corona virus btn
corona virus btn
Loading

পুরুষালি দেখতে মেয়েদের আবার ধর্ষণ হয় নাকি! দাবি কোর্টের!

পুরুষালি দেখতে মেয়েদের আবার ধর্ষণ হয় নাকি! দাবি কোর্টের!
photo source collected
  • Share this:

#ইটালি: সুজিত সরকারের ছবি 'পিঙ্ক'-এর কথা নিশ্চয় মনে আছে! সেখানে তিনটি মেয়ে চাকরি করার জন্য এক সঙ্গে মুম্বই শহরে বাড়ি ভারা করে থাকত। দোষের মধ্যে তারা একদিন কয়েকজন ছেলের সঙ্গে পার্টি করতে গিয়েছিল। সেখানে মদ্যপানও করেছিল। নিছক মজা করার জন্যই তারা এই আড্ডায় মেতেছিল। কিন্তু তাদের পুরুষ সঙ্গীরা ভেবে নিয়েছিল, এরা যখন মদ খায় পার্টি করে তাহলে এদের সঙ্গে যা খুশি করা যায়। চাইলে ধর্ষণও চলতে পারে। কিন্তু তারা বোঝেনি, মেয়েটি সহজভাবে মিশছে মানেই এই নয় তারা যার তার সঙ্গে বিছানাতেও চলে যাবে। পুরুষরা মেয়েদের স্বাধীনতা মেনে নিতে আজও পারে না। তারা মনের ইচ্ছেই কিছু করলেই বেশ একে নিয়ে তো যা খুশি করা যায় ভেবে নেওয়াটা খুব সহজ। এমনই এক ঘটনা ঘটল ইটালির অ্যানকোনায়। সেখানে যে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয় সে পুরুষালি দেখতে। মহিলাকে দেখতে অত্যন্ত ‘পুরুষালি’। তাই তাঁকে দেখে কোনও পুরুষের আকৃষ্ট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না! যুক্তিটা ছিল এ রকমই।

ইটালির অ্যানকোনার এক আপিল কোর্টে একটি ধর্ষণের মামলার শুনানিতে তিন জন মহিলা বিচারকের বেঞ্চের সামনে অভিযোগকারিণী সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছিলেন ধর্ষণে অভিযুক্তদের মধ্যে এক জন। এমনকি এই ‘যুক্তি’র জোরে ২০১৭ সালের ওই মামলায় রেহাই দেওয়া হয় দুই অভিযুক্তকেই। নির্যাতিতার আইনজীবী সিনজ়িয়া মোলিনারো ফের আবেদন জানান সুপ্রিম কোর্টে। শুক্রবার ইটালির সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় পুনর্বিচারের নির্দেশ দেয়। তখনই প্রকাশ্যে আসে এই তথ্য। এই ‘অদ্ভুত যুক্তি’ কেন মেনে নিল মহিলা বিচারকদের বেঞ্চ— প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। গত সপ্তাহান্ত থেকেই অ্যানকোনার ওই আপিল কোর্টের বাইরে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। ২০১৫ সালের কথা। অ্যানকোনায়পেরু থেকে আসা বছর বাইশের এক তরুণী অভিযোগ করেন, তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার। ডাক্তারি পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ধর্ষণের প্রমাণও মেলে। তাঁর রক্তে উচ্চ মাত্রায় ‘বেনজ়োডায়াজ়েপিন্স’ নামে ঘুমের ওষুধের উপাদানও মিলেছিল। তরুণীর আইনজীবী মোলিনারোর দাবি, সে দিন বিকেলে একটি ক্লাসের পরে স্থানীয় পানশালায় যান নির্যাতিতা। সেখানেই তাঁর পানীয়ে ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিল অভিযুক্তেরা। ২০১৬ সালে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

পরের বছর মামলার শুনানি চলাকালীন আদালতে হাজির হতে পারেননি অভিযোগকারিণী। তিনি তত দিনে ফিরে গিয়েছেন নিজের শহর পেরুতে। বিচারকদের তাই নির্যাতিতার একটি ছবি দেখানো হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময়ে ছবিটা দেখেই বেঞ্চ অভিযুক্তদের ‘যুক্তি’ মেনে নেয়। মহিলাদের বেঞ্চ জানায়, ওই মহিলাই যে সে দিন পানশালায় গোটা বিষয়টি সাজিয়ে তোলেননি— এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অভিযুক্তদের সমর্থনে আরও যুক্তি দিয়ে তাঁরা বলেছিলেন, ‘‘অভিযুক্তদের মধ্যে এক জনের ফোনে মহিলার নম্বরটি ‘ভাইকিং’ বলে সেভ করা ছিল। এই শব্দটি সাধারণত ‘পুরুষালি’ অর্থেই ব্যবহার হয়ে থাকে। এই সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তরুণীর আইনজীবী।

First published: March 14, 2019, 1:45 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर