মঙ্গল গ্রহের মাটি ছুঁল 'পারসিভিয়ারেন্স রোভার', 'রহস্যময়ী' লাল গ্রহের প্রথম ছবি দেখল বিশ্ব

মঙ্গল গ্রহের মাটি ছুঁল 'পারসিভিয়ারেন্স রোভার', 'রহস্যময়ী' লাল গ্রহের প্রথম ছবি দেখল বিশ্ব
নাসার মঙ্গলযান।

দীর্ঘ সাত মাসের যাত্রা শেষ হল। মঙ্গলের মাটিতে সফলভাবে অবতরণ করল নাসার মহাকাশযান 'পারসিভিয়ারেন্স রোভার'।

  • Share this:

    #ওয়াশিংটন: দীর্ঘ সাত মাসের যাত্রা শেষ। আবারও ইতিহাস গড়ল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA (National Aeronautics and Space Administration)। মঙ্গলের মাটিতে সফলভাবে অবতরণ করল নাসার মহাকাশযান 'পারসিভিয়ারেন্স রোভার'। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারী ভারতীয় সময় মধ্যরাতের ঠিক পর থেকেই মঙ্গল গ্রহে মঙ্গলযান নামার প্রস্তুতি শুরু হয়। ঠিক ৭ মিনিটের রোমহর্ষক সময়ের পর রাত্রি ২.২৫ মিনিট নাগাদ মঙ্গলের মাটি ছোঁয় যানটি। এরপরেই বিশ্ব সাক্ষী রইল রহস্যে মোড়া লালগ্রহের প্রথম ছবির। এ বারে প্রাণের খোঁজে সন্ধান চালাবে সে।

    ইতিমধ্যেই মঙ্গলের ছবি পাঠাতে শুরু করেছে রোভার। প্রথম ছবিটি বিশ্বের মানুষের জন্য ট্যুইট করে নাসা। লেখা হয়, “Hello, world. My first look at my forever home.”

    রোভার অবতরণের সময় প্রতিটা মুহূর্ত গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলেন এই বিশাল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা। কারণ যে কোনও পাহাড়ে ধাক্কা লেগে ভেঙে পড়তে পারত নাসার ল্যান্ডার ও রোভার। এমনকি পাহাড়ের খাঁজে আটকে গিয়ে বিকল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এক্কেবারে সফলভাবে অবতরণ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে সব উৎকণ্ঠা কাটিয়ে ঠিক যে মুহুর্তে রেডিও সিগন্যাল ল্যান্ডিং সফল হয়, উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভাঙে। এ দিন রোভারের অতরণের আগের উহুরত পর্যন্ত নিজের অফিসে টিভির  পর্দায় চোখ রেখেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সফল অবতরণে পরে বিজ্ঞানীদের ট্যুইট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। লেখেন, "আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল বিজ্ঞান আর আমেরিকার মানুষের চেষ্টায় কোনও কিছুই অসম্ভব নয়।"

    NASA-র তরফে জানানো হয়েছে, প্রায় ৯ বছর ধরে মঙ্গলের মাটিতে থাকবে  'পারসিভিয়ারেন্স রোভার'। সেখান থেকে ৩০ ধরনের পাথর এবং মাটির নমুনা সংগ্রহ করবে সে। এরপর ২০৩০ সাল নাগাদ ফের পৃথিবীতে ফিরে আসবে। নাসার বিজ্ঞানীদের আশা, রোভার ফিরে এলে খুলে যেতে পারে নতুন দিগন্ত।  'পারসিভিয়ারেন্স রোভার'-র দুটি লম্বা হাত রয়েছে, তাতে লাগান রয়েছে ১৯টি ক্যামেরা। পাশাপাশি, কোনও শব্দ বা হাওয়ার অস্তিত্ব রয়েছে কিনা বুঝতে রয়েছে মাইক্রোফোন। এ ছাড়াও তার সঙ্গে পাঠানো হয়েছে মাটি কাটা, পাথর সংগ্রহ করে সংরক্ষণের একাধিক যন্ত্রাদি।

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: