Afghanistan China : কাবুলের পতন চিনের কাছে আমেরিকার পরাজয়

জিনপিং মাত দিয়েছেন বাইডেনকে

Fall of Kabul indicates America losing to China. পর্দার আড়াল থেকে রিমোট কন্ট্রোল ছিল চিনের হাতে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বি আর আই (BRI Project) প্রজেক্টে আফগানিস্তানকে চাইছিল চিন। সম্ভব হচ্ছিল না আমেরিকার জন্য

  • Share this:

    #কাবুল: আমেরিকা কেন আফগানিস্তানকে এই অবস্থায় ফেলে রেখে চলে গেল? অধিকাংশ মানুষের মনে এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ধুয়ে দিয়েছেন আফগানিস্তান প্রসঙ্গে। বাইডেন নিজের অযোগ্যতা এবং দুর্বলতার জন্য আফগানিস্তানকে এরকম অসহায় অবস্থায় ফেলে দিয়েছেন বলে মনে করেন ট্রাম্প।

    কিন্তু আসল সত্য হচ্ছে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আমেরিকার আর্থিক অবস্থা আগের তুলনায় খারাপ। প্রচুর অর্থ এবং বিনিয়োগ নষ্ট হয়েছে। এই অবস্থায় আফগানিস্তানে সেনা রেখে যাওয়ার বিপুল পরিমাণ খরচ চালাতে সমস্যায় পড়েছে আমেরিকা। তাছাড়া আফগানিস্তান থেকে তাঁদের আর কিছু পাওয়ার নেই। আমেরিকা ভেবেছিল, আফিম চাষের বিপুল টাকা তাদের হাতে আসবে। কিন্তু তা হয়নি। কিছুটা টাকা পেলেও আশানুরূপ আফিমের লাভ আমেরিকার ঝুলিতে আসেনি।

    তার উপর বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এতদিনের লড়াইয়ে। আল কায়দাকে শায়েস্তা করার একটা লক্ষ্য আমেরিকার ছিল। তা এত দিনে পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বাকিটা তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে আমেরিকার বোঝাপড়া ছিল, যাতে দেশ ছাড়ার সময় মার্কিন সেনা বা কূটনীতিকদের আক্রমণ না করা হয়। হলে তার ফল ভুগতে হবে তালিবানকে। রাজি হয়ে যায় তালিবান।

    কিন্তু পর্দার আড়াল থেকে রিমোট কন্ট্রোল ছিল চিনের হাতে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বি আর আই (BRI Project) প্রজেক্টে আফগানিস্তানকে চাইছিল চিন। সম্ভব হচ্ছিল না আমেরিকার জন্য। এবার তালিবান প্রশাসনের সঙ্গে বোঝাপড়ায় চিনের সুপ্ত ইচ্ছা সম্ভব হতে চলেছে। পাকিস্তানের পর আফগানিস্তানে এই প্রজেক্ট বানাতে পারলে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দরজা খুলে যাবে ড্রাগনের সামনে।

    চিন তালিবান প্রশাসনকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে তাঁদের প্রজেক্ট তৈরি হলে, আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ এবং তালিবানের আর্থিক দিক থেকে মুনাফা রোজগারের রাস্তা খুলে যাবে। বলা বাহুল্য এবার তালিবানের সহায়তায় চিনা প্রজেক্ট ডানা মেলতে পারে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে। চিনা ইঞ্জিনিয়ারদের সুরক্ষা প্রদান করবে তালিবান।

    আসলে মুখে বললেও আমেরিকা কোনওদিনই আফগানিস্তানে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তৈরি করতে সেনা পাঠায়নি। চিন কিন্তু কোনও যুদ্ধ করে এগোয়নি। এগিয়েছে কূটনীতি ও অর্থনৈতিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। কিন্তু আমেরিকা যুদ্ধ করে এগোতে গিয়েছিল। ইরাকের পর আফগানিস্তানেও ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই মেলেনি।

    বিশ্বের শক্তি বলয়ের একপাশে আমেরিকা থাকলে অন্য পাশে অবশ্যই রয়েছে চিন। কাবুলের পতন আসলে চিনের কাছে আমেরিকার পরাজয়ের ইঙ্গিত। জো বাইডেন মুখে যতই বড় বড় কথা বলুন, চিনের ধূর্ত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং - এর কাছে তিনি যে দশ গোলে হেরেছেন, তাতে সন্দেহ নেই।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: