corona virus btn
corona virus btn
Loading

রোজ বাড়ছে মৃত্যু মিছিল ! সারাক্ষণ আতঙ্ক নিয়ে বেঁচে আছি ! স্পেন থেকে লিখছেন মৌটুসি দাস

রোজ বাড়ছে মৃত্যু মিছিল ! সারাক্ষণ আতঙ্ক নিয়ে বেঁচে আছি ! স্পেন থেকে লিখছেন মৌটুসি দাস

যে অসহায় আতঙ্কের মধ্যে আমরা প্রতিটা দিন কাটাচ্ছি সেটা যেন আপনাদের বা ভারতবাসীকে না কাটাতে হয়।

  • Share this:

#বার্সেলোনা: আমি বারাসাতের মেয়ে। বৈবাহিক সূত্রে আট বছর হল বার্সেলোনার বাসিন্দা। সমুদ্র আর পাহাড়ে ঘেরা এই শহর ইউরোপের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। সারাবছর এখানে পর্যটকদের ভিড় থাকে। একানকার মানুষ এমনিই খুব আমোদপ্রিয়। দিন আর রাতের তফাৎ করা মুশকিল এখানে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের জন্য সেই শহর আজ স্তব্ধ ! দিনরাত জনবহুল রাস্তা আজ জনশূন্য।

স্বামী একমাত্র ছেলে আর চাকরি নিয়ে বেশ কেটে যাচ্ছিল। প্রতিবছর গরমের ছুটিতে ছিল দেশে যাওয়া। কিন্তু কি যে হল হঠাৎ ! ১৩ মার্চ থেকে সারাক্ষণ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এক মাসের ওপর হয়ে গেল ঘরে বন্দি। একমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র কেনার জন্য সবচেয়ে নিকটবর্তী সুপার মার্কেটে যাওয়া যাচ্ছে। বিনা কারণে বেরোন বা দূরের কোনও দোকানে গেলেও পুলিশ জরিমানা করছে। এখানকার মানুষ প্রথমদিকে করোনাকে গুরুত্ব না দিলেও এখন অনেকটাই সচেতন। ১৩ তারিখের পর থেকে মৃত্যুর পরিসংখ্যান সবাইকে আরও সচেতন করে দিয়েছে। এই সময় সরকারি বা বেসরকারি চাকুরিজীবি যারা ঘরবন্দি, স্পেন সরকার সকলের জন্য তাদের মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবার কথা বলেছে। যতদিন এই করোনা পরিস্থিতি থাকবে ততদিন এই ব্যবস্থা চলবে। যেহেতু এই শহরের অর্থনীতি কমবেশি ৮০ শতাংশ পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভরশীল সেহেতু মৃত্যুভয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের কথা ভেবেও শঙ্কিত আমরা। স্কুল কলেজ সব বন্ধ থাকলেও, স্কুল থেকে অনলাইনে বাচ্চাদের পড়াশুনো চলছে। এছাড়া কোনও সমস্যা হলে টিউটরের সঙ্গে সরাসরি ভিডিও কলে কথা বলার ব্যবস্থাও করা হয়েছে গত সপ্তাহ থেকে। আমার ছেলে এভাবেই পড়াশুনো করছে।

শহরের মেট্রো ও বাস পরিষেবাও স্বাভাবিক আছে। কোথাও যেতে হলে একটি বিশেষ ফর্ম ডাউনলোড করে ফিলাপ করতে হচ্ছে কারণ ও গন্তব্যস্থল লিখে। এটা না থাকলে পুলিশ ধরলেই জরিমানা। আমাদের প্রত্যেকের জন্য এখানে একটি নিকটবর্তী হাসপাতাল এবং একজন ডাক্তার নির্দিষ্ট করা থাকে কিন্তু স্বাস্থ্য পরিষেবায় চাপ বেড়ে যাওয়ায় সরাসরি সেখানে যাওয়া যাচ্ছে না। এখন এই হাসপাতালের রিসেপশনে ফোন করে শারীরিক অসুস্থতার কথা বিস্তারিত জানাতে হচ্ছে। তার ঘণ্টাখানেক পর সেই ব্যক্তির জন্য নির্দষ্ট ডাক্তার তাকে সরাসরি ফোন করে সব শুনে প্রেসক্রিপশন মেল করে দিচ্ছে বা জরুরি মনে করলে সাথে সাথে হাসপাতাল বা স্পেশালিস্টের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। এগুলোই মোটামোটি আজকের বার্সেলোনার বাস্তব চিত্র। এখনও পর্যন্ত খাবার দাবার বা কোনও জরুরি পরিষেবার সমস্যার সম্মুখিন হইনি বা শুনিনি।

প্রতিদিনের এই একঘেয়েমির মধ্যে অপেক্ষা করে থাকি কখন সন্ধ্যা আটটা বাজবে। আর সবাইমিলে ব্যালকনিতে গিয়ে জরুরি সেবা প্রদানকারীদের জন্য হাততালি দিতে দিতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাবো, হাততালি, নাচগান আর একটু ভাল মন্দ কথা বলে। লকডাউনের প্রথমদিন থেকে সততার সঙ্গে সকল নিয়মবিধি সচেতনভাবে মানার পরও স্পেনের এই ভয়ানক অবস্থা ! সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে প্রতিদিন দেশের যা অবস্থা দেখছি তাতে খুব ভয় হয় । এখনও হয়তো সময় আছে, সচেতন হন এবং সুস্থ থাকুন। যে অসহায় আতঙ্কের মধ্যে আমরা প্রতিটা দিন কাটাচ্ছি সেটা যেন আপনাদের বা ভারতবাসীকে না কাটাতে হয়।

Published by: Piya Banerjee
First published: April 18, 2020, 5:50 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर