ইতিহাসে প্রথম! শীতে K2 শৃঙ্গারোহণে সফল ১০ নেপালি শেরপা

ইতিহাসে প্রথম! শীতে K2 শৃঙ্গারোহণে সফল ১০ নেপালি শেরপা
K2 পর্বতশৃঙ্গ আরোহণের ক্ষেত্রে ১৯৫৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮৬ জনের। পর্বতশৃঙ্গের দিকে যত এগোতে থাকেন অভিযাত্রীরা, প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।

K2 পর্বতশৃঙ্গ আরোহণের ক্ষেত্রে ১৯৫৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮৬ জনের। পর্বতশৃঙ্গের দিকে যত এগোতে থাকেন অভিযাত্রীরা, প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।

  • Share this:

#কাঠমান্ডু: প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সে-ই ১৯৫৪ সালে। ইতালির আচিলি কোম্পানি (Achille Compagnoni) জয় করতে পেরেছিলেন দুর্গম K2 শৃঙ্গ। তবে সেটা শীতকালে নয়। শীতকালে এই পর্বতশৃঙ্গ তো বটেই, পাশাপাশি পর্বতের পথও জমে গিয়ে অতি পিছল বরফে পরিণত হয়ে যায়। সঙ্গে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো ঝড়ো হাওয়ার বাধা তো আছেই! পরিসংখ্যান বলে, K2 পর্বতশৃঙ্গ আরোহণের ক্ষেত্রে ১৯৫৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮৬ জনের। পর্বতশৃঙ্গের দিকে যত এগোতে থাকেন অভিযাত্রীরা, প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। সেই দিক থেকে ইতিহাসে এই প্রথম শীতকালে K2 পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করে অভিনব রেকর্ড তৈরি করলেন ১০ নেপালি শেরপা।

খবর বলছে যে সেভেন সামিট ট্রেক নামের সংগঠনের উদ্যোগে ১০ নেপালি শেরপা এই শীতে পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালার গিলগিট-বালতিস্তানের নিকটবর্তী K2 জয় করার অভিযানে বেরিয়ে পড়েছিলেন। সঙ্কীর্ণ পর্বতপথে আরোহণের লক্ষ্যে নিজেদের তাঁরা ভাগ করে নিয়েছিলেন দুই দলে। একটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন শেরপা নির্মল পূজারা, অন্য দলের তত্ত্বাবধান করছিলেন মিংমা গ্যালজে শেরপা। এই দু'জন ছাড়া এই যাত্রায় সামিল হয়েছিলেন মিংমা ডেভিড শেরপা, মিংমা জি, সোনা শেরপা, মিংমা তেনজি শেরপা, পেম ছিরি শেরপা, দাবা তেম্বা শেরপা, কিলি পেম্বা শেরপা এবং দাবা তেনজিং শেরপা।

জানা গিয়েছে, যে সব প্রতিবন্ধকতা ধীরে ধীরে অতিক্রম করে তাঁরা ৮,৬১১ মিটার পাড়ি দিয়ে একটি নির্দিষ্ট পার্বত্যপথে এসে একে অপরের জন্য অপেক্ষা করা শুরু করেন। সেখান থেকে K2 শৃঙ্গ ছিল আর ৭০ মিটার দূরে। সবাই একজোট হলে আবার যাত্রা শুরু হয়। এবং সবাই একসঙ্গেই K2 শৃঙ্গে পা রাখেন!

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জাহিদ হাফিজ চৌধুরি এই সাফল্যের জন্য পর্বতারোহীদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁর কামনা- সবাই যেন নিরাপদে প্রত্যাবর্তনও করেন প্রাকৃতিক বাধা কাটিয়ে! তাঁর কথায়- এমন বিপজ্জনক এবং সার্থক পর্বতারোহণ অভিযান বিশ্বের ইতিহাসে এর আগে ঘটেনি। সঙ্গত কারণেই অভিযাত্রীরাও রীতিমতো আনন্দিত। যার আঁচ পাওয়া গিয়েছে নির্মল পূজারার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে। অসম্ভবও যে সম্ভবও হল, তা যে একই সূত্রে গর্বের কারণ হল মানবজাতি এবং নেপালের জন্য, সে কথা ইনস্টাগ্রামে (Instagram) লিখতে ভোলেননি পূজারা!

Published by:Shubhagata Dey
First published:

লেটেস্ট খবর