বিদেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

ভালোবাসতেন ছেলের মতো, পোষ্য জলহস্তির হাতেই মৃত্যু আফ্রিকার বাসিন্দার

ভালোবাসতেন ছেলের মতো, পোষ্য জলহস্তির হাতেই মৃত্যু আফ্রিকার বাসিন্দার

হামফ্রে নামে ওই জলহস্তিটিকে মারিয়াস নিজের ছেলের মতো দেখতেন। তাকে খাওয়ানো, নিয়ে ঘুরে বেড়ানো- এ সবই ছিল তাঁর রোজকার কাজ

  • Share this:

#দক্ষিণ আফ্রিকা: কুকুর, বিড়াল, পাখি, খরগোশ- এমন পোষ্যের কথা শোনাই যায়। ঘোড়াও এই তালিকায় থাকে। কিন্তু কখনও শুনেছেন জলহস্তি কারও পোষ্য? হ্যাঁ, দক্ষিণ আফ্রিকার এক কৃষকের পোষ্য ছিল জলহস্তি। যার পিঠে চড়ে মাঝেমধ্যেই ঘুরে বেড়াতেন মারিয়াস এলস। শোনা যায়, অনেকে তাঁকে এ ভাবে জলহস্তিরটির পিঠে চেপে ঘুরে বেড়াতে নিষেধ করতেন। কিন্তু তিনি শুনতেন না। উল্টে সকলকে বোঝাতেন পশুটি খুবই ভাল। তাঁর সঙ্গী।

হামফ্রে নামে ওই জলহস্তিটিকে মারিয়াস নিজের ছেলের মতো দেখতেন। তাকে খাওয়ানো, নিয়ে ঘুরে বেড়ানো- এ সবই ছিল তাঁর রোজকার কাজ। যে পোষ্যকে তিনি এত ভালোবাসতেন, সেই পোষ্যর হাতেই মৃত্যু হল তাঁর। যাকে তিনি নিজের ছেলের মতো ভালোবাসতেন, সে-ই মেরে ফেলল তাঁকে।

জানা গিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি স্টেট প্রদেশে থাকতেন মারিয়াস। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মী। তাঁর সঙ্গেই থাকত তাঁর পোষ্য ছ'বছরের হামফ্রে, যাকে তিনি একদম বাচ্চা অবস্থায় নিজের কাছে নিয়ে এসেছিলেন এবং এত দিন ধরে বড় করেছেন। ক'দিন আগে হঠাৎ মারিয়াসের দেহ পাওয়া যায় ভাল নদীতে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, তাঁকে কেউ থাবা দিয়ে, টেনে আছড়ে, কামড়ে নদীতে ফেলে দেয়। তার পরই জানা যায়, হামফ্রের কথা। জানা যায়, হামফ্রেই মারিয়াসকে এ ভাবে মেরে নদীতে ফেলে দেয়।

মৃত্যুর অনেকদিন আগে Mirror-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারিয়াস জানিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে হামফ্রের বন্ডিং খুব ভাল। তাঁরা একসঙ্গে সাঁতার কাটেন। হামফ্রে যখন জলে ডুবে থাকেন, মারিয়াস তখন তাঁর পিঠে বসে থাকেন। দু'জনে একসঙ্গে ঘুরতে যান।

আফ্রিকায় জলহস্তিরা সব থেকে ভয়ঙ্কর প্রাণী। তার সঙ্গে বন্ধুত্ব সে কারণে প্রশ্নাতীত! কিন্তু সাংবাদিকদের প্রশ্নে মারিয়াস বলেছিলেন, '' এটা শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও হামফ্রে খুব ভাল। সবাই মনে করেন, শুধু কুকুর, বিড়াল বা গৃহপালিত পশুদের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে মানুষের,কিন্তু এটা ভুল। আমাদের যা সম্পর্ক, সেটা সকলে বুঝতে পারে না।''

অথচ সেই ছেলের মতো হামফ্রের হাতেই মৃত্যু হল মারিয়াসের। এক অ্যাম্বুলেন্স চালক জেফরি উইকস এ বিষয়ে জানান, চিকিৎসকরা মৃতদেহ পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, মারিয়াসের গায়ে প্রচুর ক্ষতচিহ্ন মিলেছে। কিন্তু ঠিক কতদিন দেহ নদীতে পড়েছিল, তা জানা যায়নি। নদীতে পড়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল না পরে, সে বিষয়েও কিছু জানা যায়নি।

মারিয়াসের মৃত্যুর পরই তাঁর পুরনো সব ভিডিও ভাইরাল হয়। যাতে দেখা যায়, দু'জনে ঘুরছেন, খেলা করছেন। কিন্তু আজ তা সবই স্মৃতি!

Published by: Rukmini Mazumder
First published: December 18, 2020, 8:52 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर