Iran Dating App: বিয়ে থেকে প্রজনন, ইরানে এবার সব কিছুর দায়িত্ব নেবে সরকারি ডেটিং অ্যাপ হামদম!

Photo Courtesy: AFP

Iran unveils Islamic dating app: ইরানে লঞ্চ করা হল বিশ্বের প্রথম সরকার দ্বারা স্বীকৃত এবং সরকারি উদ্যোগে তৈরি ডেটিং অ্যাপ হামদম (Hamdam)।

  • Share this:

#তেহরান: যে কোনও সভ্যতা তথা দেশের সব চেয়ে বড় শক্তি হল তার জনসংখ্যা। বহির্সভ্যতার আগ্রাসন থেকে নিজেদের সংস্কৃতিকে বাঁচাতে জনসংখ্যাই একমাত্র কাজে আসে। এই ব্যাপারে সম্প্রতি কিছুটা হলেও সমস্যায় পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলাম ধর্মাবলম্বী দেশ ইরান। ওই দেশের তেবিয়ান কালচারাল ইনস্টিটিউটের (Tebyan Cultural Institute) প্রধান কোমেইল কোজাস্তেহ (Komeil Khojasteh) যেমন জানিয়েছেন যে দেশের সংস্কৃতি যেন শয়তানের বিষদৃষ্টিতে পড়েছে! বিয়ে নামের প্রতিষ্ঠানটিকে আর ততটা গুরুত্ব দেয় না দেশের যুবসম্প্রদায়, ঘন ঘন বিয়ে ভাঙতেও দেখা যায়। সেই সঙ্গে দেশে বেড়েছে গর্ভপাতের সংখ্যা, সন্তানের দায়িত্ব নিতেও অনেক পরিবার আর ইচ্ছুক নয়। রাষ্ট্রীয় সমস্যার মোকাবিলায় এবার পদক্ষেপ হল সরকারের তরফেই, ইরানে লঞ্চ করা হল বিশ্বের প্রথম সরকার দ্বারা স্বীকৃত এবং সরকারি উদ্যোগে তৈরি ডেটিং অ্যাপ হামদম (Hamdam)।

এই প্রসঙ্গে ইরানে ঘটে যাওয়া কিছু কাল আগের এক আইনি পদক্ষেপের উল্লেখ প্রয়োজন। গর্ভপাত, বিবাহবিচ্ছেদ রোধ করে পরিবারের মূল স্রোত তথা ইসলামের আদর্শে জনতাকে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশের রক্ষণশীল সম্প্রদায় পরিচালিত পার্লামেন্ট চলতি বছরের মার্চ মাসে এক বিল পাস করতে চেয়েছিল। এই বিল গর্ভপাতের অধিকারকে সীমাবদ্ধ করতে চেয়েছিল, সেই সঙ্গে জনতার পক্ষে দুইয়ের বেশি সন্তানের জন্ম দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে চেয়েছিল। এই বিল এখনও আইনে পরিণত হয়নি, তা গার্ডিয়ান কাউন্সিলের (Guardian Council) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, কাউন্সিল দেখতে চায় প্রস্তাব কতটা মুসলিম নৈতিকতা এবং সংবিধানকে মান্য করছে! কিন্তু সেই বিল পাস হওয়ার আগেই সরকারের তরফে ডেটিং অ্যাপ নিয়ে আসা একপ্রকার জনতার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

কেন না, আর পাঁচটা ডেটিং অ্যাপের সঙ্গে হামদমের বেশ বড়সড় এক প্রভেদ আছে। অন্য ডেটিং অ্যাপ থেকে সম্পর্ক বিয়ের দিকে এগোলেও এগোতে পারে, কিন্তু হামদমের উদ্দেশ্যই হল ইউজারের বিয়ে দেওয়া! এই প্রসঙ্গে ইরানের সাইবারস্পেস পুলিশ প্রধান কলোনেল আলি মহম্মদ রাজাবি (Colonel Ali Mohammad Rajabi) জানিয়েছেন যে ইউজারদের এই অ্যাপে নিজেদের পরিচয় নথিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক, পাশাপাশি একটি সাইকোলজিক্যাল টেস্টেও উত্তীর্ণ হতে হবে। এর পর যখন এক ইউজারের সঙ্গে অন্যের আলাপ হবে, তখন তাঁদের পরিবারের কাছে ঘটনা তুলে ধরবে সরকার, এই সময় থেকেই ওই দুই ইউজারের সঙ্গে যুক্ত হবেন সরকারি সার্ভিস কনসালট্যান্ট। বিয়ের পরেও চার বছর পর্যন্ত তিনি যোগাযোগ রাখবেন ওই দুই পরিবারের সঙ্গে।

বলা বাহুল্য, যাঁরা নির্ঝঞ্ঝাট ডেটিংয়ের আনন্দ উপভোগ করতে চান, হামদম তাঁদের লক্ষ্য পূরণ করবে না। সেই জায়গা থেকে ইরানের যুবসম্প্রদায়ের কাছে আদৌ জনপ্রিয় হবে কি না এই সরকারি ডেটিং অ্যাপ, তা আপাতত সন্দেহের বিষয়!

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: