ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের কিছু হাড় হিম করা অপারেশন, জানুন

বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ

মোসাদ বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায় ১৯৬০ সালে আর্জেন্টিনা থেকে নাৎ​সি তথা জার্মানি হিটলারের গণহত্যার ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যাডলফ আইখম্যানকে অপহরণ করে ইজরায়েলে নিয়ে আসা এবং বিচারের মুখোমুখি করানোর পর থেকে

  • Share this:

    #তেল আবিব: আমেরিকার সিআইএ নয়, রাশিয়ার কেজিবিও নয়। ইংল্যান্ডের এমআই ৬ কিংবা ভারতের ' র ' নয়। পাকিস্তানের আইএসআই তো শিশু। বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ানক গোয়েন্দা সংস্থার অপর নাম মোসাদ। মোসাদের জন্ম ডিসেম্বর ১৩, ১৯৪৮ সালে; ইজরায়েলের কথিত প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড বেন গোরিয়নের হাতে। বেন গোরিয়ন ছিলেন জায়নবাদের কট্টর হোতা এবং ইজরায়েলে হিব্রু ভাষার প্রবর্তক।

    ১৯৪৮ সালে বেন গোরিয়ন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুভেন সিলোহাকে প্রথম পরিচালক পদে নিযুক্ত করে মোসাদ গড়ে তোলার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন। রুভেন সিলোহা ১৯৪৮ সালে ‘আরব লিগ’-এর সম্মিলিত ইজরায়েল আক্রমণের পরিকল্পনা হস্তগত করতে সক্ষম হন, যা ওই সময়ে ইজরায়েল রাষ্ট্রটিকে জন্মলগ্নের প্রথম ধাক্কা থেকে রক্ষা করেছিল। সেই ধাক্কা সামলানোর পর ইজরায়েল যেমন টিকে গিয়েছিল, তেমনই রুভেন সিলোহার হাতে মোসাদ ক্রমেই সংগঠিত হতে শক্তি সঞ্চয় করল।

    হিব্রু শব্দ ‘আলিহা’র অর্থ হচ্ছে বিশ্বে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা ইহুদিদের ‘প্রমিজড় ল্যান্ড’ ইজরায়েলে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা। ইজরায়েলের নিরাপত্তা বিরোধীদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া ছিল মোসাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। মোসাদ বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায় ১৯৬০ সালে আর্জেন্টিনা থেকে নাৎ​সি তথা জার্মানি হিটলারের গণহত্যার ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যাডলফ আইখম্যানকে অপহরণ করে ইজরায়েলে নিয়ে আসা এবং বিচারের মুখোমুখি করানোর পর থেকে।

    শান্তিকালীন ওই ধরণের অভিযান ছিল অবিশ্বাস্য, যা আজও গোয়েন্দাকাহিনির অন্যতম শীর্ষ অভিযান। এরপর উগান্ডার এন্টেবি বিমানবন্দর থেকে আটক হওয়া যাত্রীদের উদ্ধার, বিশেষ কমান্ডো বাহিনীর গোপন অপারেশনের মাধ্যমে বিশ্বে ঝড় তুলেছিল ইজরায়েলের ওই গুপ্তচর সংস্থা। এই অভিযানের প্রাণ হারান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভাই।

    ১৯৭২ সালে ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর নামক প্যালেস্টাইনের জঙ্গিদের দ্বারা মিউনিখ অলিম্পিকে যোগদানকারী ১১ জন ক্রীড়াবিদকে হত্যার প্রতিশোধে ওই কর্মকাণ্ডে জড়িত একজন বাদে সবাইকে বিভিন্ন দেশে গিয়ে গুপ্তহত্যা করা। হামাস নেতাদের কয়েকজনকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে মোসাদের বিরুদ্ধে। পত্র বোমা পাঠিয়ে হত্যা প্রথম আবিষ্কার করে মোসাদ।

    এছাড়াও ইরাকের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়া এবং ইরানের দুজন বিজ্ঞানীকে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে মোসাদের বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে মোসাদ ইজরায়েল রাষ্ট্রের ফুসফুস। দেশের ভরসা, শত্রুদের সাক্ষাৎ যমদুত। রকেট মোকাবিলার ক্ষেত্রে যেমন ইজরায়েলের আছে আয়রন ডোম, তেমনই মোসাদ রক্ষা করে চলেছে দেশটির অস্তিত্ব। মোসাদ ছাড়া ইজরায়েল কবেই অস্তমিত হয়ে যেত।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: