পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ? পুলিশ প্রধানকে অপহরণ করল দেশের আধাসেনা, করাচিতে সংঘর্ষ

পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ? পুলিশ প্রধানকে অপহরণ করল দেশের আধাসেনা, করাচিতে সংঘর্ষ

নওয়াজ শরিফের জামাই মহম্মদ সফদরের (মাঝখানে) গ্রেফতারিকে ঘিরেই পুলিশ- সেনা সংঘাত৷ Photo-AP/Fareed Khan

এই ঘটনার পরই সিন্ধ প্রদেশের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়৷ বাহিনীর প্রধানের অপমানের প্রতিবাদে ছুটির আবেদন জানাতে শুরু করেন ছোট বড় পদাধিকারীরা৷

  • Share this:

    #করাচি: এবার কি গৃহযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে পাকিস্তান? পুলিশ বনাম পাক রেঞ্জার্স-এর লড়াইতে সেরকম সম্ভাবনাই মাথাচাড়া দিচ্ছে৷ অভিযোগ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের জামাইয়ের গ্রেফতারির নির্দেশ দিতে বাধ্য করতে সিন্ধ প্রদেশের পুলিশের প্রধানকে অপহরণ করে দেশের আধাসেনা বাহিনী৷ এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান কোয়ামার জাভেদ বাজওয়া৷

    বিবৃতিতে পাক সেনার তরফে জানানো হয়েছে, করাচির সেনা কম্যান্ডার ঘটনার তদন্ত করবেন৷ পুলিশ প্রধানের এই অসম্মানের প্রতিবাদে সিন্ধ পুলিশের বিভিন্ন পদাধিকারীরা গণছুটির আবেদন করেন৷ কিন্তু ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পরে করাচির বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ বেধে গিয়েছে বলে খবর৷ করাচির একটি বহুতলে আইইডি ব্লাস্টও হয়েছে৷ অসমর্থিত সূত্রে দ্য ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড-এর তরফে ট্যুইটারে দাবি করা হয়েছে, করাচিতে সিন্ধ প্রদেশের পুলিশ এবং পাকিস্তানি সেনার মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় দশ জন পুলিশ অফিসারের মৃত্যু হয়েছে৷ যদিও পাকিস্তানের প্রথমসারির সংবাদপত্র ডন-এ এই ধরনের কোনও খবর প্রকাশিত হয়নি৷

    তবে করাচির পরিস্থিতি যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই৷ জাতীয় স্বার্থে তাই আপাতত দশ দিনের জন্য নিজেদের ছুটির আবেদন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিন্ধ পুলিশের আইজি মুস্তাক মেহর৷ নিজের অধস্তন অফিসারদেরও একই অনুরোধ করেছেন তিনি৷

    প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং পাক প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে একটি মিছিল করেন পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলি৷ এর পর পরই তড়িঘড়ি নওয়াজ শরিফের জামাই এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগের নেতা মহম্মদ সফদরকে গ্রেফতার করা হয়৷ অভিযোগ ওঠে, সিন্ধ পুলিশের আইজি মুস্তাক মেহরের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে দিয়ে সফদরের গ্রেফতারির নির্দেশে সই করিয়ে নেয় পাকিস্তানের আধাসেনা রেঞ্জার্স-রা৷ পরে অবশ্য আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান নওয়াজ শরিফের জামাই৷

    এই ঘটনার পরই সিন্ধ প্রদেশের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়৷ বাহিনীর প্রধানের অপমানের প্রতিবাদে ছুটির আবেদন জানাতে শুরু করেন ছোট বড় পদাধিকারীরা৷ এই ঘটনায় পুলিশ বাহিনীকে অপমান এবং অপদস্থ করা হয়েছে বলেও সিন্ধ পুলিশের পক্ষে ট্যুইট করা হয়৷ দুর্ভাগ্যজনক এই ঘটনায় গোটা বাহিনীর মনোবল ভেঙে গিয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়৷ তবে তাঁকে কারা জোর করে রেঞ্জার্স-এর অফিসে নিয়ে গিয়েছিল বা কারা তাঁকে অপহরণ করেছিল, এ বিষয়ে মুখ খোলেননি সিন্ধ পুলিশের আইজি মুস্তাক মেহর৷ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও এই ঘটনা নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি৷ তবে পুলিশ- সেনা সংঘাতের ঘটনায় প্রবল অস্বস্তিতে পাকিস্তান সরকার৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published:
    0