• Home
  • »
  • News
  • »
  • international
  • »
  • REASONS BEHIND CHINA AND RUSSIA PUTTING SUPPORT TO TALIBAN SUPPORT IN AFGHANISTAN DMG

China Russia supports Taliban: চিন, রাশিয়ার ভোল বদল ! আগ বাড়িয়ে কেন তালিবান শাসনকে সমর্থন দুই দেশের?

আফগানিস্তানে শুরু তালিবানি শাসন৷

বিশ্বের অধিকাংশ দেশেরই তালিবানদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও নিজেদের কোনও না কোনও স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই আফগানিস্তানে তালিবান শাসনকে স্বাগত জানিয়েছে এই দেশগুলি (China Russia supports Taliban)৷

  • Share this:

    #দিল্লি: আফগানিস্তানে তালিবান সরকার এখনও পুরোদস্তুর প্রতিষ্ঠিত হয়নি৷ কিন্তু তার আগেই আফগানিস্তানের নতুন সরকারকে কার্যত স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে চিন এবং রাশিয়া৷ শুধু চিন এবং রাশিয়া নয়, এই তালিকায় রয়েছে ইরান, তুরস্ক এবং উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলিও৷ খতিয়ে দেখলে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেরই তালিবানদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও মূলত নিজেদের কোনও না কোনও স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই আফগানিস্তানে তালিবান শাসনকে স্বাগত জানিয়েছে এই দেশগুলি৷

    চিন

    প্রতিবেশী আফগানিস্তানে যখন ১৯৯৬ সালে প্রথমবার তালিবান সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তাকে সমর্থন জানায়নি চিন৷ কিন্তু এবার মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে পাততাড়ি গোটাতে শুরু করতেই তালিবানদের জন্য সাহায্যে দোর খুলে দেয় চিন৷ ইতিমধ্যেই আফগানিস্তান থেকে ২১০ জন নাগরিককে চার্টার্ড বিমানে দেশেও ফিরিয়ে নিয়েছে চিন৷ তালিবানরা জানিয়ে দিয়েছে, তারাও চিনকে নিজেদের বন্ধু হিসেবে দেখে৷ এমন কি, জিনজিয়াং প্রদেশে সক্রিয় উইঘুর ইসলামিক জঙ্গিদেরও তালিবানরা কোনওরকম সাহায্য করবে না৷ চিনের সমীকরণ খুব সোজা৷ তাঁদের আশঙ্কা, আফগানিস্তানে তালিবান শাসন শুরু হলে সেটি পূর্ব তুর্কিস্তান ইসলামিক আন্দোলনের (ইটিআইএম) ডেরা হয়ে উঠবে৷ ইটিআইএম-এর সঙ্গে আল কায়দার যোগসাজশ রয়েছে৷ যারা চিনের জিনজিয়াং প্রদেশে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ আফগানিস্তানের মাটিকে যাতে চিন বিরোধী কোনও কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার না করা যায়, তা নিশ্চিত করতেই তালিবানদের সঙ্গে সন্ধি চাইছে বেজিং৷

    রাশিয়া

    আফগানিস্তানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সোমবার একধাপ এগিয়ে দাবি করেছেন, পূর্বতন আফগান সরকারের শাসনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় কাবুল অনেকটাই নিরাপদ হয়ে উঠেছে৷ যদিও রাশিয়ায় এখনও তালিবানদের উপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷ রাশিয়া অতীতেও আফগানিস্তানে গিয়ে প্রায় দশ বছর যুদ্ধ করেছে৷ আফগানিস্তানে নিজেদের প্রভাব বিস্তারেরও চেষ্টা করেছে৷ কিন্তু সেভাবে সফল হয়নি৷ এবার আমেরিকার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মস্কো৷ নিজেদের স্বার্থেই তালিবান শাসকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতে আগ্রহী ভ্লাদিমির পুতিন৷ কারণ মস্কোরও আশঙ্কা, তালিবান শাসনে আফগানিস্তানে আইএস এবং আল কায়দার মতো জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠলে রাশিয়ারও সমূহ বিপদ৷

    তুরস্ক

    তুরস্কও ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদ্দেশে তালিবান শাসকদের দেওয়া ইতিবাচক বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছে৷ তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী মেভলুট কাভুসোগলু টেলিভিশন বার্তায় জানিয়েছেন, 'বিদেশি,কূটনীতিক এবং নিজেদের দেশের জনগণের উদ্দেশে তালিবানরা যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই৷ আমরা আশা করি, শুধু মুখের কথায় নয়, কাজেও এসব কিছু করে দেখাবে তালিবানরা৷' এই মুহূর্তে আফগানিস্তানে তুরস্কের ৬০০ সেনা রয়েছে৷ তুরস্ক সরকার সূত্রে খবর, তালিবানরা অনুরোধ করলে কাবুল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা বন্ধে সাহায্য করবে তুরস্কের সেনাবাহিনী৷ যদিও তুরস্ক সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে সেদেশেরই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি৷ তাদের দাবি, দেশের সেনাবাহিনীকে আফগানিস্তানে বিপদের মুখে না ফেলে অবিলম্বে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত তুরস্ক সরকারের৷

    উজবেকিস্তান

    আফগানিস্তানের আর এক প্রতিবেশী উজবেকিস্তান জানিয়ে দিয়েছে, তারা নতুন তালিবান শাসকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছে৷ তবে তাদের দেশের সীমান্তে কোনওরকম অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে যে তারা ছেড়ে কথা বলবে না, সেকথাও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে উজবেক সরকার৷ ইতিমধ্যেই তালিবানদের দাপটে উজবেকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বহু আফগান সেনা৷ উজবেকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, তারা আফগানিস্তানে শান্তির পক্ষে৷ সীমান্তের নিরাপত্তা এবং শান্তি বজায় রাখতে তারা তালিবানদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে বলেও দাবি করেছে উজবেকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক৷

    ইরান

    আফগানিস্তানের সঙ্গে ইরানের ৯০০ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে৷ ইরানে প্রায় ৩৫ লক্ষ আফগান বসবাস করেন৷ তালিবানদের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ইরানও৷ ইরানের নতুন দায়িত্ব নেওয়া অতিরক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি সোমবার দাবি করেছেন, আফগানিস্তানে আমেরিকার পরাজয় যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রতিবেশী দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সূচনা করবে৷ ইরানের দাবি, তারা আফগানিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহী৷ ইব্রাহিম রাইসি বলেন, 'আমেরিকার সামরিক পরাজয় এবং সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আফগানিস্তানে স্বাভাবিক জীবনযাপন, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এনে দিয়েছে৷ '

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: