বামন জিরাফ! খোঁজ মিলল আফ্রিকায়! কী ভাবে তা সম্ভব, বুঝতে হয়রান বিজ্ঞানীরা

বামন জিরাফ! খোঁজ মিলল আফ্রিকায়! কী ভাবে তা সম্ভব, বুঝতে হয়রান বিজ্ঞানীরা
আফ্রিকার দুই এলাকায় সাধারণ উচ্চতার চেয়ে অনেকটা কম উচ্চতার দুই জিরাফের খোঁজ মিলল

আফ্রিকার দুই এলাকায় সাধারণ উচ্চতার চেয়ে অনেকটা কম উচ্চতার দুই জিরাফের খোঁজ মিলল

  • Share this:

#নামিবিয়া: জিরাফের উচ্চতা সাধারণত ১৬ ফুট বা তার আশেপাশে হয়। এর চেয়ে বেশিও হয়ে থাকে অনেক সময়ে। কিন্তু এর চেয়ে বেশি বই কম হয় না। কিন্তু আফ্রিকার দুই এলাকায় সাধারণ উচ্চতার চেয়ে অনেকটা কম উচ্চতার দুই জিরাফের খোঁজ মিলল। যাদের একজনের উচ্চতা ৯.৪ ফুট ও আরেকজনের আরও কম- ৮.৫ ফুট।

জিরাফ খুব লম্বা, তাদের মুখের দিকে তাকাতে মোটামুটি মাথা অনেকটাই হেলিয়ে ফেলতে হয়। কিন্তু এই দুই জিরাফকে দেখতে গেলে সে ঝক্কি পোহাতে হয় না। এদের একজনের নাম গিমলি ও আরেকজনের নাম নাইজেল। গিমলি উগান্ডা আর নাইজেল নামিবিয়ায় থাকে। খুব সম্প্রতি তাদের এমন অদ্ভুত উচ্চতা চোখে পড়ে এবং গবেষকরা এই নিয়ে পরীক্ষা করা শুরু করেন।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ডোয়ারফিজম (Dwarfism)-এর সমস্যা রয়েছে তাদের। অর্থাৎ তারা দু'জনেই বামন।


গিমলি বর্তমানে রয়েছে মার্চিসন ফলস ন্যাশনাল পার্কে ও নাইজেল রয়েছে একটি ব্যক্তিগত ফার্মে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ সালে উগান্ডার একটি জাতীয় উদ্যানে গিমলির এই উচ্চতা নজরে আসে ড. মিশেল ব্রাউনের। তিনি জিরাফ কনজারভেশন ফাউন্ডেশন-এর একজন গবেষক। এর পরই ২০১৮ সালে তাঁর টিম নাইজেলকে খুঁজে পায়। এবং উচ্চতায় সেই এক ধরনের সমস্যাই নজরে আসে। পরে তিনি জানান, এই সমস্যা জিন-গত। এবং একে ডোয়ারফিজম বলা হয়। চলিত বাংলায় আমরা যাকে বামন বলে থাকি।

এই ডোরারফিজম গরু, কুকুর ও মানুষের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু সব চেয়ে লম্বা জন্তুদের মধ্যে এই সমস্যা এটাই প্রথম নয়। এমন আগেও দেখা গিয়েছে। কিন্তু গিমলি ও নাইজেলের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, বিষয়টি বুঝতে সময় লেগে গিয়েছে।

গিমলি ও নাইজেল দু'জনেই পুরুষ। তাদের দেখলে মনে হতেই পারে ঘোড়ার শরীরে জিরাফের মাথা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ড.মিশেল জানিয়েছেন যে তাদের এই সমস্যার জন্য প্রজননের কাজে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। কারণ খুব কম করেও মহিলা জিরাফদের উচ্চতা হয় ১৪ ফুট। এ ছাড়া আর কোনও সমস্যা তাদের নেই। এমনিতে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর আগেই অনেক জিরাফের মৃ্ত্যু হয় কিন্তু গিমলি ও নাইজেল দু'জনেই সেই সময় পেরিয়ে গিয়েছে এবং বর্তমানে তারা প্রাপ্তবয়স্ক।

এবার পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে তারা কতটা খাপ খাওয়াতে পারে, এটা দেখার জন্য মিশেলের টিম তাদের উপরে নজর রেখেছিল। যাতে দেখা যায়, গিমলিকে শেষবারের মতো ২০১৭ সালে দেখা গিয়েছিল। তবে, নাইজেলকে দেখা যায় ২০২০ সালে।

Published by:Ananya Chakraborty
First published:

লেটেস্ট খবর