পশুদের হাড়ে দাগ কেটে কথোপকথন চালাত আদিম মানুষ, প্রমাণ দিলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা!

পশুদের হাড়ে দাগ কেটে কথোপকথন চালাত আদিম মানুষ, প্রমাণ দিলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা!
মিডল প্যালিওলিথিক এরা বা মধ্য প্রস্তরযুগের কিছু হাড়ের টুকরো আবিষ্কৃত হয়েছে ইজরায়েল থেকে।

মিডল প্যালিওলিথিক এরা বা মধ্য প্রস্তরযুগের কিছু হাড়ের টুকরো আবিষ্কৃত হয়েছে ইজরায়েল থেকে।

  • Share this:

# ইজরায়েল: মিডল প্যালিওলিথিক এরা বা মধ্য প্রস্তরযুগের কিছু হাড়ের টুকরো আবিষ্কৃত হয়েছে ইজরায়েল থেকে। দক্ষিণ ইজরায়েলের রামলা অঞ্চলে একটি উৎখনন থেকে এগুলো পাওয়া গিয়েছে। ছোট ছোট এই হাড়ের টুকরোতে ছ'খানা সমান্তরাল আঁচড়ের দাগ আছে। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকদের অনুমান এই দাগ খামোখা করা হয়নি। বাতাস বা অন্য কিছুর দ্বারাও হয়নি। এগুলো সম্ভবত প্রাচীন কোনও বার্তা, যা হাড়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। যদি এই অনুমান সত্যি হয়, তাহলে মেনে নিতে হবে যে এগুলো এশিয়ার লেভান্ট অঞ্চলে এবং প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রাচীনতম চিহ্ন।

বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন যে এই চিহ্নগুলো সম্ভবত কোনও ধর্মীয় অর্থ বহন করে। এই হাড়গুলো অরোক বা উরুস বলে এক জাতীয় গবাদি পশুর। প্যালিওলিথিক পর্যায়ে অর্থাৎ প্রস্তর যুগে এই জাতীয় গবাদি পশু দেখা যেত ইয়োরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে এখন এই গবাদি পশুর শ্রেণী বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। এই আবিষ্কারের কথা প্রকাশিত হয়েছে কোয়াটারনারি ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি পত্রিকায়। যেখানে বলা হয়েছে যে হাড়ের উপরে যে চিহ্নগুলো রয়েছে, সেগুলো মানুষেরই সৃষ্টি। এগুলো ডান হাত দিয়ে ছুঁচালো পাথরের তৈরি কোনও অস্ত্র দ্বারা সিঙ্গল স্ট্রোকে খোদাই করা হয়েছে।

ঐতিহাসিকরা আগে থেকেই এই বিশ্বাসের বশবর্তী ছিলেন যে বিভিন্ন প্রকার লিখিত চিহ্নের ব্যবহার মিডল প্যালিওলিথিক পর্যায় থেকেই শুরু হয়। এই আবিষ্কার তাঁদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় করে দিল। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে এই ধরনের খোদাই আসলে সেই প্রাচীন পর্যায়ের চিহ্ন ব্যবহারের দিকেই ইঙ্গিত করে। শুধু উরুস জাতীয় গবাদি পশুর হাড়ই বা কেন বেছে নেওয়া হল এই প্রশ্নের উত্তরে প্রত্নতাত্ত্বিকরা একটি তত্ত্ব খাড়া করেছেন। তাঁদের বক্তব্য সম্ভবত শিকারি গোষ্ঠীর মধ্যে এই জাতীয় পশুর গুরুত্ব অনেক বেশি ছিল, তাই এই কাজ করা হয়েছে।


হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ আর্কিওলজির তরফ থেকে ডক্টর ইয়সি জাইডনার বলেছেন যে রামলা অঞ্চলে সম্ভবত প্যালিওলিথিক শিকারিরা তাঁদের শিকার করা পশুদের ছাল ছাড়াত। অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিকরাও এটাও মনে করছেন যে হাড়ের উপরে খোদাই করা প্রত্যেকটি চিহ্নের মানে আলাদা আর এগুলো মোটেও মনের খেয়ালে করা কোনও কাটাকুটি নয়!

Published by:Piya Banerjee
First published: