বিদেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

'পোস্ট প্রেগন্যান্সি' নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য প্রকাশ্যে! সন্তানের জন্মের ৩ বছর পরেও প্রবল মানসিক অবসাদ! সমীক্ষা...

'পোস্ট প্রেগন্যান্সি' নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য প্রকাশ্যে! সন্তানের জন্মের ৩ বছর পরেও প্রবল মানসিক অবসাদ! সমীক্ষা...

গবেষণা বলছে, ছ' মাসের মধ্যে অনেক মায়েদেরই ডিপ্রেশন ফুরোয় না। অনেক দিন পর্যন্ত মায়েদের মনের হালহকিকতের খেয়াল রাখতে হয়। ডায়াবেটিস বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থাকলে ঘন ঘন ডিপ্রেশনের সম্ভাবনা থাকে মায়েদের।

  • Share this:

#ক্যালিফোর্নিয়া: খুদেকে মানুষ করতে ওষ্ঠাগত প্রাণ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন সন্তানকে জন্ম দেওয়ার পরে এমন একটা মানসিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যান নতুন মায়েরা। তৈরি হয় ডিপ্রেশন। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে প্রতি চারজন মায়েদের মধ্যে এক জন পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার। তবে এই নিয়ে কথা বলাটা এখনও সমাজে এক প্রকার ট্যাবু। সাধারণত মনে করা হত সন্তানের জন্মের পরে প্রথম কিছু মাস এর শিকার হন মায়েরা। কিন্তু এখন গবেষণা বলছে, সন্তানের তিন বছর বয়স পর্যন্ত চলতে পারে মাতৃত্বকালীন অবসাদ।  

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ-এর গবেষণা বলছে সন্তান জন্মানোর পর একাধিকবার মাতৃত্বকালীন অবসাদের শিকার হন মায়েরা। ৫০০০ জন মহিলাকে নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। কারও ক্ষেত্রে বেশি, কারও ক্ষেত্রে কম হয় ডিপ্রেশনের মাত্রা। তবে সন্তান জন্মানোর পরে তিন বছর পর্যন্ত চলতে পারে অবসাদ। 

পেডিয়াট্রিক্স জার্নালে প্রকাশিত হওয়া গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে মার্কিন চিকিৎসকেরা সন্তানপ্রসবের পর নতুন মায়েদের এক, দুই, চার এবং ছ'মাসে স্ক্রিনিং করার পরামর্শ দেন। বাচ্চাদের সঙ্গে ওই একই সময়ে মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও কথা বলেন চিকিৎসকেরা। 

গবেষণা বলছে, ছ' মাসের মধ্যে অনেক মায়েদেরই ডিপ্রেশন ফুরোয় না। অনেক দিন পর্যন্ত মায়েদের মনের হালহকিকতের খেয়াল রাখতে হয়। ডায়াবেটিস বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থাকলে ঘন ঘন ডিপ্রেশনের সম্ভাবনা থাকে মায়েদের, বললেন বিজ্ঞানী ডায়ান পুটনিক।  এই অবস্থায় মায়েরা নিজেদের খেয়াল রাখার জন্য কী কী করতে পারেন?

*শারীরিক দিকে নজর দিন: সময় মতো খান এবং খেয়াল রাখুন আপনার ডায়েটে যেন উপযুক্ত প্রোটিন, ভিটামিনসহ সমস্ত স্বাস্থ্যকর উপাদান থাকে। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট সময় বের করুন ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজের জন্য। পর্যাপ্ত ঘুম দরকার আপনারও, সে দিকে খেয়াল রাখতে ভুলবেন না। সাজগোজ করুন, নিজের পোশাকের দিকে, মেক-আপের দিকে নজর দিন নতুন করে। মন ভালো রাখতে এই দিকগুলোও ভীষণ সাহায্য করে।

*মানসিক শান্তিও প্রয়োজন: নিজের ভালোলাগাগুলোর জন্য সময় বের করুন। যেমন বই পড়তে পারেন, গান গাইতে পারেন, নাচ পছন্দ করলে তা-ও করতে পারেন। এই সময়টা নিজের জন্য রাখুন। অন্য কারও কথা ভাববেন না। অথবা আপনার পছন্দের মানুষের সঙ্গে সময় কাটান, তখন সাংসারিক সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলবেন না, ভালো কোনও আলোচনা করুন। সময় বের করে ঘুরতে যেতে পারেন, একা বা কোনও পছন্দের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে। নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করুন, কান্না পেলে কাঁদুন, কান্না চেপে রাখবেন না। তবে যাঁর সঙ্গে আপনি আপনার মনের কথা ভাগ করছেন, খেয়াল রাখবেন, তিনি যেন বিশ্বাসযোগ্য হন।

*সামাজিক সম্পর্কগুলো বজায় রাখুন: মনে রাখুন- আপনার পরিচয় শুধু মা নয়, অন্যান্য সম্পর্কেও রয়েছেন আপনি। নিজের মা-বাবা, ভাই-বোন ,স্বামী, অন্যান্য আত্মীয়ের সঙ্গে সময় কাটান, সেই সম্পর্কগুলোও বজায় রাখুন। বন্ধুদের সঙ্গে কফি ডেটে যেতে পারেন, কিংবা হঠাৎ ডিনার প্ল্যান করে বেরিয়ে পড়তে পারেন। অন্যান্য বাবা-মায়ের সঙ্গেও (যাঁরা সদ্য মা হয়েছেন বা এই পরিস্থিতি কাটিয়ে এসেছেন) কথা বলুন, তা হলে বুঝতে পারবেন এই সমস্যাটা আপনার একার নয়, যে কোনও বাবা-মা এই একই সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। নিজের যত্ন নিন, নিজের কথা ভাবুন, আপনার আশেপাশে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদেরকেও বলুন আপনার সন্তানের বাইরেও আপনার অস্তিত্বের কথা ভাবতে এবং বিভিন্ন কাজে আপনাকে সমর্থন করতে।

Published by: Shubhagata Dey
First published: October 30, 2020, 2:07 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर