করোনা ঠেকাতে জাপানে বসছে ভেন্ডিং মেশিন, বাড়ছে PCR টেস্টের সংখ্যা!

করোনা ঠেকাতে জাপানে বসছে ভেন্ডিং মেশিন, বাড়ছে PCR টেস্টের সংখ্যা!

জাপানে বসছে ভেন্ডিং মেশিন, বাড়ছে PCR টেস্টের সংখ্যা!

এই ভেন্ডিং মেশিন যে কেউ ব্যবহার করতে পারে এবং যে কেউ সেখান থেকে টেস্টিং কিট বের করে নমুনা সংগ্রহ করতে পারে।

  • Share this:

#টোকিও: করোনার প্রথম ধাক্কা সামলে নিলেও অনেক দেশেই সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে। ফলে লকডাউন, কারফিউ-সহ একাধিক পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশের প্রশাসন। বিধি-নিষেধ জারি হয়েছে আন্তর্জাতিক বিমানেও। এই পরিস্থিতিতে যে সকল দেশে এখনও সেকেন্ড ওয়েভ চালু হয়নি সেখানারকার প্রশাসনও বাড়তি সচেতনা মেনে চলছে যাতে এই দ্বিতীয় ঝড় এড়িয়ে যাওয়া যায়।

ভারত, ইংল্যান্ড, আমেরিকা-সহ একাধিক দেশের পাশাপাশি করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে জাপানে। এ দেশে টেস্টিংয়ের সংখ্যা কম হওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। যার মধ্যে টোকিওতে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বেশি।

এ দেশের সরকারি হাসপাতালে প্রতি দিন মাত্র ৪০ হাজার PCR টেস্ট হচ্ছে। যা মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশও নয়। ফলে কে আক্রান্ত, কার উপসর্গ আছে, কে-ই বা সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত তা বোঝা যাচ্ছে না। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নয়া পদক্ষেপ করেছে এক সংগঠন।

ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে PCR টেস্টিং কিটের ব্যবস্থা করেছে তারা। এই ভেন্ডিং মেশিন যে কেউ ব্যবহার করতে পারে এবং যে কেউ সেখান থেকে টেস্টিং কিট বের করে নমুনা সংগ্রহ করতে পারে।

আপাতত টোকিওর বেশ কয়েকটি জায়গায় এই মেশিন বসানো হয়েছে। যাতে টেস্টিংয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সরকারি বা বেসরকারি কোনও হাসপাতালে গিয়ে লাইন দিয়ে বা ভিড়ে দাঁড়িয়ে টেস্ট করার ঝক্কি পোহাতে হবে না। এবং এই দ্রুত এত সংখ্যক টেস্টিংয়ের ফলে যে কেউ নিজেদের আগে থেকে কোয়ারান্টিন করে ফেলতে পারবে। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে না।

এ বিষয়ে Laketown Takenoko Ear Nose and Throat Clinic-এর ডিরেক্টর হিদেকি তাকেমুরা জানান, ভেন্ডিং মেশিন লাগানোর সঙ্গে সঙ্গেই মানুষের ভালো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। কারণ এতে ভিড় এড়ানো যাচ্ছে। ফলে একজনের থেকে আরেকজনের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম থাকছে। তিনি বলেন, আপাতত সাতটি মেশিল গ্রেটার টোকিও এলাকায় বসানো হয়েছে।

তাকেমুরা সংবাদ সংস্থা Reuters-কে জানান, জাপানে খুবই কম PCR টেস্ট হচ্ছিল। এই টেস্ট ছাড়া কখনওই জানা সম্ভব নয়, একজন আক্রান্ত কি না। ফলে আমাদের মনে হয়, এই টেস্টিংয়ের সংখ্যা বাড়ানো উচিৎ। আমরা তাই এই পদক্ষেপ করি।

প্রত্যেকটি ভেন্ডিং মেশিনে ৬০টি করে টেস্টিং কিট রয়েছে। যা ৪,৫০০ ইয়েনে বিক্রি হচ্ছে। পরে তাকেমুরা জানান, একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে আমার কাছে এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের। কারণ এর ফলে সংক্রমিতকে চিহ্নিত করা যাবে ও সংক্রমণের সংখ্যাও কমবে।

একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের মতে, জাপানে ৪.১ মিলিয়ন ভেন্ডিং মেশিন তৈরি হচ্ছে। যা টেস্টিংয়ে কাজে লাগবে।

First published: