Kami Rita: নিজেই ভাঙলেন নিজের রেকর্ড! এই নিয়ে ২৫ বার এভারেস্ট জয় নেপালি শেরপা কামি রিতার!

কামি রিতা।

বছরের শেষের দিকে যদি অন্য অভিযাত্রীরা আসেন, তাঁদের কথা চিন্তা করে বরফ ঢাকা পথে দড়ি লাগিয়ে এসেছেন তাঁরা।

  • Share this:

#কাঠমান্ডু: এভারেস্ট হোক বা অন্য কোনও দুর্গম পাহাড়, জয় করার সময় অভিযাত্রীদের সঙ্গে থাকেন দক্ষ শেরপারা। শহরের গলিপথের মতোই তাঁদের কাছে পাহাড়ের শৃঙ্গে পৌঁছে যাওয়ার রাস্তা চেনা থাকে। অভিযাত্রী পাহাড়ের শীর্ষে পৌঁছে নিজের দেশের পতাকা পুঁতে দেন মাটিতে। তবে সে অর্থে যোগ্য সম্মান পান না শেরপারা। কিন্তু কিছু শেরপা থাকেন যাঁদের কাছে পাহাড় জয় করাটা একটা নেশার মতো। সেরকমই একজন শেরপা হলেন কামি রিতা (Kami Rita)। যিনি এক-আধবার নয়, এই নিয়ে ২৫ বার এভারেস্ট জয় করে ফিরে এলেন।

গত শুক্রবার কামি ও আরও এগারো জন শেরপা ছ’টা নাগাদ এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন। এই খবরে সিলমোহর দিয়েছেন ডিপার্টমেন্ট অফ ট্যুরিজম-এর মুখপাত্র মীরা আচার্য।

এই বছরে কামির দলই প্রথমবার শৃঙ্গ জয় করল। বছরের শেষের দিকে যদি অন্য অভিযাত্রীরা আসেন, তাঁদের কথা চিন্তা করে বরফ ঢাকা পথে দড়ি লাগিয়ে এসেছেন তাঁরা। এতে অন্য অভিযাত্রীদের পথ চিনে নিতে সুবিধা হবে।

সাধারণত প্রতি বছর অভিযাত্রীরা নেপাল ও চিন, এই দুই দেশের অন্তর্গত অংশ দিয়ে পাহাড়ে চড়া শুরু করেন। এভারেস্টের উত্তর অংশ পড়ে চিনের দিকে আর দক্ষিণ অংশ পড়ে নেপালের দিকে। কিন্তু গত বছর করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য দুই দিক থেকেই পর্বতারোহণ বন্ধ ছিল। তবে করোনা এখনও অত্যন্ত তীব্র গতিতে ছুটে চলেছে। তা স্বত্বেও নেপালের দিক থেকে এভারেস্ট যাওয়ার রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে। চিনের দিক থেকে করোনা পজিটিভ হলে তবেই হাতে গোনা কয়েকজনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে একান্ন বছরের কামি ১৯৯৪ সালে প্রথমবার এভারেস্ট জয় করেন। এর পর থেকে প্রায় প্রতি বছরেই তিনি এভারেস্ট জয় করে ফিরে আসেন। অন্যান্য ইচ্ছুক অভিযাত্রীদের সুরক্ষিত রেখে তাঁদের পথ দেখিয়ে এভারেস্টে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও নেন অনায়াসে। কামির বাবাও একজন সুদক্ষ শেরপা ছিলেন। এভারেস্ট ছাড়াও তিনি জয় করেছেন মানসলু, লোৎসে ইত্যাদি শৃঙ্গ। মে মাসে এই অঞ্চলের খামখেয়ালি আবহাওয়া একটু হলেও ভালো থাকে, তাই এই সময়েই বেশি মানুষ এভারেস্টের টানে ছোটেন।

২০১৫ সালে একবার তুষার ঝড়ের কবলে পড়েছিলেন কামি। এতে তিনি বেঁচে গেলেও মারা যান ১৯ জন সহ অভিযাত্রী। তার পর থেকেই কামির বাড়ি থেকে প্রবল চাপ আসে যে এবার পাহাড়ে চড়া বন্ধ করতে হবে। প্রথমে রাজি হলেও পরে বেঁকে বসেন শেরপা। হিমালয়ের টান কী এত সহজে এড়ানো যায়!

Published by:Raima Chakraborty
First published: