• Home
  • »
  • News
  • »
  • international
  • »
  • TALIBANS ALLEGEDLY MUTILATED DEAD BODY OF INDIAN PHOTO JOURNALIST DANISH SIDDIQUI DMG

Danish Siddiqui: মৃত্যুর পরেও নির্মমতা তালিবানদের, পরিচয়পত্র দেখিয়েও রেহাই পাননি সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি

নিহত সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি৷

আফগান গোয়েন্দা সূত্রে জানানো হয়েছে, দানিশের দেহে ১২টি বুলেট লেগেছিল৷ একের পর এক বুলেট তাঁর শরীরকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেওয়ার আঘাতের চিহ্নও মিলেছে (Danish Siddiqui)৷

  • Share this:

    নিছক সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে মৃত্যু নয়৷ বরং রীতিমতো বর্বরোচিত অত্যাচার করে আফগানিস্তানে খুন করা হয়েছিল ভারতীয় সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকিকে৷ রয়টার্সের হয়ে আফগানিস্তানের যুদ্ধক্ষেত্রে ছবি তোলার দায়িত্বে থাকা দানিশ দু' সপ্তাহ আগে নিহত হন৷ কিন্তু নিহত সাংবাদিকের মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং তাঁর মৃতদেহের ছবি ও এক্স-রে প্লেটের ছবি সিএনএন নিউজ ১৮-এর হাতে এসেছে৷ আরে তাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, মৃত্যুর আগে কীভাবে নৃশংস অত্যাচার করা হয়েছিল পুলিৎজার পুরস্কার জয়ী এই ভারতীয় সাংবাদিককে৷

    অভিযোগ মৃত্যুর পরেও দানিশ সিদ্দিকির দেহ টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷ শুধু তাই নয়, গাড়ির চাকার নীচে পিষে দেওয়া হয়েছিল দানিশ সিদ্দিকির নিথর দেহ৷ আফগানিস্তান এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন৷

    আফগান গোয়েন্দা সূত্রে জানানো হয়েছে, দানিশের দেহে ১২টি বুলেট লেগেছিল৷ একের পর এক বুলেট তাঁর শরীরকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেওয়ার আঘাতের চিহ্নও মিলেছে৷ ওই সূত্রেই আরও দাবি করা হয়েছে, 'দানিশ সিদ্দিকির দেহ যে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তার প্রমাণ মিলেছে৷ মনে করা হচ্ছে তালিবান জঙ্গিরাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে৷ দানিশ সিদ্দিকির মাথা এবং বুকের ভারী গাড়ির চাকা দিয়ে পিষে দেওয়ার একাধিক প্রমাণ মিলেছে৷ এই নৃশংসতার জন্য হামভি-র মতো ভারী এসইউভি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে৷' শুধু আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত কর্তারাই নয়, ভারতীয় আধিকারিকরাও এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন৷

    জানা গিয়েছে, আফগান সেনার সঙ্গে থাকা দানিশ প্রথমে তালিবানদের ছোড়া বোমা বা গ্রেনেড জাতীয় বিস্ফোরকের স্প্লিন্টারে আহত হন৷ কিন্তু এর পরেও অভিযান না থামিয়ে দু' দলে ভাগ হয়ে যায় তারা৷ একটি দল দানিশকে স্পিন বোল্ডক এলাকার একটি মসজিদে নিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়৷ তালিবানদের রেড ইউনিট আফগান সেনার ওই দলটিকে আক্রমণ করতে ওই মসজিদেও হামলা চালায়৷ একের পর এক আফগান সেনাকে হত্যা করতে থাকে তালিবানরা৷ সূত্রের দাবি, সেই সময় দানিশ চিৎকার করে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে তিনি একজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক৷ নিজের পরিচয়পত্রও দেখান দানিশ৷ পরবর্তী নির্দেশের জন্য সেই আই কার্ডের ছবি কোয়েটায় নিজেদের সদর দফতরে পাঠায় তালিবান জঙ্গিরা৷

    অভিযোগ, দানিশের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট খতিয়ে দেখে তালিবান জঙ্গিদের শীর্ষ মাথারা৷ দানিশ যেহেতু আফগান সেনার সঙ্গে কাজ করছিলেন, তালিবানদের মতে তিনি তাদের বিরুদ্ধেই রিপোর্টিং করেছেন৷ আর তাই দানিশকে চিরতরে চুপ করিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আসে কোয়েটার সদর দফতর থেকে৷ এই নির্দেশ পাওয়ার পরেই ১২টি গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় দানিশ সিদ্দিকিকে৷ তার পর দানিশের দেহ মসজিদ থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসা হয়৷ তাঁর শরীরে থাকা বুলেট প্রুফ জ্যাকেট খুলে ফেলা হয়৷ গোটা ঘটনার ছবি তুলে রেখে পরে তা ছড়িয়েও দেয় তালিবানরা৷

    দানিশ সিদ্দিকির এক্স রে রিপোর্ট৷

    দানিশ সিদ্দিকির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তুমুল শোরগোল শুরু হয়৷ তালিবানরা বুঝতে পারে, রয়টার্সের অন্যতম সিনিয়র একজন সাংবাদিককে হত্যা করেছে তারা৷ এর পরেও মরিয়া তালিবানরা গাড়ির চাকা দিয়ে মৃত দানিশ সিদ্দিকির মাথা এবং বুক পিষে দেয়৷

    কেন এ ভাবে ভারী এসইউভি দিয়ে দানিশ সিদ্দিকির মাথা এবং বুক পিষে দেওয়া হল, তা আফগান গোয়েন্দাদের কাছেও স্পষ্ট নয়৷ আফগান গোয়েন্দাদের ধারণা, রয়টার্সের প্রতিনিধি হিসেবে আফগান সেনার হয়ে তাদের বিরুদ্ধে দানিশ কাজ করছিলেন বলেই তাঁর প্রতি প্রবল ঘৃণা প্রকাশ করতে এমন বর্বরোচিত কাণ্ড ঘটিয়েছে তালিবানরা৷ আর দ্বিতীয় কারণ হতে পারে, যাতে দানিশ সিদ্দিকির দেহটি শনাক্ত না করা যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছিল৷ আফগানিস্তানের তরফে গোটা ঘটনা ভারতীয় গোয়েন্দাদের জানানো হয়েছে৷

    Aditya Raj Kaul

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: