• Home
  • »
  • News
  • »
  • international
  • »
  • NO ARGUMENT IN BETWEEN INDIA PAKISTAN BUSINESSMEN OVER BASMATI RICE OWNERSHIP SMJ TC

Basmati Rice: বাসমতী চাল কার? হাত মেলাতে রাজি ভারত-পাকিস্তানের বিক্রেতারা!

বাসমতী নিয়ে এত বিবাদ কেন? স্বাদে আর সুগন্ধে ভরা, লম্বা দানার এই চালের জন্মভূমি কোথায়- কাঁটাতারের কোন পারে?

বাসমতী নিয়ে এত বিবাদ কেন? স্বাদে আর সুগন্ধে ভরা, লম্বা দানার এই চালের জন্মভূমি কোথায়- কাঁটাতারের কোন পারে?

  • Share this:

#করাচি/নয়াদিল্লি:

এখন না হয় দুই টুকরো, আগে তো একটাই ছিল! আর সেই ভূখণ্ডের অধিবাসীদের খাদ্যাভ্যাসও মোটের উপরে এক, এখন ভারতই বলি বা পাকিস্তান, দুই দেশই যে অনেক অংশে পেট ভরাতে চালের উপরে নির্ভরশীল, কে অস্বীকার করবে? তার মাঝে বাসমতী নিয়ে এত বিবাদ কেন? স্বাদে আর সুগন্ধে ভরা, লম্বা দানার এই চালের জন্মভূমি কোথায়- কাঁটাতারের কোন পারে?

এখন ইতিহাসের পথে যদি হাঁটতে হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে সাহিত্যে বাসমতীর প্রথম উল্লেখ রয়েছে হীর-রনঝার অমর প্রেমকথায়, জং জেলার মধ্যযুগীয় কবি ওয়ারিস শাহ (Waris Shah) তাঁর বইতে প্রথম বাসমতী চালের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন। আবার সেখান থেকে নেমে এসে যদি অপেক্ষাকৃত আধুনিক যুগে দাঁড়াতে হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে বাসমতী বীজ নম্বর ৩৭০ ব্রিটিশ আমলে ১৯৩৩ বর্তমান পাকিস্তানের পঞ্জাবের কালা শাহ কাকু প্রদেশে প্রথম উৎপন্ন বলে নথিবদ্ধ করা হচ্ছে।

তাহলে ভারত যে ইয়োরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছে বাসমতীর GI লেবেল চেয়ে আবেদন জানিয়েছে, এর ভিত্তিটা কী?

পরিসংখ্যানের সূত্র ধরে এগোলে দেখা যাচ্ছে যে পঞ্জাবের যে অংশ ভারতে পড়েছে এবং যে অংশ পাকিস্তানে পড়েছে, এই দুই ভূখণ্ডেই বাসমতী চাল উৎপন্ন হয়। এবং এই দুই ভূখণ্ড ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও বাসমতী চাল উৎপন্ন হয় না। এই দিক থেকে দেখলে পাকিস্তান সারা বিশ্বে বাসমতী চাল রফতানি করে বছরে প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার ঘরে তোলে, আবার ভারতের ক্ষেত্রে এই উপার্জনের পরিমাণ বছরে ৬.৮ বিলিয়ন। এই পরিসংখ্যান সাফ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে বাসমতী চাল উৎপাদনের নিরিখে এই দেশও মোটেই পিছিয়ে নেই!

তবে ভারত যে আবেদনই করে থাকুক না কেন, সেই ২০০৬ সালেই কিন্তু ইয়োরোপিয়ান ইউনিয়ন ফলনের সূত্রে বাসমতী চাল ভারত এবং পাকিস্তানের যৌথ সম্পদ হিসেবে তকমা দিয়েছে। করাচি এবং নয়াদিল্লির বিক্রেতারাও আপাতত এই পথেই হাঁটতে চাইছেন। তাঁদেরও দাবি- বাসমতী চাল দুই দেশেরই সম্পদ, এটা মেনে নিলে ইতিহাসও নষ্ট হয় না, আবার বাণিজ্যেও গোলযোগ বাঁধে না। নয়াদিল্লির বাসমতী রফতানিকারক বিজয় শেঠিয়া যেমন বিষয়টিকে দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রতিযোগিতা বলেই গণ্য করতে চাইছেন! তাঁর মতে, এই বিষয়ে কোনও বিবাদ থাকা উচিত নয়!

আবার করাচির ফয়জাল আলি ঘাউরির সাফ বক্তব্য, যদি তর্কের খাতিরে ধরে নিতে হয় যে এর উৎপত্তি পাকিস্তানে, তাহলেও কোনও বিশেষ এক দেশের এর স্বত্ব পাওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, দুই দেশেই প্রভূত পরিমাণে এখন বাসমতী চাল উৎপন্ন হয়, বর্তমানের নিরিখে এক্ষেত্রে দুই দেশের কারও দাবিই ন্যূন নয়, তাই দুই দেশেরই যৌথ স্বত্ব স্বীকার করাতেই একমাত্র বিবাদের নিষ্পত্তি হতে পারে!

First published: