বিদেশ

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

এ গ্রামে পুরুষ নেই একজনও!‌ তবু মহিলারা হন গর্ভবতী, জন্ম দেন সন্তানের

এ গ্রামে পুরুষ নেই একজনও!‌ তবু মহিলারা হন গর্ভবতী, জন্ম দেন সন্তানের

বর্তমানে এই গ্রামে প্রায় আড়াইশো মহিলা বসবাস করেন। তাহলে এখানে প্রশ্ন ওঠে যে এই গ্রামের মহিলারা কী করে সন্তানের জন্ম দেন?‌

  • Share this:

এ যেন এক অদ্ভূত গ্রামের গল্প‌। যে গল্প সহজে কারওর বিশ্বাস হওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ বছরের পর বছর ধরে এই গ্রামে যা চলে আসছে, তা সত্যিই একবারে কেউ বিশ্বাস করতে পারবেন না। কেনিয়ার শ্যামবুরু এলাকার উমোজা এক আশ্চর্য গ্রাম। যে আশ্চর্য গ্রামে ২৭ বছর হয়ে গেল, শুধু থাকেন মহিলারাই। কোন পুরুষের প্রবেশ এ গ্রামে নেই। কারণ মহিলারাই নিজেরা ব্যবস্থা করে এই গ্রামে পুরুষ প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। কিন্তু পুরুষ প্রবেশ না থাকা সত্ত্বেও নিজেদের মতন করে জীবন ধারণ করছেন মহিলারা। তাঁরা প্রতিবছর কেউ-না-কেউ সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন। ফলে বংশবৃদ্ধিও হচ্ছে সাধারণ নিয়মে। সমাজ পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু এই অদ্ভুত গ্রাম আজও কেনিয়ার বিষ্ময়।

ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯০ সালে যখন, ১৫ জন স্থানীয় আদিবাসী মহিলাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে বৃটিশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ সেই মহিলারা সমাজ বিচ্যুত হয়ে এই গ্রামে এসে বসতি গড়ে তোলেন। তারপর থেকে এখানে পুরুষদের হিংসার শিকার হওয়া বিভিন্ন মহিলারা এসে একসঙ্গে বসবাস করতে শুরু করেন। কেউ হয়তো ধর্ষণের শিকার, কেউ বাল্যবিবাহের শিকার, কেউ গার্হস্থ্য হিংসার শিকার, তাঁরা সকলেই হাতে হাত ধরে এক সমাজ গড়ে তুলেছেন। যে সমাজ শুধু মহিলাদের। যেখানে পুরুষদের কোনরকম প্রবেশাধিকার নেই।

বর্তমানে এই গ্রামে প্রায় আড়াইশো মহিলা বসবাস করেন। তাহলে এখানে প্রশ্ন ওঠে যে এই গ্রামের মহিলারা কী করে সন্তানের জন্ম দেন?‌ তার উত্তরেও আছে নারী স্বাধীনতার আসল প্রশ্নটি। নিজের সঙ্গীকে বেছে নেওয়ার প্রশ্ন। এই গ্রামের মহিলারা গ্রাম থেকে বেরিয়ে নিজের পছন্দের পুরুষটিকে খুঁজে নেন এবং সেই পছন্দের পুরুষের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হন। তারপর তাঁরা গর্ভধারণ করেন এবং সন্তানের জন্ম দিয়ে থাকেন। এখানে কোনওরকম কোনো সম্পর্ক, বিবাহ, সম্পর্কের আড়ষ্টতা নেই। কেবল সন্তান উৎপাদনের জন্য এবং যৌনসুখের জন্য এই গ্রামের মহিলারা পুরুষ সঙ্গীকে বেছে নেন। এই গ্রামে প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া এই গ্রামে দর্শনীয় স্থান রয়েছে একাধিক। সেগুলি দেখতে আসেন পর্যটকেরা। সেই পর্যটকদের খরচের ওপর নির্ভর করেই এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয়। পর্যটকরা যে টিকিট কেটে এই গ্রামে ঢোকেন এবং গ্রামের বিভিন্ন অংশ পর্যবেক্ষণ করেন, দেখেন, ইতিহাস জানেন, সেই পর্যটকদের কাটা টিকিটের দাম থেকেই এই গ্রামের মানুষের হাতে অর্থ আসে। কিন্তু এ যেন এক পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে নারীবাদের আদর্শ উদাহরণ। পুরুষ রহিত এক সমাজ গড়ে তুলতে পেরেছেন নারীরা যেখানে কেবলমাত্র আছেন নারী। তাঁদের কামনা বাসনা ইচ্ছা সেটি একমাত্র প্রাধান্যের বিষয়।

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: October 11, 2020, 6:32 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर