ডেঙ্গু নির্মূলে অভিনব উদ্যোগ! সংক্রমণে লাগাম টানতে ভরসা এবার 'অলৌকিক' মশা

Representational Image

ট্রায়ালটিতে ওলবাচিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ মিলিয়ন মশার ডিম ব্যবহৃত হয়। প্রতি দু'সপ্তাহে শহরে বালতির জলে ওই ডিম দেওয়া হত।

  • Share this:

#জাকার্তা: ডেঙ্গু, এক ধরণের ভাইরাসঘটিত রোগ। এডিস ইজিপ্টাই (Aedes Aegypti) মশার দ্বারা মানুষের শরীরে এর সংক্রমণ ঘটে। কোনও ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সারা শরীরে অসহ্য ব্যথা-সহ জ্বর, সঙ্গে বমি বমি ভাব, চোখের পিছনে ব্যথা এবং সারা শরীরে র‌্যাশ ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রাণঘাতীও হতে পারে।

বিজ্ঞানীদের দাবি, ‘গ্রাউন্ডব্রেকিং’ পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বর্তমানে ৭৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর জন্য তাঁরা ‘অলৌকিক’ ব্যাকটিরিয়ায় আক্রান্ত কিছু মশা ব্যবহার করেছিলেন, যা ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশার ক্ষমতাকে হ্রাস করে। ডেঙ্গু ভাইরাসকে সমূলে বিনাশ করার লক্ষ্যে এই ট্রায়ালটি অনুষ্ঠিত হয় ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) ইয়োগাকার্টা (Yogyakarta) শহরে।

ওয়ার্ল্ড মসকুইটো প্রোগ্রাম (World Mosquito Programme) টিমের তরফে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে সারা বিশ্ব জুড়ে ছেয়ে গিয়েছে এমনও কোনও ভাইরাসের বিনাশ সম্ভবপর হতে পারে। ৫০ বছর আগে খুব কম মানুষই ডেঙ্গু সম্পর্কে জানতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি একটি নিরলস ধীর-জ্বলন্ত মহামারী হয়ে উঠেছে এবং নাটকীয়ভাবে এই ভাইরাসে সংক্রমিতের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

১৯৭০ সালে, মাত্র নয়টি দেশ মারাত্মক ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সম্মুখীন হয়েছিল, কিন্তু এখন বছরে ৪০০ মিলিয়ন সংক্রমণ রয়েছে। ডেঙ্গুকে “ব্রেক-বোন ফিভার” ও বলা হয়ে থাকে। কারণ এই ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যাক্তিরা পেশী এবং হাড়ে তীব্র ব্যাথা অনুভব করেন।

শত্রুকে ধ্বংস করতে আরেক শত্রু

ট্রায়ালটিতে ওলবাচিয়া ব্যাকটিরিয়াতে (Wolbachia bacteria) সংক্রামিত মশা ব্যবহৃত হয়েছিল। ডাঃ কেটি অ্যান্ডার্স (Dr Katie Anders) তথা অন্যতম গবেষক এই মশাগুলিকে "প্রাকৃতিকভাবে অলৌকিক" (Naturally Miraculous) হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

ওলবাচিয়া মশার ক্ষতি করে না, তবে এটি মানব শরীরের সেই অংশে ছড়িয়ে পড়ে যেখানে ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রবেশ লক্ষ্য করা যায়। ব্যাকটেরিয়াগুলি সংস্থানের জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করে এবং ডেঙ্গু ভাইরাসটিকে তার অনুকৃতি তৈরি করার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি করে। সুতরাং মশা যখন আবার কামড়ায় তখন সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

ট্রায়ালটিতে ওলবাচিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ মিলিয়ন মশার ডিম ব্যবহৃত হয়। প্রতি দু'সপ্তাহে শহরে বালতির জলে ওই ডিম দেওয়া হত। এই পদ্ধতিতে সংক্রামিত মশার জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে সময় লাগে মোট ন’মাস। ইয়োগাকার্টা শহরকে মোট ২৪ টি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয় এবং সংক্রমিত মশার অর্ধেক এই অঞ্চলগুলিতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে (New England Journal of Medicine) প্রকাশিত ফলাফলগুলিতে দেখা গেছে যে পোকামাকড়গুলি মুক্তি পাওয়ার পর ডেঙ্গুতে সংক্রমিতের সংখ্যা ৭৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যাদের হাসপতালে চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল, সেই সমস্ত রোগীদের সংখ্যা ৮৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ডেঙ্গু নির্মূলে এই কৌশলটি এতটাই সফল হয়েছে যে পুরো শহর জুড়ে এই মশাগুলিকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ডেঙ্গু নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে আশেপাশের অঞ্চলে এই প্রকল্পটি শুরু করা হয়েছে।

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: