দীর্ঘ ১১ মাসের কোমা থেকে ফিরলেন ব্রিটিশ তরুণ, জানা নেই কোভিডের খবর!

দীর্ঘ ১১ মাসের কোমা থেকে ফিরলেন ব্রিটিশ তরুণ, জানা নেই কোভিডের খবর!
আগের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চ মাসে টুটবারি স্টাফোর্ডশায়ারে নিজের বাড়ির কাছেই গাড়ির ধাক্কায় আহত হন জোসেফ। মাথায় গুরুতর চোট পান তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই চলে যান কোমায়।

আগের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চ মাসে টুটবারি স্টাফোর্ডশায়ারে নিজের বাড়ির কাছেই গাড়ির ধাক্কায় আহত হন জোসেফ। মাথায় গুরুতর চোট পান তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই চলে যান কোমায়।

  • Share this:

#লন্ডন: ছোটবেলায় পড়া রিপ ভ্যান উইঙ্কল বা উরোশিমা তারো-র গল্প যে বাস্তবেও ঘটতে পারে, সেটা সত্যি বিশ্বাস হয় না। রিপ ভ্যান আর উরোশিমা দু'জনেই অল্প সময়ের জন্য ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘুম ভাঙার পর তারা দু'জনেই দেখে যে পার হয়ে গিয়েছে বহু যুগ, পাল্টে গিয়েছে পৃথিবী। এখন করোনার আচমকা হানায় গোটা বিশ্ব জেরবার, এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো হলেও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি এই ভাইরাস- এত ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না ১৯ বছরের জোসেফ ফ্লাভিল। কেন না, আগের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চ মাসে টুটবারি স্টাফোর্ডশায়ারে নিজের বাড়ির কাছেই গাড়ির ধাক্কায় আহত হন জোসেফ। মাথায় গুরুতর চোট পান তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই চলে যান কোমায়।

খবর মোতাবেকে, প্রথমে এই তরুণকে নিয়ে যাওয়া হয় লেসেসটার জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে ছয় মাস কোমায় ছিলেন জোসেফ। তার পরে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় অ্যাডেরলি গ্রিন হাসপাতালে। ইংল্যান্ডের স্ট্রোক অন ট্রেন্ট শহরে অবস্থিত অ্যাডেরলি গ্রিন একটি নিউরোলজিকাল রিহ্যাব।

হাসপাতালে থাকার সময়ে যদিও দু’বার করোনায় আক্রান্ত হন জোসেফ। প্রথমবার তিনি ভাইরাস আক্রান্ত হন কোমায় থাকার সময়ে। আর দ্বিতীয়বার কোমা থেকে বেরিয়ে এসেও করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। তবে দু'বারেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ জয় করেন এই তরুণ। জোসেফ যে কোমায় ছিলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় তাকে বলা হয় স্টেজ টু কোমা। এই কোমা থেকে ফিরে আসার অর্থ হল হাসপাতালে আসার পর থেকে এখনও পর্যন্ত যা যা ঘটেছে, সেই বিষয়ে তিনি অবহিত নন। অর্থাৎ গত বছর যা যা ঘটেছে এবং অতিমারীর বিশেষ খবর, কোনওটাই জোসেফ জানেন না।


কোভিডের কথা মাথায় রেখে হাসপাতালে একমাত্র জোসেফের মায়ের যাওয়ার অনুমতি ছিল। ছেলের উনিশতম জন্মদিনও সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে পালন করা হয়। তবে এই মুহূর্তে ফ্লাভিল পরিবার চিন্তায় আছে অন্য কারণে। জোসেফকে নিউ নরম্যাল, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং ইত্যাদি বিষয়ে কী ভাবে জানাবেন সেটাই ভাবছেন তাঁর বাবা-মা। আহত হওয়ার আগে গোল্ড ডিউক অফ এডিনবরা পুরষ্কার পেয়েছেন এই তরুণ। জোসেফের বন্ধুরাও অর্থ সাহায্য করেছেন তাঁর চিকিৎসায়।

Published by:Piya Banerjee
First published: