পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমকে চোখরাঙানি, সামরিক বাহিনীর সমালোচনা করলেই যেতে হবে জেলে!

পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমকে চোখরাঙানি, সামরিক বাহিনীর সমালোচনা করলেই যেতে হবে জেলে!
photo/the dawn

সম্প্রতি দেশের সংবাদমাধ্যমকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশই রয়ে গেল পাকিস্তান। কারণ দেশটির সেনাবাহিনীর সমালোচনা করায় অনেক লেখককে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

  • Share this:

    #করাচি: মনে করা হয়েছিল নওয়াজ শরিফ সরে যাওয়ার পর উন্নতি হবে পাকিস্তানের। দেশকে বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক ইমরান খান যখন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন তখন সবদিক থেকেই দেশটির উন্নতি আশা করা গিয়েছিল। কিন্তু হয়েছে ঠিক বিপরীত। শরিফের আমলের থেকেও খারাপ অবস্থা পাকিস্তানের। মুদ্রাস্ফীতি চরমে, করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সরকার, চিনের কথায় দিন রাত চলতে চলতে ইমরান খান সরকার দেশের মানুষকে প্রায় গলা টিপে ধরেছে। সম্প্রতি দেশের সংবাদমাধ্যমকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশই রয়ে গেল পাকিস্তান। কারণ দেশটির সেনাবাহিনীর সমালোচনা করায় অনেক লেখককে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হচ্ছে। পাকিস্তান ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট ২০১৬ (পিইসিএ) -এর আওতায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    সত্যি কথা বললেই সরকারের বিরাগভাজন হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। অনেক ক্ষেত্রে চ্যানেল বা সংবাদপত্র বন্ধের হুমকির পাশাপাশি জোর করে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে সাংবাদিকদের চাকরি। পিইসিএকে মানুষের ঠোঁট চেপে ধরার চূড়ান্ত হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়। সম্প্রতি এই আইনটিতে আবার নতুন একটি ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে। সেই ধরায় বলা হয়ছে, যাঁরা পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে উপহাস করে, তাঁদের নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে কিংবা তাঁদের সুনাম নষ্ট করে, তাঁদের দুই বছরেরও বেশি সময় কারাদণ্ড দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে তিন হাজার ১৮ মার্কিন ডলার জরিমানাও করা হবে। খবরটি জার্মান সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর সামনে এসেছে পাকিস্তান সেনার আসল চেহারা। আসলে ভারত বা অন্য গণতান্ত্রিক দেশে সরকার সেনা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু পাকিস্তানে সেনাবাহিনী এবং আইএসআই সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    কিন্তু সবচেয়ে মজার বিষয় হল যাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, ঠিক কী কারণে করা হচ্ছে সেটা পরিষ্কার করে বলা হচ্ছে না। কে বা কারা এফআইআর দায়ের করছেন কোর্টে শুনানি চলার সময়ও গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির কাছে সেটা স্পষ্ট নয়। পাকিস্তানি ডিজিটাল সংস্থা 'বলো ভি'-র উদ্ধৃতি দিয়ে ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, ২০০৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কন্টেন্ট ব্লক করা এবং সরিয়ে দেওয়ার ৮৪টি ঘটনা ঘটেছে। ২০০৬ সাল থেকে সরকার ডিজিটাল সাংবাদিকদেরও টার্গেট করা শুরু করেছে।

    শুধুমাত্র ২০০৬ সাল থেকে একহাজার ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। সব মিলিয়ে মুক্ত এবং স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক জিন্নার দেশে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ২০২০ ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৪৫তম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। ইমরান খান সরকার মুখে অবশ্য দাবি করছে সংবাদমাধ্যমের যথেষ্ট স্বাধীনতা রয়েছে পাকিস্তানে। কিন্তু এই তথ্যের পর এমন দাবি ভন্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: