বিদেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

'বাইডেনের সঙ্গে নতুন আমেরিকা গড়ুন', ট্যুইটারে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখলেন বারাক ওবামা !

'বাইডেনের সঙ্গে নতুন আমেরিকা গড়ুন', ট্যুইটারে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখলেন বারাক ওবামা !

বারাক ওবামা জানতেন জো বাইডেনই হতে পারে দেশের নতুন নায়ক। সেই সঙ্গে সহ যোদ্ধা হিসেবে তিনি কমলা হ্যারিসকেই দেখেছিলেন। আজ শুধু বাইডেন বা কমলার স্বপ্ন সত্যি হয়নি, সত্যি হয়েছে বরাক ওবামার স্বপ্নও। সত্যি হয়েছে আমেরিকার মানুষের স্বপ্ন।

  • Share this:

#ওয়াশিংটন: জোসেফ রবিনেট বাইডেন জুনিয়র, যিনি জো বাইডেন হিসেবে পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যিনি ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হয়ে লড়েছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপক্ষে। যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে দুই মেয়াদে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর এবার তিনি ঐতিহাসিক জয় লাভ করেছেন। ট্রাম্পকে হারিয়ে তিনিই আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট। জো বাইডেনের হয়ে প্রচারও করেছিলেন বারাক ওবামা। তাঁর ভোট যে বাইডেনের তরফেই তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন তিনি। বারাক ওবামা জানতেন জো বাইডেনই হতে পারে দেশের নতুন নায়ক। সেই সঙ্গে সহ যোদ্ধা হিসেবে তিনি কমলা হ্যারিসকেই দেখেছিলেন। আজ শুধু বাইডেন বা কমলার স্বপ্ন সত্যি হয়নি, সত্যি হয়েছে বরাক ওবামার স্বপ্নও। সত্যি হয়েছে আমেরিকার মানুষের স্বপ্ন।

আজ এই খুশির মুহূর্তে বাইডেন ও কমলা হ্যারিসকে ট্যুইটারে শুভেচ্ছা জানালেন বারাক ওবামা। তিনি লিখেছেন, " আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে আমাদের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এবং আমি অত্যন্ত খুশির সঙ্গে কমলা হ্যারিস ও ডাগ এমহফকেও অভিনন্দন জানাই। এই নির্বাচনের মতো অভিজ্ঞতা আগে কখনও হয়নি। আমেরিকা এত বেশি মানুষের ভোট এর আগে দেখেনি। যখন সমস্ত ভোট গোনা হয়ে যাবে, প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে একটা ঐতিহাসিক জয় হবে। আমরা ভাগ্যবান যে জোয়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সব যোগ্যতা আছে। আর সে নিজেকে সেভাবেই তৈরি করেছে। কারণ যখন ও জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করবে, তখন ওকে কিছু অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়াতে হবে, যা এর আগে কোনও প্রেসিডেন্টকে করতে হয়নি। যেমন একটা প্যান্ডেমিক সিচুয়েশনের সামনে দাঁড়াতে হবে, একটা ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে দাঁড় করাতে হবে। আমি জানি জো তাঁর কাজ খুবই ভালোভাবে করবে। যারা ওকে ভোট দেয়নি তাঁদের জন্যও ও মন থেকে কাজ করবে। আমি সমস্ত আমেরিকাবাসীদের বলবো জোকে একটা সুযোগ দিন এবং উৎসাহিত করুন। কারণ নির্বাচনের রেজাল্ট দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের দেশ দুটো মতে বিভক্ত। শুধু কমলা বা জোয়ের কাজ শুধু নয় আমাদের নিজেদের করনীয় কাজটাও করতে হবে। আমাদের সবাইকে নিজেদের কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে অন্যদের কথা শুনতে হবে। এবং একসঙ্গে এগোতে হবে। সব সময় আমাদের মনে রাখতে হবে ঈশ্বরের ছত্রছায়ায় আমরা এক দেশ। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই যারা বাইডেনের হয়ে কাজ করেছি। সব আমেরিকবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। এবং যারা এবার প্রথম ভোট দিয়েছে তাঁদেরকেও ধন্যাবাদ। কারণ তোমাদের মত একটা পরিবর্তন এনেছে। এখন এই মুহূর্তকে এনজয় করুন। এর পর ফের নিজের কাজ করুন। গণতন্ত্রকে শক্ত করতে হলে আমাদের সব সময় নিজেদের সমস্যা নিয়ে ভাবতে হবে। শুধু মাত্র নির্বাচনের সময় নয় সব সময় দেশ নিয়ে ভাবতে হবে। মিশেল এবং আমি দু'জনেই আমাদের নতুন প্রেসেডেন্টকে সব রকম ভাবে সাহায্য করবো।"

প্রসঙ্গত, জো বাইডেনের জন্ম ১৯৪২ সালের ২০ নভেম্বর পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের স্ক্রানটনে। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় বাইডেন বেড়ে ওঠেন স্ক্রানটন, নিউ ক্যাসল কাউন্টি ও ডেলাওয়ারের মধ্যেই। বাবা জোসেফ রবিনেট বাইডেন সিনিয়র আর আইরিশ বংশোদ্ভূত মা ক্যাথরিন ইউজেনিয়া ফিনেগান। ১৯৭০ সালে ডেলাওয়ারের নিউ ক্যাসল কাউন্টির কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হন জো বাইডেন। এরপর তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় তাঁর। ১৯৭২ সালের নভেম্বরে তৎকালীন জনপ্রিয় রিপাবলিকান সিনেটর স্যালেব বগসের বিপক্ষে ডেমোক্রেটিক দল থেকে প্রার্থী হন তিনি। তারপর নাম লেখান ইতিহাসে। মাত্র ৩০ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী পঞ্চম সিনেটর নির্বাচিত হন। ডেলাওয়ার থেকে মোট ছয়বার সিনেটর নির্বাচিত হন জো বাইডেন। সিনেটের বিচার কমিটিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা আইনসহ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়ন করেন তিনি। ২০০৭ সালে আবার নির্বাচনে দাঁড়ান। সেবার বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হন এবং রানিংমেট হিসেবে বেছে নেন বাইডেনকে। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।

Published by: Piya Banerjee
First published: November 8, 2020, 1:15 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर