচীন অস্ত্র, লক্ষাধিক বছর আগে সেগুলোই ব্যবহার করত আফ্রিকার মান?

এই সাইট থেকে যে যে অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে অনুমান করা হচ্ছে সেগুলো ব্যবহার করত হোমো ইরেকটাসরা।

  • Share this:

#সুদান: সুদানের উত্তর পূর্ব দিকে, আটবারা শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এমন কিছু অস্ত্র খুঁজে পেয়েছেন যার বয়স প্রায় সাত লক্ষ বছর! এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করত হোমো ইরেকটাস প্রজাতির প্রাচীন মানুষ, যারা বর্তমানে লুপ্ত। এই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে প্লস ওয়ান নামের একটি জার্নালে।

২০১৯-২০২০ সালে আটবারার পূর্ব মরুভূমিতে কাজ শুরু করেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। ইডিএআর ৭ বলে একটি সাইটে কাজ শুরু হয়। এই অঞ্চল সোনার খনির জন্য বিখ্যাত। সোনার লোভেই এখানে বহু মানুষ বড় আকারের গর্ত বা পিট খোঁড়েন। সেখান থেকেই মূলত উৎখননের কাজ শুরু হয়েছিল।

এই সাইট থেকে যে যে অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে অনুমান করা হচ্ছে সেগুলো ব্যবহার করত হোমো ইরেকটাসরা। এই হোমো ইরেকটাসদের আবির্ভাব ঘটেছিল আজ থেকে দুই লক্ষ বছর আগে। প্রথমে এদের আফ্রিকায় দেখা গেলেও এরা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে আফ্রিকার ক্রান্তীয় অঞ্চলে, ইয়োরোপ ও এশিয়ায়। একটি পরিত্যক্ত সোনার খনি থেকে এই অস্ত্রগুলো পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিকদের সব চেয়ে আকর্ষক মনে হয়েছে একটি স্প্লিট জাতীয় অস্ত্র। এগুলো ওজনে বেশ ভারী এবং আকারে অনেকটা আমন্ড বাদামের মতো। এদের সাইডগুলো চেঁচে দেওয়া হয়েছে এবং মাথা ছুঁচলো। এই জাতীয় অস্ত্র সাধারণত স্পিয়ার হেড হিসাবে হত। অর্থাৎ এগুলো লাঠির ডগায় বেঁধে বল্লমের মতো ব্যবহার করা হত। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছে হ্যান্ড অ্যাক্স বা হস্ত কুঠার।

মাটির নীচে কী কী লুকানো আছে সেটা জানার জন্য বিজ্ঞানীরা ওএসএল বা অপটিকালি স্টিমুলেটেড লুমিন্যান্স পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এই পদ্ধতির দ্বারাই দেখা গিয়েছে যে এখানে মাটির স্তর ও স্থাপত্যের বয়স হচ্ছে ৩ লক্ষ ৯০ হাজার। মিরস্ল মাজক, পোল্যান্ডের যে গবেষক এই কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁর মতে, উপরের স্তরের নিচে যে স্তরগুলি আছে সেগুলো আরও পুরনো, এগুলোর বয়স কত হতে পারে সেটা নির্ভর করছে অস্ত্রগুলি কী ভাবে ব্যবহার হয়েছে তার উপরে।

মাজক বিশ্বাস করেন যে বাড়ি থেকে অসংখ্য টুল ফ্লেক বা অস্ত্রের টুকরো পাওয়া গিয়েছে সেটি সম্ভবত কোনও ওয়ার্কশপ ছিল। এই কর্মশালায় অস্ত্র তৈরি হত বলেই এত টুকরো পাওয়া গিয়েছে।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: