মানবশরীরের ৭টি চক্রের মতো এই ভূপৃষ্ঠেও বিদ্যমান সাতটি শক্তিপুঞ্জ, জেনে নিন কোথায় রয়েছে এগুলি

মানবশরীরের ৭টি চক্রের মতো এই ভূপৃষ্ঠেও বিদ্যমান সাতটি শক্তিপুঞ্জ, জেনে নিন কোথায় রয়েছে এগুলি

knowledge all about earth chakra and body chakra mrj tc sps

মানবশরীরের সাত চক্রের মতো ভূপৃষ্ঠেও বিদ্যমান সাতটি শক্তিচক্র। এদের মধ্যে একটি যোগসূত্রও রয়েছে।

  • Share this:

কণ্ঠ চক্র, হৃদয় চক্র, স্যাকরাল চক্র-সহ মোট সাতটি চক্র রয়েছে মানবশরীরে। এগুলিই প্রাণী দেহের সমস্ত শক্তির উৎস। মানুষের মন, মস্তিষ্ক ও শরীরের মধ্যে সংযোগ সাধনকারী অঙ্গ। এই চক্রই নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের মনকে। দেয় কাঙ্ক্ষিত শান্তি। তবে মানবশরীরের এই সাত চক্রের মতো ভূপৃষ্ঠেও বিদ্যমান সাতটি শক্তিচক্র। এদের মধ্যে একটি যোগসূত্রও রয়েছে। এমনই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ নিয়ে বার বার বহু পুরাণ ও ধর্মীয় শাস্ত্রেও বিশদে আলোচনা করা হয়েছে।

হিন্দু শাস্ত্রে শরীরের চক্র নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। এই নিয়ে তন্ত্রবিদ্যাতেও একাধিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর সাধনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই এই চক্রগুলিকে জাগ্রত করা সম্ভব। আর একবার এই চক্র জাগ্রত হলে যাবতীয় রোগ, শোক, দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। শরীরের শক্তিচক্রের পাশাপাশি সম্প্রতি ভূপৃষ্ঠের চক্র নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর যেখানে যেখানে এই শক্তিপুঞ্জ রয়েছে, সেই এলাকাগুলি অত্যন্ত বিশেষ। এখানে গেলে এক পরলৌকিক শক্তি অনুভব করা যায়। পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হয় এই জায়গাগুলি। তবে এ নিয়ে তেমন কোনও তথ্য প্রমাণ মেলেনি। বেশিরভাগই অনুমানসাপেক্ষ বক্তব্য।

প্রথম চক্র তথা পৃথিবী চক্র আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত। মাউন্ট শাস্তা নামে এক পর্বতমালায় অবস্থিত এটি। দেখতে খানিকটা পদ্মফুলের মতো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে গেলে এক অদ্ভুত শান্তির পাশাপাশি নিজেকে সুরক্ষিত মনে হয়। অনেকেই এখানে কোনও এক অদৃশ্য আধ্যাত্মিক শক্তিকে অনুভব করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেরু ও বলিভিয়ার মাঝে তিতিকাকা নামে একটি হ্রদের মধ্যেই নাকি অবস্থিত দ্বিতীয় চক্র। এখানে গেলে মনে শান্তি পাওয়া যায়। বেশ কয়েক বছর আগে এই হ্রদ থেকে একটি প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষও খুঁজে পেয়েছিল প্রত্নতত্ত্ববিদরা। এই দ্বিতীয় চক্রটিকে স্যাকরাল চক্রও বলা হয়। স্থানীয়দের কথায়, এই ঝিলে না কি পুরুষ ও স্ত্রী শক্তির মিলন হয়।

একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত তৃতীয় চক্র। এই তৃতীয় চক্রের সঙ্গে মানবশরীরের উদরদেশের তথা পেটের মাঝামাঝি অবস্থিত চক্রের মিল পাওয়া যায়। এই জায়গাটি নিয়ে স্থানীয়দের মুখেও নানা কাহিনি শোনা যায়।

চতুর্থ চক্র তথা হৃদয় চক্র। এটি মানবশরীরের হৃদয় স্থানে অবস্থিত। মূলত শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখে এই চক্র। আর মনের মতোই চঞ্চল ও গতিশীল এটি। তাই বিশ্বের নানা জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে এই চতুর্থ চক্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ ইংল্যান্ডের গ্ল্যাস্টনবেরি এবং শ্যাফ্টসবেরিতে অবস্থিত এটি। এমনকি স্টোনহেঞ্জ এলাকাতেও ছড়িয়ে রয়েছে এই হৃদয় চক্র।

পঞ্চম চক্র। একে কণ্ঠ চক্র বলা হয়। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, এটি মানবশরীরের গলার মাঝামাঝি জায়গায় থাকে। পৃথিবীতেও এই পঞ্চম চক্রের অস্তিত্ব রয়েছে। জানা গিয়েছে, ইজরায়েলে রয়েছে এই পঞ্চম চক্র। তবে ইজরায়েলের জেরুজালেম ছাড়াও ইজিপ্টের মাউন্ট সিনাইতেও এই চক্রের হদিশ মেলে।

অনুমান করা হয়, ইংল্যান্ডের গ্ল্যাস্টনবেরি শহরে রয়েছে ষষ্ঠ চক্র। শরীরে দুই চোখের মাঝে অর্থাৎ মাথার সামনের দিকে ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থিত এই চক্র। একাধিক পুরাণ ও আধ্যাত্মিক তত্ত্ব মতে, প্রায়শই নিজের জায়গা বদল করতে থাকে এই ষষ্ঠ চক্র। কারণ সব সময়ে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে এটি।

সপ্তম তথা অন্তিম চক্র রয়েছে তিব্বতের কৈলাস পর্বতে। এই জায়গাটিরও এক বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। জায়গাটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেন বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে আধ্যাত্মিক জগতের মানুষজন। পুরাণেও তিব্বতে অবস্থিত কৈলাসের কথা বলা হয়েছে। অনেকের বিশ্বাস, কৈলাসের সঙ্গে পরলৌকিক শক্তির এক নিগূঢ় সম্পর্কে রয়েছে। এজন্য স্থানীয়রা কৈলাসের একদম উঁচুতে যেতে পছন্দ করেন না। তাঁদের মতে, এই কাজের অর্থ হল পরলৌকিক শক্তিগুলির অবমাননা করা। অধিকাংশ সময় অন্যান্য পর্বতারোহীদেরও কৈলাসের চূড়ায় যেতে বাধা দেন তাঁরা।

First published:
0