corona virus btn
corona virus btn
Loading

প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নওয়াজ শরিফ

প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নওয়াজ শরিফ

প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নওয়াজ শরিফ

  • Share this:

#ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন নওয়াজ শরিফ ৷ পানামা দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত নওয়াজ শরিফ ৷ এর জেরে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে বরখাস্ত করার দেয় দিয়েছে পাক সুপ্রিম কোর্ট ৷ একইসঙ্গে শরিফের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত ৷ এরপরই তিনি নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন ৷

পানামা পেপার্স তদন্তে নাম উঠেছিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ৷ ২০১৫ সালে পানামার ল ফার্ম মোসাক ফনসেকার কিছু নথি ফাঁস হয়ে আলোড়ন পড়ে যায় গোটা বিশ্বে। তাতে বিভিন্ন বিদেশি সংস্থায় রাজনীতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রের প্রথম সারির ব্যক্তিত্বদের বিনিয়োগ নিয়ে তথ্য ছিল। পানামা নথি কেলেঙ্কারি বা পানামাগেটে নাম জড়ায় পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের গোটা পরিবারের। বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে শরিফ-পরিবার লন্ডনে প্রচুর সম্পত্তি কিনেছেন বলে অভিযোগ। পাক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তের আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় পাকিস্তানের দুই বিরোধী দল আওয়ামি মুসলিম লিগ আর জামাতে ইসলামি।

পরে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক এ ইনসাফও পৃথকভাবে একটি জনস্বার্থ আবেদন জমা দেয়। পানামা নথি মামলায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই পাক প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে বলেছিলেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আরিফ সঈদ খান খোসা। শীর্ষ আদালতের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এবিষয়ে একমত হয়নি। তাই বিদেশে বিপুল সম্পত্তি ও আয়ের উৎস নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগে শরিফ-পরিবারের বিরুদ্ধে যৌথ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তদন্তকারী দলের রিপোর্ট আগেই জমা পড়েছিল।

শুক্রবার নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী পদের অযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে পাক সুপ্রিম কোর্ট। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, ২০১৩ সংসদীয় নির্বাচনে শরিফ তাঁর মনোনয়নপত্রে সৌদি আরবের একটি সংস্থা থেকে প্রাপ্ত অর্থের কথা গোপন করেছিলেন। আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইশাক দার এবং শরিফের জামাতা ক্যাপ্টেন মহম্মদ সফদরের সাংসদ পদও খারিজ করে দিয়েছেন পাঁচ বিচারপতি। দেশের দুর্নীতিদমন ব্যুরোকে শরিফের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। মামলা রুজু হবে শরিফের দুই ছেলে হাসান ও হুসেন নওয়াজ, মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ শরিফ ও তাঁর স্বামী মহম্মদ সফদরের বিরুদ্ধেও।

সুপ্রিম কোর্টের রায়দানের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন শরিফ। তড়িঘড়ি জরুরি বৈঠকে বসেন শাসকদল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-এনের শীর্ষ নেতৃত্ব ও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা। নওয়াজ শরিফের ভাই তথা পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এমন সঙ্কটের প্রহরেও দল অটুট থাকবে বলে জানিয়েছে পিএমএলএন। সরকারও মেয়াদ শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে বলে আশাবাদী পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।

শীর্ষ আদালতের রায়ে উৎফুল্ল পাকিস্তানের বিরোধী নেতারা। ইমরান খান আদালতের রায়কে বিচারব্যবস্থার জয় বলে মন্তব্য করেছেন। বাইট জাহাঙ্গীর তরীন, মহাসচিব, তেহরিক এ ইনসাফ শরিফকে পাক সংবিধানের বাষট্টির এক ধারায় প্রধানমন্ত্রী পদের অযোগ্য ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আইনজীবীদের মতে, এর ফলে শরিফের রাজনৈতিক জীবনে পূর্ণচ্ছেদ পড়ে গেল। ভবিষ্যতে কোনও নির্বাচনেই লড়তে পারবেন না প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

ছ মাসের মধ্যে শরিফ-পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত। গণতন্ত্রের সঙ্গে কোনওদিনই মধুর সম্পর্ক নেই পাকিস্তানের। সত্তর বছরের ইতিহাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনও সরকারই পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। শরিফের বিতারণ পর্ব আরও একবার প্রমাণ করল, পাকিস্তানে সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে।

First published: July 28, 2017, 7:06 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर