ভাইরাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নৌকো চেপে বিশ্বভ্রমণ, ২০২০-র জুন থেকে জলের বুকে এই পরিবার

ভাইরাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নৌকো চেপে বিশ্বভ্রমণ, ২০২০-র জুন থেকে জলের বুকে এই পরিবার
২০২০ সালে অর্থাৎ গত বছরের জুন মাসে এই পরিবার বেড়াতে বেরিয়েছিল

২০২০ সালে অর্থাৎ গত বছরের জুন মাসে এই পরিবার বেড়াতে বেরিয়েছিল

  • Share this:

করোনার প্রকোপে দীর্ঘ দিন গৃহবন্দী হয়ে আপনি যখন ভেবেছেন যে বেড়াতে যাবেন কি না, সেই সময় হাঙ্গেরির এই পরিবার সবাইকে চমকে দিল। টিটাইম নামের একটি ৫০ ফিটের নৌকো চেপে চারজনের এই পরিবার বিশ্ব ভ্রমণ করল। এই ভাবে গোটা বিশ্ব ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন তাঁদের অনেক দিনের। অবশেষে এই স্বপ্ন পূর্ণ হল।

২০২০ সালে অর্থাৎ গত বছরের জুন মাসে এই পরিবার বেড়াতে বেরিয়েছিল। ইতালি আর স্পেন ঘুরে কিছু সময়ের জন্য এঁদের নৌকো দাঁড়িয়েছিল কেপ ভারদে অঞ্চলে। আর তার পরেই নৌকো পাড়ি দিয়েছিল আটলান্টিক মহাসাগরে।

জুন মাসে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ার পরে এই পরিবার তাঁদের বড়দিন উদযাপন করেছেন ফ্রান্সের মারটিনিকিউ বলে একটি জায়গায়। ফ্রান্সেরই সেন্ট মারটিনি বলে একটি অঞ্চলের মারিগট নামের বন্দরে তাঁদের নৌকো এখন অবস্থান করছে। ক্যারিবিয়ান দ্বীপের সেন্ট মারটিনি অঞ্চলে নৌকোটি অপেক্ষা করছে পানামা খালের দিকে যাওয়ার জন্য। তবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার জন্য এই পরিবারের কোনও তাড়া নেই। বাড়িতে যেভাবে দীর্ঘ দিন বন্দী থাকার ফলে মানুষের জীবন এখন অনেক ধীরগতি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, এক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে।


পরিবারের কর্তা ডোমোনকোস বোসজে একজন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। তিনি নৌকোর মধ্যেই একটি অস্থায়ী অফিস তৈরি করে নিয়েছেন। বোসজের বক্তব্য, এক সময়ে প্রতি দিন কাজ থেকে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরতেন তিনি। এখন কাজও করছেন, আবার পরিবারের সঙ্গেও অনেকটা বেশি সময় কাটাতে পারছেন। এক সময়ে বোসজে ও তাঁর স্ত্রী অ্যানা এই ভাবে এক দুঃসাহসী অভিযানে যেতে চাইতেন। করোনার সময়ে সেটা আদৌ উচিৎ হবে কি না ভাবতে ভাবতেই অনেকটা জেদ আর ইচ্ছেশক্তির উপরে ভর করেই জলে ভেসেছেন তাঁরা।

তবে ছক ভাঙা অভিযানে গেলেও অতিমারীর কথা ভোলেনি এই পরিবার। তাই প্রত্যেক দেশেই নিয়ম মেনে কোভিড পরীক্ষা করানো থেকে কোয়ারেন্টিনে থাকা সবটাই পালন করেছেন তাঁরা।

এত দিন ধরে জলে ভেসে রয়েছেন, বিপদের মুখোমুখি হয়েছেন নিশ্চয়ই? আটলান্টিক মহাসাগর পার হওয়ার সময় ছয় ঘণ্টার একটি দীর্ঘ ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছিল টিটাইম। তবে পরিবারের সাহস, ধৈর্য আর ঠাণ্ডা মাথার জোরে সদস্যেরা এই ঝড় পার হয়েছেন। শুধু এই সময়ে একটি টোস্টার হারিয়ে যায় এবং একটি স্যাটেলাইট ফোন ভেঙে যায়।

রাঁধতে রাঁধতেই ডলফিনের লাফালাফি দেখার অভিজ্ঞতা অনন্য, জানিয়েছেন উচ্ছ্বসিত অ্যানা বোসজে। টিটাইম এখন এগিয়ে চলেছে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে। আপাতত পাঁচ থেকে ছয় বছর এই ভাবেই ভাসবে এই পরিবার। পরিকল্পনা আছে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরে কিছুটা সময় কাটানোরও!

Published by:Ananya Chakraborty
First published:

লেটেস্ট খবর