সরকার-সেনার দ্বন্দ্বের জেরে আটক অং সান সু চি, মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান

সরকার-সেনার দ্বন্দ্বের জেরে আটক অং সান সু চি, মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান
রবিবার ভোরে, তামিলনাড়ুর পন্নেরি থেকে উদ্ধার করা হল এক মাসেরও কম বয়স একটি সদ্যজাত শিশু কন্যাকে।

রবিবার ভোরে, তামিলনাড়ুর পন্নেরি থেকে উদ্ধার করা হল এক মাসেরও কম বয়স একটি সদ্যজাত শিশু কন্যাকে।

  • Share this:

#মায়ানমার: ভোট শেষ হয়েছে সম্প্রতি। জয় হয়েছে গণতন্ত্রের। কিন্তু সেই ফল মানতে চায়নি মায়ানমারের সেনাবাহিনী। শোনা যাচ্ছিল, ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছিল তারা। এই নিয়ে সরকার-সেনার দ্বন্দ্বও চলছিল। অবশেষ সেই ঘটনারই নাটকীয় ভাবে ছন্দপতন হল গতকাল রাতে। ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে সরকার-সেনার দ্বন্দ্বের জেরে ক্ষমতা হারালেন মায়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি (Aung San Suu Kyi)। গতকাল রাতেই আটক করা হয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি আটক করা হয়েছে রাষ্ট্রপতিকেও। ফেলে দেওয়া হয়েছে সেখানকার সরকার, বদলে ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। গতকাল রাতেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিয়াওয়াডি টিভিতে ঘোষণা করা হয়, আপাতত এক বছরের জন্য মায়ানমারের ক্ষমতায় সেনাবাহিনী।

কী ভাবে হল সূত্রপাত?

বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মায়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশ কয়েকদিন ধরেই এই নিয়ে সরকার ও সেনার মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেনাবাহিনীর অভিযোগ, ভোটে জালিয়াতি করেছে বর্তমান সরকার ও তার ফলে তারা সেই সরকারকে না মানার নিদান দেয়। এবং ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি পার্টি চালিত সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বলেও খবর পাওয়া যায়। ওঠে সামরিক অভ্যুত্থানের কথা। একই সঙ্গে সাঁজোয়া গাড়ির আধিক্যে সেই সম্ভাবনাও বাড়তে থাকে। কিন্তু সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে গতকাল ও তার আগের দিনও বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। কিন্তু সব জল্পনা, গুজব, আলোচনায় ইতি টেনে গতকাল গভীর রাতে হঠাৎই অশান্তি শুরু হয় এবং পরে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী।


পুরো ঘটনাটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির মুখপাত্র মিও নিওন্ট (Myo Nyunt)। তাঁকে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করা হয় এবং যার উত্তরে পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে স্পষ্ট হয়।

কী পরিস্থিতি বর্তমানে মায়ানামারের?

মিও নিওন্ট জানান, গতকালই অং সান সু চি-কে আটক করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি-সহ আরও বেশ কয়েকজন নেতা-নেত্রীকেও আটক করেছে সেনাবাহিনী। আপাতত তাঁরা গৃহবন্দী।

তা হলে কি সত্যই মায়ানমারের ক্ষমতা হারাচ্ছে দল?

তাঁর উত্তর, পরিস্থিতি যে দিকে এগিয়েছে, তাতে আগামী একবছরের জন্য মায়ানমারের ক্ষমতায় সেনাবাহিনীই থাকতে চলেছে।

নভেম্বর ২০২০-তে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি। ২০১৫ সালে সেনাবাহিনীর হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার পর থেকে তারা ছিল অন্যতম ক্ষমতাশালী দল। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। ২৯ জানুয়ারি অর্থাৎ শুক্রবার মায়ানমারের ইন্টারন্যাশনাল মিশনের তরফে সেনাবাহিনীর কাছে আবেদন জানানো হয়, তারা যেন গণতান্ত্রিক কার্যকলাপকে না আটকায়। কিন্তু তার পরও এই ঘটনা ঘটে।

মায়ানমারের এই পরিস্থিতি নিয়ে মত প্রকাশ করেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জেন সাকি জানান, মায়ানমারে যে ভাবে সামরিক বাহিনী গণতন্ত্রের উপর আঘাত হেনেছে, তা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন তারা। পুরো বিষয়টির উপর নজর রাখা হয়েছে। যদি নির্বাচনের ফল বদলানোর চেষ্টা করা হয় বা গণতন্ত্রের পথে বাধা দেওয়া হয় তা হলে তার বিরোধিতা করবে আমেরিকা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করবে।

এই ঘটনায় বিবৃতি জারি করেছে মিশনের আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। তারা জানিয়েছে, গণতন্ত্রের পথে বাধা দেওয়া যে চেষ্টা চলছে এবং নির্বাচনের ফল পালটানোর যে চেষ্টা চলছে, তার প্রতিবাদ জানাই আমরা। যারা দেশে শান্তির জন্য গণতন্ত্র আনার কাজ করছে, তাদের পাশে আছি আমরা।

বার্মা রাইটস UK নামের একটি অসরকারি সংগঠনও বিষয়টির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সঙ্গেই বলেছে এই ভাবে একজন নেত্রীকে আটক করা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: