বৃহস্পতির চাঁদ গ্যানিমেডে এফএম রেডিও সিগন্যাল, ধরা পড়ল NASA-র স্পেসক্রাফ্টে!

বৃহস্পতির চাঁদ গ্যানিমেডে এফএম রেডিও সিগন্যাল, ধরা পড়ল NASA-র স্পেসক্রাফ্টে!
মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্পেসক্রাফ্টের মধ্যে এমন কিছু আর্ট টেকনোলজি রয়েছে, যা বৃহস্পতির অভিকর্ষজ টান, তড়িৎ-চুম্বকীয় ক্ষেত্র, বৃহস্পতির ভূপৃষ্ঠের নানা উপদান সহ একাধিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম।

মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্পেসক্রাফ্টের মধ্যে এমন কিছু আর্ট টেকনোলজি রয়েছে, যা বৃহস্পতির অভিকর্ষজ টান, তড়িৎ-চুম্বকীয় ক্ষেত্র, বৃহস্পতির ভূপৃষ্ঠের নানা উপদান সহ একাধিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম।

  • Share this:

#ওয়াশিংটন: এবার বৃহস্পতির চাঁদ গ্যানিমেডে অনুভূত হল রেডিও সিগনাল। আর সম্প্রতি সেই তরঙ্গ চিহ্নিত করল NASA-র একটি স্পেসক্রাফ্ট। সাধারণত, রেডিও তরঙ্গ বা FM সিগন্যাল কোনও জীব থাকার ইঙ্গিত বা যোগাযোগের বিষয়টিকে তুলে ধরে। এর জেরে অনেকেই বৃহস্পতির চাঁদে এলিয়েনের অস্তিত্ব নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন। তবে জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন মহাকাশ-বিজ্ঞানীরা স্বয়ং। তাঁদের কথায়, আপাতত এরকম কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতির কোনও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার জেরেই এই রেডিও তরঙ্গের উৎপত্তি।

NASA-র তরফে জানা গিয়েছে, JUNO নামের এক স্পেসক্রাফ্টে ধরা পড়েছে এই এফএম রেডিও সিগন্যাল। বৃহস্পতির কক্ষপথ ধরেই প্রদক্ষিণ করছিল মহাকাশযানটি। এমন সময়ে বৃহস্পতির চাঁদ গ্যানিমেড (Ganymede) থেকে তরঙ্গের বিষয়টি অনুধাবন করতে সক্ষম হয় JUNO। উল্লেখ্য বৃহস্পতির ৭৯টি চাঁদের মধ্যে অন্যতম চাঁদ হল গ্যানিমেড। এর আগে কখনও এই চাঁদ থেকে কোনও রকম তরঙ্গ বা এফএম সিগন্যাল ধরা পড়েনি। তাই ক্রমেই জল্পনা বাড়ছে।

মহাকাশ-বিজ্ঞানীদের কথায়, মূলত ইলেকট্রন থেকে এই ধরনের তরঙ্গ বা সিগন্যাল সৃষ্টি হয়। এই গ্রহে হ য়তো কোনও প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটে থাকবে। আর এর জেরেই এমন তরঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে সাইক্লোট্রন ম্যাসার ইনস্ট্যাবিলিটি (cyclotron Maser Instability) নামে এক প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। সাধারণত কোনও তড়িৎ-চুম্বকীয় ক্ষেত্রে ঘটে থাকে এই ধরনের প্রক্রিয়া। এর জেরে ইলেকট্রনের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। আর আশপাশের এলাকায় একটি ফ্রিকোয়েন্সি অনুভূত হয়। JUNO স্পেসক্রাফ্টটি সেই ফ্রিকোয়েন্সি ধরতে সক্ষম হয়েছে।


প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে নিউ ফ্রন্টিয়ার্রস প্রোগ্রামের (New Frontiers Program) অধীনে মহাকাশে JUNO পাঠিয়েছিল NASA। এই প্রোগ্রামের অধীনে একাধিক মিশন ছিল। প্রোগ্রামের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, সম্পূর্ণ সৌরজগতে অভিযান চালানো। নানা গ্রহের বিষয়ে বিশদে জানা। এককথায় বলতে গেলে আমাদের সৌরমণ্ডল সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করতেই এই প্রোগ্রামের সূচনা করে সংশ্লিষ্ট মহাকাশ সংস্থা। সেই সূত্রেই JUNO নামের এই স্পেসক্রাফ্ট বৃহস্পতির কক্ষপথের দিকে এগিয়ে যায়। বৃহস্পতির উপরে নজরদারি চালাতে শুরু করে। কী ভাবে এই বৃহস্পতি গ্রহ তৈরি হয়েছে, কী ভাবে তা বর্তমানে রূপে এল, এমন একাধিক বিষয় ধীরে ধীরে জানার চেষ্টা করা হয়। ২০১৬ সালে বৃহস্পতির কক্ষপথে প্রবেশ করে JUNO।

মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্পেসক্রাফ্টের মধ্যে এমন কিছু আর্ট টেকনোলজি রয়েছে, যা বৃহস্পতির অভিকর্ষজ টান, তড়িৎ-চুম্বকীয় ক্ষেত্র, বৃহস্পতির ভূপৃষ্ঠের নানা উপদান সহ একাধিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম।

Published by:Piya Banerjee
First published: