অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গমের জরিমানা, আদালতের রায়ে মহিলার স্বামীকে ৭০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হলেন আরেক মহিলা!

অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গমের জরিমানা, আদালতের রায়ে মহিলার স্বামীকে ৭০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হলেন আরেক মহিলা!

এক ব্যক্তি আদালতে মামলা দায়ের করেন যে জনৈক মহিলার সঙ্গে তাঁর স্ত্রী’র শারীরিক সম্পর্ক আছে।

  • Share this:

#টোকিও: জরিমানা কেন আদায় করা হল, তা নিয়ে খুব যুক্তিসঙ্গত ভাবেই দু'টি প্রশ্ন উঠছে। এ কি আদতে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার খেসারত? নাকি সমলিঙ্গের সম্পর্ক আইনি স্বীকৃতি এখনও পর্যন্ত পায়নি বলে জরিমানা দিতে হল?

যদি দ্বিতীয়টি হত, তাহলে বিবাহিতা মহিলাকেও সম্ভবত দোষী সাব্যস্ত করত আদালত। কিন্তু সম্প্রতি জাপানের টোকিও ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট যে রায় দিয়েছে তা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জরিমানার দিকেই ইঙ্গিত করে।

জানা গিয়েছেন যে সম্প্রতি এই ঘটনাটি ঘটেছে টোকিওতে। এক ব্যক্তি আদালতে মামলা দায়ের করেন যে জনৈক মহিলার সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক আছে। তিনি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে প্ররোচণা দেওয়ার জন্য ওই মহিলাকে কাঠগড়ায় তোলেন। আদালতে অবশ্য অভিযুক্ত মহিলা ওই ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শারীরিক সম্পর্কের কথা এড়িয়ে যাননি। তাঁর বক্তব্য ছিল যে তিনি কোনও ভাবে ওই ব্যক্তির সংসার ভাঙার জন্য দায়ী নন, তাহলে তাঁকে কেন জরিমানা দিতে হবে?

এটা ঠিক যে ওই বিবাহিতা মহিলাও স্বামীর সঙ্গেই আছেন, তাঁরা বিবাহবিচ্ছেদের পথে যাচ্ছেন না। কিন্তু আদালত অভিযোগকারীর পক্ষেই রায় দেয়। জানায় যে সংসার ভাঙুক বা না ভাঙুক, আদতে বিষয়টি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, তাই জরিমানা দিতে পারে। সেই অনুযায়ী ওই মহিলাকে, ১,১০০,০০০ ইয়েন, ভারতীয় মুদ্রায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে।

তবে এটাই প্রথম নয়, এর আগেও দুই নারীর সম্পর্ক জাপানের আদালতে উঠেছে। সে বার এক নারী অভিযোগ করেছিলেন যে সঙ্গিনী তাঁকে ঠকাচ্ছেন। আদালত রায় দেয় যে যখন তাঁরা একসঙ্গে আছেন, তখন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের নিয়ম তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। সেই মতো এক মহিলা অন্যজনকে জরিমানা দিতে বাধ্য হন।

যদিও জাপান এখনও সমকামী সম্পর্ক বা বিবাহকে আইনিত স্বীকৃতি দেয়নি। সম্প্রতি এই নিয়ে দেশের এক আদালত রায় দিয়েছে যে এই সম্পর্ক অসাংবিধানিক। দেশের মানুষের মনোভাব বদলাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে ৬৫ শতাংশ জনতা আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।

Published by:Simli Raha
First published: