মায়ানমারে ফের ক্ষমতায় সেনাবাহিনী, একাধিক অংশে বন্ধ যোগাযোগ মাধ্যম, খোঁজ নেই সু চি-সহ বেশ কয়েকজনের!

মায়ানমারে ফের ক্ষমতায় সেনাবাহিনী, একাধিক অংশে বন্ধ যোগাযোগ মাধ্যম, খোঁজ নেই সু চি-সহ বেশ কয়েকজনের!
প্রায় ৫০ বছর সেনা শাসনে ছিল মায়ানমার। ১৯৬২ থেকে চলা সেই শাসন শেষে ২০১১ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। এই গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাকালে অন্যতম বড় দল ছিল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বা NLD। যার অন্যতম প্রধান অং সান সু চি (Aung San Suu Kyi)। তাঁকেই গতকাল আটক করে সেখানকার সেনাবাহিনী। শোনা যাচ্ছিল সেনা-অভ্যুত্থান হতে চলেছে। সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ে আজ সকালে। মায়ানমারের মিয়াওয়াডি টিভিতে ঘোষণা করা হয়, এক বছরের জন্য দেশের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে সেনাবাহিনী।

প্রায় ৫০ বছর সেনা শাসনে ছিল মায়ানমার। ১৯৬২ থেকে চলা সেই শাসন শেষে ২০১১ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। এই গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাকালে অন্যতম বড় দল ছিল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বা NLD। যার অন্যতম প্রধান অং সান সু চি (Aung San Suu Kyi)। তাঁকেই গতকাল আটক করে সেখানকার সেনাবাহিনী। শোনা যাচ্ছিল সেনা-অভ্যুত্থান হতে চলেছে। সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ে আজ সকালে। মায়ানমারের মিয়াওয়াডি টিভিতে ঘোষণা করা হয়, এক বছরের জন্য দেশের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে সেনাবাহিনী।

  • Share this:

#মায়ানমার: প্রায় ৫০ বছর সেনা শাসনে ছিল মায়ানমার। ১৯৬২ থেকে চলা সেই শাসন শেষে ২০১১ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। এই গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাকালে অন্যতম বড় দল ছিল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বা NLD। যার অন্যতম প্রধান অং সান সু চি (Aung San Suu Kyi)। তাঁকেই গতকাল আটক করে সেখানকার সেনাবাহিনী। শোনা যাচ্ছিল সেনা-অভ্যুত্থান হতে চলেছে। সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ে আজ সকালে। মায়ানমারের মিয়াওয়াডি টিভিতে ঘোষণা করা হয়, এক বছরের জন্য দেশের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে সেনাবাহিনী।

জানা গিয়েছে, গতকাল গভীর রাতে দেশের নেত্রী তথা স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি-কে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বা আটক করে রাখা হয়েছে, তা জানা যায়নি এখনও। তাঁর সঙ্গেই আটক করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ত-সহ একাধিক প্রধান সারির নেতা-নেত্রীদের।

দেশের বেশিরভাগ এলাকায় ফোন, ইন্টারনেট সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর ভোরে কার্যত কোনও যোগাযোগ ছাড়া ঘুম ভেঙেছে মায়ানমারবাসীর।


ভোট শেষ হয়েছে গত বছরের নভেম্বরে। ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসে সু চি-র NLD। তারা ৮৩ শতাংশ ভোট পায়। উল্টো দিকে সেনাবাহিনীর মদতপুষ্ট ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ৪৭৬টি আসনের মধ্য়ে মাত্র ৩৩টিতে জয়ী হয়। যা তারা কখনও হয় তো আশাও করেনি। এর পরই ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ তুলতে শুরু করে তারা। এদিকে সেই ফল মানতে চায়নি মায়ানমারের সেনাবাহিনী। শোনা যাচ্ছিল, ক্ষমতা দখলের চেষ্টা শুরু হয়েছিল। ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টাও চলছিল অনেক দিন ধরেই। অবশেষে সেই ঘটনারই নাটকীয় ভাবে ছন্দপতন হল গতকাল রাতে।

যদিও সামরিক অভ্যুত্থানের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে গতকাল বা তার আগে পর্যন্ত সেনাবাহিনীর তরফে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। কিন্তু সব জল্পনা, গুজব, আলোচনায় ইতি টেনে গতকাল গভীর রাতে হঠাৎই অশান্তি শুরু হয় এবং পরে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী।

পুরো ঘটনাটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির মুখপাত্র মিও নিওন্ত। তিনি জানান, গতকালই অং সান সু চি-কে আটক করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি-সহ আরও বেশ কয়েকজন নেতা-নেত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মনে করা হচ্ছে তাঁদেরও আটক করেছে সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি যে দিকে এগিয়েছে, তাতে আগামী একবছরের জন্য মায়ানমারের ক্ষমতায় সেনাবাহিনীই থাকতে চলেছে।

আজ সকালে সু চি-কে আটক করার পর পার্লামেন্টে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেখা যায়, সেই রাস্তায় পাহারা হিচ্ছে সেনাবাহিনীর আধিকারিক।

মায়ানমারের এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বীগ্ন আর্ন্তজাতিক স্তরের কূটনীতিবিদ ও রাষ্ট্রপ্রধানরা।

এই ঘটনাটি নিয়ে মায়ানমারের এক নামী ঐতিহাসিক থান্ট-মিন্ট-ইউ ট্যুইটার (Twitter)-এ লেখেন, এক অন্যরকম ভবিষ্যতের দরজা খুলল।

কীভাবে ক্ষমতায় এল সেনাবাহিনী?

নভেম্বর ৮, ২০২০-তে হওয়া নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ করে সেনাবাহিনী। তাদের অভিযোগ ছিল, এমনকি বর্তমানে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসার পরও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান মিন্ট সুই অভিযোগ তোলেন যে, ওই নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধানদের আটক করার পর মিন্ট সুই বলেন, তাঁদের মনে হয়েছে, এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারেনি রাষ্ট্রপ্রধানরা। তাঁদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে অধিবেশন বন্ধ রাখতে। সে অনুরোধও শোনেনি তাঁরা।

এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানালে সেই অভিযোগ ২৮ তারিখ খারিজ হয়ে যায়। তারা জানায়, ভোটার লিস্টে একই নামের দু'জন থাকা কোনও জালিয়াতির প্রমাণ নয়।

নোবেল জয়ী সু চি মায়ানমারে গণতন্ত্র নিয়ে আসার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। যিনি ১৫ বছর হাউজ অ্যারেস্টে ছিলেন এবং বহু বছর ধরে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে তাঁর দল জেতার পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এই ঘটনাটি নিয়ে বার্মা রাইটস UK নামের একটি অসরকারি সংগঠনও বিষয়টির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সঙ্গেই বলেছে এই ভাবে একজন নেত্রীকে আটক করা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন

গতকাল থেকেই দেশের বেশিরভাগ জায়গায় ইন্টারনেট আর ফোনের কানেকশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ ভোর থেকেই কেউ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। সকাল আটটার মধ্যেই দেশের ৭৫ শতাংশ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এমনকি খবর সম্প্রচার করতেও কোথাও কোথাও সমস্যা হচ্ছিল। রেডিও সম্প্রচারে সমস্যা হয়।

এই পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্ক বন্ধ মায়ানমারের সব জায়গায়। মায়ানমার ব্যাঙ্ক অ্যাসোসিয়েশন বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে ইন্টারনেটের জন্য ব্যাঙ্ক বন্ধ রাখা হচ্ছে। যতদিন না ইন্টারনেট সংযোগ ফেরে ততদিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই নিয়ে ইতিমধ্যেই মত প্রকাশ করেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জেন সাকি জানান, মায়ানমারে যে ভাবে সামরিক বাহিনী গণতন্ত্রের উপরে আঘাত হেনেছে, তা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন তারা। পুরো বিষয়টির উপরে নজর রাখা হয়েছে। যদি নির্বাচনের ফল বদলানোর চেষ্টা করা হয় বা গণতন্ত্রের পথে বাধা দেওয়া হয়, তা হলে তার বিরোধিতা করবে আমেরিকা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করবে।

এই ঘটনায় বিবৃতি জারি করেছে মিশনের আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। তারা জানিয়েছে, গণতন্ত্রের পথে বাধা দেওয়া যে চেষ্টা চলছে এবং নির্বাচনের ফল পালটানোর যে চেষ্টা চলছে, তার প্রতিবাদ জানাই আমরা। যারা দেশে শান্তির জন্য গণতন্ত্র আনার কাজ করছে, তাদের পাশে আছি আমরা।

অস্ট্রেলিয়ার তরফেও এই নিয়ে বিবৃতি জারি করা হয়। জানানো হয়, সু চি-কে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মুক্তি দিতে হবে। এবং তাঁর সঙ্গে বাকিদেরও মুক্তি দেওয়ার দাবি জানায় তারা। সেখানকার বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, আমরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এবং ঘটনাটি গুরুত্বদিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমরা সেনাবাহিনীর প্রত্যেককে আইন মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি। যা সমস্যা হয়েছে, তা যেন আইনানুগ ভাবে তারা মিটিয়ে নেন। এই ভাবে কাউকে আটকে রাখা কিন্তু আইন বিরুদ্ধ।

এই ঘটনায় মন্তব্য করেছেন ইন্দোনেশিয়ার বিদেশমন্ত্রকও। তারা জানিয়েছে, সমস্ত নির্বাচনী পার্থক্যকে আইনানুগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সামঞ্জস্যের পর্যায়ে আনা উচিৎ।

হঠাৎ করে এখন কেন এই ঘটনা ঘটল?

২০০৮ সালে জুনতার তরফে একটি সংবিধান রচনা করা হয়। যার মধ্যে ২৫ শতাংশ সিট-ই সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষণ করা হয়। প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, অর্থমন্ত্রক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব রাখা হয় তাদের হাতে।

এই বিষয়ে আমেরিকার এক বিশেষজ্ঞ বলেন, দেশের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক নিজেদের হাতে রাখায় সেনাবাহিনীর কাছে এমনিতেই প্রচুর ক্ষমতা ছিল। তাই এখানে যে কোনও মুহূর্তে যা কিছু করতে পারে তারা।

যদিও কিছু দিন আগে পর্যন্ত তারা জানিয়েছিল, আইন মেনেই কাজ করবে তারা।

যখন দেশ করোনার মোকাবিলায় ব্যস্ত তখন হঠাৎ এমন ঘটনা বিরাট প্রভাব ফেলবে সেখানকার সমস্ত ক্ষেত্রে। এমনিতেই অত্যাচারী সেনাশাসন দেখেছে মায়ানমার। তার উপরে রয়েছে প্যানডেমিক। এবার আবার তারা ক্ষমতায় আসায় সেখানকার মানুষজনকে ভুগতে হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Published by:Piya Banerjee
First published: