দেহের ওজন ৩০০ পাউন্ড আর একটা পায়েরই ওজন ১০০ পাউন্ড! বিরল অসুখ নিয়েই ফ্যাশন আইকন মডেল মেহগনি

তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ভেসে আসে পা কেটে বাদ দেওয়ার মতো তথাকথিত সদুপদেশ!

তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ভেসে আসে পা কেটে বাদ দেওয়ার মতো তথাকথিত সদুপদেশ!

  • Share this:

#ওয়াশিংটন: কদর্য উক্তির মুখে তাঁকে পড়তে হয় প্রায়ই! আর সেটাও যে হালফিলে, এমনটা নয়! ছোট থেকেই এমনটা হয়ে আসছে ইউইটেড স্টেটসের ফ্যাশন দুনিয়ার জনপ্রিয় এই মডেলের সঙ্গে। স্কুলে পড়ার সময়ে জুটেছিল যেমন বিকৃতাঙ্গ সারমেয়ীর তকমা, তেমনই আবার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ভেসে আসে পা কেটে বাদ দেওয়ার মতো তথাকথিত সদুপদেশ! খারাপ কি আর লাগে না এই সবে? "নিশ্চয়ই লাগে, তবে এই সবে পাত্তা না দেওয়া ছাড়া আমার কাছে আর উপায়ই বা কী আছে?" পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন মডেল মেহগনি গেটার (Mahogany Geter)।

ছবিতে যেমনটা দেখা যাচ্ছে, মেহগনির একটি পা অস্বাভাবিক রকমের ফোলা! এমনি এমনি তা হয়নি, মেহগনি লিম্ফাডেমা (Lymphedema) নামের এক বিরল অসুখে আক্রান্ত। এই অসুখে শরীরের বিশেষ কোনও এক অংশের কোষে জলীয় পদার্থ জমা হতে থাকে আর তার পরিণামে ওই অংশটি ভয় ধরানোর মতো স্ফীত আকৃতি ধারণ করে।

একেবারে ছোটবেলায় যখন এই অসুখ ধরা পড়েছিল, তখন আর সবার মতো ভয় পেয়েছিলেন মেহগনির মা তিমিকা গেটারও (Timika Geter)। কিন্তু তিনি মন শক্ত করেছিলেন। আর সেটাই যে তাঁর চলার পথে, মাথা উঁচু করে বাঁচার পথে প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সে কথা গর্বের সঙ্গে সবাইকে বলেন মেহগনি। পাশাপাশি বলেন ঠিক কী রকম মানসিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাত্রা করেছিলেন তিনি।

"ছোটবেলায় আমি ভাবতাম যে ঈশ্বর নিশ্চয়ই আমায় অভিশাপ দিয়েছেন। নিজেকে সুন্দর মনে হওয়া তো দূরের কথা, সব সময় হীনম্মন্যতায় ভুগতাম। আমার নিজেকে এই বিশ্বের, এই প্রকৃতির সব চেয়ে কুৎসিত প্রাণী বলে মনে হত। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদতাম। কিন্তু এখন বুঝতে পারি যে আমার মনোবল অসাধারণ বলেই ঈশ্বর আমায় এমন করে তৈরি করেছেন। তিনি জানতেন যে আমি হেরে যাব না। আমি যাতে আমার মতো আরও পাঁচজনের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি, সেই উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি আমায় এই অসুখের উপহার দিয়েছেন", বলছেন মেহগনি।

সন্দেহ নেই, মায়ের সাহচর্য এবং ঈশ্বরের করুণায় মডেল হিসেবে সফল কেরিয়ার গড়ে তুলতে পেরেছেন তিনি, তাঁর বাকি দুই বোন সুস্থ হয়েও যা পারেননি। কিন্তু নিজেকে ঠিক রাখার জন্য মেহগনিকে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি এবং শরীর থেকে জলীয় পদার্থ বের করার ব্যায়ামের উপরে নির্ভর করতে হয়। বেশি করে জল খেতে হয়। তার পরেও মাঝে মাঝেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। যদিও তিনি মুষড়ে পড়েন না। সুস্থ হয়েই সব নেতিবাচকতাকে নস্যাৎ করে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে নানা পোস্টের মাধ্যমে অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এই মডেল।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: