পকেটে থাকতে হবে স্রেফ ৯০ টাকা; পাহাড়-সমুদ্রে ঘেরা আস্ত একটা বাড়ি কিনে ফেলা যাবে !

পকেটে থাকতে হবে স্রেফ ৯০ টাকা; পাহাড়-সমুদ্রে ঘেরা আস্ত একটা বাড়ি কিনে ফেলা যাবে !

পকেটে থাকতে হবে স্রেফ ৯০ টাকা; পাহাড়-সমুদ্রে ঘেরা ইতালির গ্রামে কিনে ফেলা যাবে আস্ত একটা বাড়ি!

পাহাড় আর সমুদ্র দিয়ে মোড়া গ্রামটি! গ্রামের মোট ৯০০টি বাড়ি সেখানে ফাঁকা পড়ে রয়েছে । যে গুলির দাম মাত্র ৯০ টাকা ।

  • Share this:

#সিসিলি: আমাদের এই গ্রামের নামটি কাস্তিগ্লিওনে দি সিসিলিয়া (Castiglione di Sicilia) আর আমাদের এই নদীর নামটি? উঁহু, নদীর অবশ্য এখানে দেখা মিলবে না। তবে সব নদী শেষ পর্যন্ত যেখানে গিয়ে মেশে, দেখা মিলবে সেই সাগরের। পাহাড় আর সমুদ্র দিয়ে মোড়া গ্রামটি! মেয়রের নামও জানে গাঁয়ের পাঁচজনে- আন্তোনিও কামার্দা (Antonino Camarda)! আর তিনিই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে গ্রামের মোট ৯০০টি বাড়ি এ বার বিক্রি করে দেবেন। খুব বেশি পয়সা খরচের দরকার নেই, পকেটে মাত্র ১ ইউরো, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ৯০ টাকা মতো থাকলেই হল! তাহলেই ইতালির সিসিলির তাওরমিনার কাছে মাউন্ড এটনা পাহাড়ের কোলে কাস্তিগ্লিওনে দি সিসিলিয়া গ্রামে একখানা বাড়ির মালিক হতে পারবেন বিশ্বের যে কোনও দেশের নাগরিক!

তা, গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যদি এমনতরো নয়নমনোহর হয়, তবে এত বাড়ি ফাঁকা কেন পড়ে আছে সেখানে? কারণটা নেহাতই অর্থনৈতিক, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে তো আর পেট ভরে না। তাই এক সময়ে এই সব বাড়ির অধিবাসীরা সেই যে রওনা দিয়েছিলেন শহরের দিকে, তার পর আর ফিরে আসেননি। এই অবস্থা শুধু কাস্তিগ্লিওনে দি সিসিলিয়ার একার নয়, ইতালির অনেক গ্রামই এই লোক না থাকার সমস্যায় ধুঁকছে। এর আগেও ইতালির বেশ কিছু গ্রামে এই ভাবে বাড়ি বিক্রি হয়েছে। তবে কাস্তিগ্লিওনে দি সিসিলিয়া সংখ্যার অনুপাতে টেক্কা দিচ্ছে সবাইকে, ৯০০টা বাড়ি বিক্রি তো আর মুখের কথা নয়!

মেয়র আন্তোনিও কার্মাদা জানিয়েছেন- যে বাড়িগুলো একেবারে বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, সেগুলো স্রেফ ১ ইউরোর বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর যেগুলো সংস্কারসাধনের তেমন প্রয়োজন নেই, সেগুলোর জন্য দাম ধার্য করা হয়েছে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ইউরো, ভারতীয় মুদ্রায় ধরলে ৩.৬ লক্ষ থেকে ৪.৫ লক্ষ টাকা। এমন কিছু বেশি কিন্তু নয়, এই টাকায় বিদেশে বাড়ি করার সুবিধা পাওয়া যায় স্রেফ বরাতজোরে!

তবে, মেয়রের একটা শর্ত আছে। হাজার হোক, বাড়ি এমন জলের দরে ছেড়ে দেওয়ার কারণ তো অধিবাসীর সংখ্যা বাড়ানো। তাই তিনি জানিয়েছেন যে বাড়ি কিনে ফেলে রেখে দিলে চলবে না, তার সংস্কারসাধনের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে, সেই সঙ্গে স্থানীয় ব্যাঙ্ক থেকে একটা ৪ হাজার ইউরোর বিমাও কিনতে হবে। ১৯০০ সালেও গ্রামের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার, এখন এসে ঠেকেছে ৩ হাজারে- এটুকু তো মেয়র চাইবেনই!

Published by:Simli Raha
First published: