মানবিক জাপান ! চাকরিজীবীদের জন্য অভিনব সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

টোকিওর মেট্রোতে এভাবেই অফিস যান যাত্রীরা

দেশের চাকরিজীবী মানুষের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী ইওশিদে সুগার সরকার। জাপান সরকার কর্মদিবস সপ্তাহে পাঁচ দিনের পরিবর্তে চার দিন করার প্রস্তাব দিয়েছে

  • Share this:

    #টোকিও: নিজেদের দেশে টোকিও অলিম্পিকস অনুষ্ঠিত হোক চান না জাপানিরা। করোনা সংক্রমণে জাপান ভাল কাজ করলেও, দেশে আবার মাথাচাড়া দিয়েছে ভাইরাস। এর মধ্যে অলিম্পিকের মতো বিশ্ব পর্যায়ের মাল্টি স্পোর্টস ইভেন্ট আয়োজন করা মানে দেশের মানুষকে আরও বিপদে ফেলা। পাশাপাশি দেশের চাকরিজীবী মানুষের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী ইওশিদে সুগার সরকার। জাপান সরকার কর্মদিবস সপ্তাহে পাঁচ দিনের পরিবর্তে চার দিন করার প্রস্তাব দিয়েছেদেশের চাকরিজীবী মানুষের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী ইওশিদে সুগার সরকার। জাপান সরকার কর্মদিবস সপ্তাহে পাঁচ দিনের পরিবর্তে চার দিন করার প্রস্তাব দিয়েছে।

    মূলত চাকরি ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য জাপান সরকার নতুন এ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রস্তাব গৃহীত হলে দেশটিতে তিন দিন ছুটি থাকবে। সম্প্রতি প্রকাশিত জাপানের বার্ষিক অর্থনৈতিক নীতি-নির্দেশিকায় নতুন এ সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে সপ্তাহে গতানুগতিক পাঁচ দিনের পরিবর্তে কর্মীদের চার দিন কাজের সুযোগ দিতে সংস্থাগুলোকে অনুমতি দিতে বলা হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারি এর মধ্যে জাপানি করপোরেট অফিসগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।

    মহামারির সংকট শেষ হওয়ার পরেও নিয়োগকারীরা কর্মীদের নমনীয় কাজের সময়, বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ, ক্রমবর্ধমান আন্তসংযোগ এবং অন্যান্য উন্নয়নের সুবিধা দেবেন সে বিষয়ে দেশটির রাজনৈতিক নেতারা আশাবাদী। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কর্মদিবস চার দিন হলে প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষম ও অভিজ্ঞ কর্মীদের ধরে রাখতে পারবে। পরিবার বা বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের দেখাশোনা করার জন্যে কাউকে তখন চাকরির সঙ্গে সমঝোতা করা লাগবে না বা চাকরি ছেড়ে দিতে হবে না।

    তাছাড়া সপ্তাহে ৪ দিনের কাজ থাকলে মানুষ তাদের পড়াশোনা কিংবা অন্যান্য যোগ্যতা বৃদ্ধিতে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবে। অনেকেই বর্ধিত সময়ে পার্ট টাইম চাকরিও করতে পারবে। এতে করে প্রকৃতপক্ষে কর্মদক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে জাপানে। কর্তৃপক্ষের মতে, সপ্তাহে একদিন অতিরিক্ত ছুটি পেলে মানুষ অবকাশ যাপনের জন্য সময় বেশি পাবে, নিজেদের মতো করে বাইরে খরচ করবে, যা দেশের অর্থনীতিকেই চাঙা করে তুলবে। বাড়তি ছুটিতে কেউ চাইলে নিজের ইচ্ছেমতো অন্যকোনো কাজেও যুক্ত হতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবে দেশের সাধারণ জনগণ খুশি। এমনিতে জাপানের সময় জ্ঞান এবং নিয়মানুবর্তিতা পৃথিবীর অন্যতম সেরা।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: