পাকিস্তানে বিয়ের ফটোশ্যুটে সিংহ শাবক, শান্ত রাখতে ড্রাগস দিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা

পাকিস্তানে বিয়ের ফটোশ্যুটে সিংহ শাবক, শান্ত রাখতে ড্রাগস দিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা

বিয়ের ফটোশ্যুটের জন্য সরঞ্জাম হিসেবে এক সিংহের বাচ্চার ব্যবহার করলেন পাকিস্তানের এক দম্পতি।

বিয়ের ফটোশ্যুটের জন্য সরঞ্জাম হিসেবে এক সিংহের বাচ্চার ব্যবহার করলেন পাকিস্তানের এক দম্পতি।

  • Share this:

কক#করাচি: ফটোশ্যুট। আর তা যদি বিয়ের হয়, তাহলে আর কথা নেই। আজকাল বিয়ের ফটোশ্যুট নিয়ে নানা ধরনের পাগলামি চোখে পড়ে। কেউ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য, কেউ আবার জনগণের নজরে আসার জন্য, বলা ভালো রাতারাতি জনপ্রিয়তার লোভে ভুলভাল কাণ্ড করে বসেন। মানবিকতা বিসর্জন দিয়ে বেমালুম উৎসবের উল্লাসে মেতে ওঠেন। খানিকটা এরকমই ঘটল পাকিস্তানের এক বিয়েবাড়িতে। বিয়ের ফটোশ্যুটের জন্য সরঞ্জাম হিসেবে এক সিংহের বাচ্চার ব্যবহার করলেন পাকিস্তানের এক দম্পতি। এখানেই শেষ নয়। একাংশের অভিযোগ, ওই সিংহশাবককে শান্ত রাখার জন্য ড্রাগসও দেওয়া হয়। ঘটনাটির ভিডিও ভাইরাল হতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেটিজেনরা। এই অমানবিক কাজের তীব্র নিন্দা করেছেন তাঁরা।

স্থানীয় ও নেটিজেনদের একাংশের কথায়, আসলে সিংহের বাচ্চাকে ব্যবহার করে জনপ্রিয় হতে চেয়েছিলেন দম্পতি। এমনকী, তাকে শান্ত রাখার জন্য কোনও ওষুধও প্রয়োগও করা হয়েছে। যদিও সিংহশাবককে ড্রাগস দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিয়েবাড়ির ফটোশ্যুটের দায়িত্বে থাকা ফোটো স্টুডিও। ইতিমধ্যেই ছোট ছোট কিছু ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হতে শুরু করেছে। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বর-কনে একে অন্যের হাত ধরে বসে রয়েছেন। মাঝে ঘুমিয়ে রয়েছে ওই সিংহের বাচ্চা। ভিডিওতে আবার লেখা হয়েছে #SherKiRani। আর একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উপরে সোফায় বসে রয়েছেন বর-কনে। আর নিচে কার্পেটের উপর অসহায় ভাবে পড়ে রয়েছে সিংহের বাচ্চাটি।

https://twitter.com/wildpakistan/status/1368662296663363588

ঘটনার পর Twitter-এ Save The Wild পেইজের তরফে এই সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কয়েকটি বিষয় নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে পাকিস্তানের এই পশু কল্যাণ সংগঠন। সংগঠনের বক্তব্য, এই ধরনের কাজ চূড়ান্ত অমানবিক ও বেআইনি। কোনও সিংহ শিশুকে এ ভাবে ছবি তোলার সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। লাহোরের একটি স্টুডিওতে বন্দী রাখা হয়েছে এই শাবককে। দয়া করে উদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বেশ কয়েকটি পশু কল্যাণ সমিতি ও সংগঠন মামলা করার পথেও হাঁটছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে নেটিজেনরা একের পর এক ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এক ট্যুইট ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটি অত্যন্ত ভয়ানক ও নির্মম কাজ। কারও খুশির জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ নিন্দনীয়। আর এক ব্যবহারকারীর কথায়, এই ধরনের কাজ অমানবিকতার পরিচয়। নবদম্পতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। আপাতত ন্যায় বিচারের দাবিতে সরব গোটা নেটদুনিয়া!

Published by:Rukmini Mazumder
First published: