Saudi Arabia: আজানের মাইক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ চায় সৌদি আরব প্রশাসন, মানতে নারাজ মসজিদ কর্তৃপক্ষ; যুক্তি, পাল্টা যুক্তিতে সরগরম!

File Photo

প্রশাসনের নির্দেশ অনুসারে ইকামতের পর মাইকের আওয়াজে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।

  • Share this:

#রিয়াধ: ২৩ মে সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রকের মন্ত্রী (Islamic Affairs Minister) আব্দুল লতিফ আল শেখ (Abdullatif al-Sheikh) গোটা মরুদেশে জারি করেন একটি সার্কুলার। যাতে বলা হয় দেশটির সব মসজিদে মাইকের আওয়াজ এক-তৃতীয়াংশ রাখা এবং আজান ও ইকামত ছাড়া ব্যবহার না করার নির্দেশ মেনে চলতে হবে। যেখানে আরও বলা হয়, "তোমরা সবাই সৃষ্টিকর্তাকে নীরবে ডাকো। এর জন্য কেউ কাউকে বিরক্ত করা উচিত নয় এবং পাঠ বা নামাজে একজনের আওয়াজের ওপর অন্যের আওয়াজ তোলা উচিত নয়।"

এখানে জেনে রাখা ভালো নামাজের প্রথম আহ্বান-কে আজান এবং দ্বিতীয় আহ্বান-কে ইকামত বলা হয়। ইকামতের অর্থ ইমাম সাহেব জামাতে নামাজের জন্য কাবিলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছেন এবং নামাজ শুরু হতে চলেছে। প্রশাসনের নির্দেশ অনুসারে ইকামতের পর মাইকের আওয়াজে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। সেই সময় নিজের মতো করে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকা হক।

সৌদির ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ আল শেখ এই সার্কুলার ঘোষণা করে বলেছিলেন, তাঁর এমন সিদ্ধান্তের কারণ দেশের জনগণ। বিভিন্ন মহল থেকে আসা প্রতিক্রিয়ার জন্য এমন সিদ্ধান্তের পথে হেঁটেছে দেশ। তবে এর পর চুপ করে থাকেননি সে দেশের একদল রক্ষণশীল মুসলিম সম্প্রদায়। তাঁদের একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলন শুরু করে। তাঁদের দাবি মসজিদের মাইকে যদি কিছু মানুষের অসুবিধা হয় তবে রেস্তোঁরা ও ক্যাফেগুলিতে যখন উচ্চস্বরে গান বাজানো হয়, সেগুলিকেও নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। এই নিয়ে একটি হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড হতে শুরু করে।

এর পর বহু প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো একটি ভিডিওতে বক্তব্য রেখে মিঃ শেখ বলেছিলেন, যাঁরা প্রার্থনা করতে চান তাঁদের ইমামের নামাজের জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই। সোশ্যাল মাধ্যমে যাঁরা এই আন্দোলন করেছেন তাঁদের জন্য তিনি বলেন এঁরা আসলে 'দেশের শত্রু'।

সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমন (Mohammed Bin Salman), সৌদি আরবকে বিশ্ব দরবারে আরও উদারপন্থী দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই জনগণ যেটা বেশি চাইছেন সেই দিকে তিনি লক্ষ্য রাখছেন। কিছু সামাজিক নিষেধাজ্ঞাগুলিকে তিনি উঠিয়ে দিয়েছেন, যেমন দেশে মহিলারা গাড়ি চালাতে না পারার উপর নিষেধাজ্ঞা তিনি উঠিয়ে দিয়েছেন। প্রিন্সের বিরুদ্ধে যাঁরা সরব হয়েছেন, তাঁদের গ্রেফতার করে কারাবন্দী করা হয়েছে। তবে মসজিদে মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সার্কুলার দেশের অন্দরে ফের ধর্মীয় জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: